০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home ভারতবর্ষ ‘দিদি মরেছে প্রমাণ কর…’, টাকা তুলতে কবর খুঁড়ে কঙ্কাল নিয়ে ব্যাঙ্কে হাজির ভাই!
ভারতবর্ষ

‘দিদি মরেছে প্রমাণ কর…’, টাকা তুলতে কবর খুঁড়ে কঙ্কাল নিয়ে ব্যাঙ্কে হাজির ভাই!

Share
‘দিদি মরেছে প্রমাণ কর...’, টাকা তুলতে কবর খুঁড়ে কঙ্কাল নিয়ে ব্যাঙ্কে হাজির ভাই!
সংগৃহীত
Share

ভুবনেশ্বর: আমলাতান্ত্রিক জটিলতা আর ব্যাঙ্ক কর্মীদের সংবেদনহীনতা কোন পর্যায়ে পৌঁছতে পারে, তার এক চরম ও মর্মান্তিক নিদর্শন চাক্ষুষ করল ওড়িশা। মৃত দিদির জমানো মাত্র ২০ হাজার টাকা তুলতে গিয়ে চূড়ান্ত হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে ভাইকে। বারবার বলা সত্ত্বেও ব্যাঙ্ক বিশ্বাস করেনি যে দিদি আর বেঁচে নেই। শেষে চরম ক্ষোভ ও অভিমানে দিদির কবর খুঁড়ে কঙ্কাল বের করে ব্যাঙ্কের ভিতর ঢুকে পড়লেন ভাই!

[TECHTARANGA-POST:8491]

শিউরে ওঠার মতো এই ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার ওড়িশার কেওনঝড় জেলার পাটনা ব্লকের মালিপোসি এলাকায়। জনজাতি সম্প্রদায়ের দিয়ানালি গ্রামের বাসিন্দা জিতু মুণ্ডা (৫০) নামের এক নিরক্ষর ব্যক্তি ওড়িশা গ্রাম্য ব্যাঙ্কের স্থানীয় শাখায় এই কঙ্কাল নিয়ে উপস্থিত হন।

[TECHTARANGA-POST:8488]

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জিতুর দিদি কালরা মুণ্ডা (৫৬) প্রায় দু’মাস আগে মারা যান। অভাবের সংসারে জীবন কাটানো কালরাদেবী গরু বিক্রি করে নিজের অ্যাকাউন্টে ২০ হাজার টাকা জমিয়েছিলেন। অভাবের তাড়নায় সেই জমানো সম্বলটুকু উদ্ধার করতে কয়েক দিন আগে ব্যাঙ্কে গিয়েছিলেন জিতু। অভিযোগ, নিরক্ষর জিতু ডেথ সার্টিফিকেট বা নমিনির জটিল নথি সংগ্রহ করতে পারেননি। জিতুর দাবি, ব্যাঙ্কের কর্মীরা তাঁকে সাফ জানিয়ে দেন, টাকা তুলতে হলে অ্যাকাউন্ট হোল্ডারকে সশরীরে হাজির হতে হবে। জিতু বারবার দিদির মৃত্যুর কথা বললেও তাতে কেউ কর্ণপাত করেননি।

[TECHTARANGA-POST:8489]

দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ায় জেদের বশে সোমবার দিদির কবরে গিয়ে মাটি খুঁড়তে শুরু করেন জিতু। দু’মাস আগের সমাধিস্থ দেহ ততদিনে কঙ্কালে পরিণত হয়েছে। সেই কঙ্কাল কাপড়ে জড়িয়ে তিনি সরাসরি ব্যাঙ্কের কাউন্টারে হাজির হন। এই দৃশ্য দেখে ব্যাঙ্কের কর্মী ও গ্রাহকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

[TECHTARANGA-POST:8486]

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পাটনা থানার পুলিশ। আইসি কিরণ প্রসাদ সাহু এসে জিতুকে শান্ত করেন এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করেন। স্থানীয় বিডিও মানস দণ্ডপাত জানিয়েছেন, জিতু মুণ্ডার হাতে দ্রুত টাকা তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আপাতত পুলিশের উপস্থিতিতে ওই কঙ্কালটি পুনরায় কবর দেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, কালরা মুণ্ডার অ্যাকাউন্টে যিনি নমিনি ছিলেন তিনিও মারা গিয়েছেন, ফলে আইনি জটিলতা আরও বেড়েছিল। তবে, এই ঘটনা ডিজিট্যাল ভারতের যুগেও প্রান্তিক মানুষের অসহায়তা ও প্রশাসনিক উদাসীনতার এক কদর্য ছবি সামনে নিয়ে এল!

#HiddenStoriesNews, #OdishaNews, #HumanRights, #TribalRights, #OdishaGramyaBank, #SocialJustice, #DigitalIndiaReality, #BreakingNews, #PovertyInIndia, #SkeletonInBank

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *