০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home টেক আঙুলের ডগায় গণতন্ত্রের চিহ্ন! কেন সহজে মোছা যায় না নির্বাচনের কালি? জানুন এর নেপথ্যের বিজ্ঞান!
টেক

আঙুলের ডগায় গণতন্ত্রের চিহ্ন! কেন সহজে মোছা যায় না নির্বাচনের কালি? জানুন এর নেপথ্যের বিজ্ঞান!

Share
আঙুলের ডগায় গণতন্ত্রের চিহ্ন! কেন সহজে মোছা যায় না নির্বাচনের কালি? জানুন এর নেপথ্যের বিজ্ঞান!
সংগৃহীত
Share

কলকাতা: ভোট দেওয়া হয়ে গেলে আঙুলের নখ ও চামড়ায় যে নীলচে বেগুনি রঙের কালির দাগ দেওয়া হয়, তা গণতন্ত্রের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু, কখনও ভেবে দেখেছেন কি, সাবান, তেল বা থিনার দিয়ে ঘষলেও কেন এই কালি সহজে ওঠে না? কেন এটি দিনের পর দিন আঙুলের প্রায় ডগায় উজ্জ্বল হয়ে থাকে? 

[TECHTARANGA-POST:8537]

এর রহস্য লুকিয়ে রয়েছে এক বিশেষ রাসায়নিক বিক্রিয়ায়। এই কালিকে বলা হয় ‘ইনডেলিবল ইঙ্ক’ (Indelible Ink) বা অমলিন কালি। এর প্রধান উপাদান হল সিলভার নাইট্রেট। যখন এই কালি আঙুলের চামড়ায় লাগানো হয়, তখন এটি আমাদের ত্বকের স্বাভাবিক ঘাম এবং লবণের সঙ্গে বিক্রিয়া করে সিলভার ক্লোরাইড তৈরি করে। এই সিলভার ক্লোরাইড জলে দ্রবীভূত হয় না এবং ত্বকের প্রোটিনের সঙ্গে দৃঢ়ভাবে আটকে যায়।

[TECHTARANGA-POST:8539]

কালিটি লাগানোর সঙ্গে-সঙ্গেই এটি ত্বকের উপর একটি কালচে বা ঘন নীলাভ-বেগুনি আস্তরণ তৈরি করে। একবার এই রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে গেলে, কোনও ডিটারজেন্ট বা কেমিক্যাল দিয়ে তা তোলা সম্ভব হয় না। এই দাগ তখনই মুছে যায় যখন ত্বকের পুরনো কোষগুলি প্রাকৃতিকভাবে ঝরে গিয়ে নতুন কোষ জন্মায়। সাধারণত এটি কয়েক সপ্তাহ থেকে এক মাস পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। ভারতে এই বিশেষ কালি তৈরির একমাত্র অধিকার রয়েছে মহীশূরের ‘মহীশূর পেন্টস অ্যান্ড ভার্নিশ লিমিটেড’ (MPVL) নামক সংস্থার। 

[TECHTARANGA-POST:8535]

১৯৪৫ সালে মহীশূরের মহারাজা কৃষ্ণরাজা ওয়াদিয়ার এই সংস্থাটি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৬২ সালের সাধারণ নির্বাচন থেকে ভারতে এই কালির ব্যবহার শুরু হয়। বর্তমানে ভারত থেকে বিশ্বের অন্তত ২৫টি দেশে এই কালি রপ্তানি করা হয়! ভোটের লাইনে জালিয়াতি রুখতে এবং একজন ব্যক্তি যাতে একবারই ভোট দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করতেই এই অমোঘ কালির ব্যবহার! আঙুলের ওই এক ফোঁটা কালিই বলে দেয় নাগরিক হিসাবে আপনার দায়িত্ব পালনের কথা!

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *