দুবাই: বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের দামামা আর তেলের বাজারে চরম অস্থিরতার মাঝেই এক অভাবনীয় সিদ্ধান্ত নিল সংযুক্ত আরব আমিরশাহী (UAE)। ১ মে থেকে তেল উৎপাদনকারী দেশগুলির শক্তিশালী গোষ্ঠী OPEC এবং OPEC+ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা করল তারা। আমিরশাহীর এই পদক্ষেপে বিশ্ব রাজনীতি এবং তেলের বাজারে বড়সড় সুনামি আসতে চলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
[TECHTARANGA-POST:8607]
১৯৬০ সালে গঠিত OPEC গোষ্ঠীর অন্যতম স্তম্ভ ছিল আমিরশাহী। সারাবিশ্বে অশোধিত তেলের মোট উৎপাদনের প্রায় ১২ শতাংশই আসে এই দেশ থেকে। এতদিন OPEC-এর বেঁধে দেওয়া নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি তেল উৎপাদন বা রফতানি করতে পারত না তারা। কিন্তু, আমিরশাহীর লক্ষ্য ২০২৭ সালের মধ্যে প্রতিদিন ৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল উৎপাদন করা। নিজেদের এই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা সফল করতেই গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ থেকে বেরিয়ে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পথে হাঁটল দুবাই।
[TECHTARANGA-POST:8606]
ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালীতে যখন তেলের সাপ্লাই নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে, ঠিক সেই সময়েই এই বিচ্ছেদ OPEC-এর জন্য বড় ধাক্কা। সৌদি আরব এবং রাশিয়ার মতো দেশগুলি যখন জোগান কমিয়ে তেলের দাম চড়া রাখতে চাইছে, তখন আমিরশাহী চাইছে উৎপাদন বাড়িয়ে বাজার দখল করতে এবং বেশি রাজস্ব আদায় করতে।
[TECHTARANGA-POST:8604]
বিশ্বের অন্যতম তেল আমদানিকারী দেশ হিসাবে ভারতের জন্য এই খবরটি একই সাথে স্বস্তি এবং উদ্বেগের। কারণ, একদিকে – আমিরশাহীর এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা বাড়লে সাময়িকভাবে তেলের দাম চড়তে পারে। যার প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের পকেটে। অন্যদিকে – দীর্ঘমেয়াদে যদি আমিরশাহী স্বাধীনভাবে উৎপাদন বাড়িয়ে বিশ্ববাজারে তেলের জোগান বাড়িয়ে দেয়, তাহলে তেলের দাম অনেকটাই কমতে পারে। এর ফলে ভারতের আমদানি খরচ কমবে এবং জিনিসপত্রের দামও নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে।
[TECHTARANGA-POST:8602]
সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর এই সিদ্ধান্ত কি তেল উৎপাদনকারী দেশগুলির জোটে ফাটল ধরাবে? নাকি ভারত-সহ উন্নয়নশীল দেশগুলির জন্য জ্বালানি সস্তা হওয়ার পথ প্রশস্ত করবে? উত্তর লুকিয়ে আছে ভবিষ্যতের গর্ভেই।
Leave a comment