০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home ভারতবর্ষ শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সন্তানকে বাঁচাতে লড়াই মায়ের, নৌকাডুবিতে মা-ছেলের নিথর দেহ দেখে চোখের জল মন্ত্রীরও
ভারতবর্ষ

শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সন্তানকে বাঁচাতে লড়াই মায়ের, নৌকাডুবিতে মা-ছেলের নিথর দেহ দেখে চোখের জল মন্ত্রীরও

Share
শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সন্তানকে বাঁচাতে লড়াই মায়ের, নৌকাডুবিতে মা-ছেলের নিথর দেহ দেখে চোখের জল মন্ত্রীরও
AI GENERATED PICTURE
Share

মৃত্যুর কোল থেকে একরত্তি সন্তানকে ফিরিয়ে আনতে শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়েছিলেন মা। কিন্তু ভাগ্যের নিষ্ঠুর পরিহাসে হার মানতে হলো দু’জনকেই। মধ্যপ্রদেশের জব্বলপুরে নর্মদা জলাধারে মর্মান্তিক নৌকাডুবির ঘটনায় এখন শোকস্তব্ধ গোটা দেশ। উদ্ধারের পর যখন মা ও তাঁর চার বছরের ছেলের নিথর দেহ জল থেকে তোলা হলো, দেখা গেল নিজের লাইফ জ্যাকেটের ভেতরেই সন্তানকে পরম মমতায় জাপ্টে ধরে রেখেছেন মা। জীবনের শেষ মুহূর্তেও নাড়ি ছেঁড়া ধনকে আগলে রাখার এই হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখে ঘটনাস্থলে কান্নায় ভেঙে পড়লেন মধ্যপ্রদেশের মন্ত্রী রাকেশ সিং।

[TECHTARANGA-POST:8643]

বৃহস্পতিবার বিকেলের সেই প্রমোদভ্রমণ আচমকাই দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়। গভীর জলাধারের মাঝপথে পৌঁছানোর পর তীব্র ঝোড়ো হাওয়ার দাপটে ভারসাম্য হারিয়ে উল্টে যায় পর্যটকবোঝাই নৌকাটি। রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী রাতভর তল্লাশি চালিয়ে এখনও পর্যন্ত ৯ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে। তার মধ্যেই এই মা ও ছেলের একে অপরকে আঁকড়ে ধরে থাকা দেহ দুটি উদ্ধারকারীদেরও বাকরুদ্ধ করে দিয়েছে। উপস্থিত পর্যটক ও উদ্ধারকর্মীরা জানান, মা তাঁর জীবন দিয়ে হলেও সন্তানকে ডোবা থেকে বাঁচাতে চেয়েছিলেন, কিন্তু প্রকৃতির তাণ্ডবের সামনে সেই লড়াই ব্যর্থ হয়।

[TECHTARANGA-POST:8617]

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারকে সব ধরনের সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব। তবে পর্যটন ব্যবস্থার ত্রুটি নিয়ে ইতিমধ্যেই ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রমোদতরীটিতে পর্যটকদের সংখ্যার তুলনায় পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট ছিল না এবং নিরাপত্তার নিয়মাবলীও মানা হয়নি। এই গাফিলতির তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। একদিকে স্বজনহারাদের আর্তনাদ আর অন্যদিকে সন্তানের প্রতি মায়ের অসীম ভালোবাসার এই বিষাদময় আখ্যান আজ নর্মদার জল ছাপিয়ে কান্নার রোল তুলেছে জনমানসে।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *