কলকাতা: শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নজিরবিহীন তৎপরতা শুরু হয়ে গেল। ঘটনার মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে গঠন করা হয়েছে উচ্চপর্যায়ের স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম বা ‘সিট’ (SIT)। সিআইডি (CID) আইজির নেতৃত্বে এই বিশেষ তদন্তকারী দলে রাখা হয়েছে এসটিএফ (STF), সিআইডি এবং আইবি-র দাপুটে আধিকারিকদের।
[TECHTARANGA-POST:8846]
তদন্তভার হাতে নিয়েই ‘সিট’-এর আধিকারিকরা মনে করছেন, এই খুন কোনও সাধারণ অপরাধীদের কাজ নয়। ভিনরাজ্য থেকে আনা ‘পেশাদার শার্প শ্যুটার’ দিয়েই নিখুঁত পরিকল্পনায় চন্দ্রনাথকে ঝাঁঝরা করা হয়েছে। খুনিদের নাগাল পেতে সিআইডির একটি দল ইতিমধ্যেই প্রতিবেশী রাজ্যের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। একইসঙ্গে আততায়ীরা বিমানে চম্পট দিয়েছে কিনা, তা নিশ্চিত করতে বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজ তন্নতন্ন করে খুঁটিয়ে দেখছেন সিট-এর গোয়েন্দারা।
[TECHTARANGA-POST:8838]
তদন্তে উঠে এসেছে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গিয়েছে, অন্তত গত এক সপ্তাহ ধরে চন্দ্রনাথ রথের উপর কড়া নজরদারি চালিয়েছিল আততায়ীরা। তাঁর গতিবিধি এবং প্রতিদিনের রুটিন মুখস্থ করার পরই হামলার ছক কষা হয়! এছাড়া, এই অপারেশনে যে গাড়ি ব্যবহার করা হয়েছিল, তার নাম্বার প্লেটটিও ভুয়ো। ‘সিট’-এর তরফে যোগাযোগ করা হলে দেখা যায়, ওই নম্বরের আসল গাড়িটি শিলিগুড়িতে রয়েছে। অনলাইনে গাড়ি বিক্রির বিজ্ঞাপন থেকেই দুষ্কৃতীরা ওই নম্বরটি হাতিয়ে নিয়েছিল বলে অনুমান করা হচ্ছে।
[TECHTARANGA-POST:8829]
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর শুভেন্দু অধিকারীর নিরাপত্তা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিজেই শুভেন্দু অধিকারীকে ফোন করে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ নেন। অন্যদিকে, বুধবার গভীর রাতে হাসপাতালে পৌঁছে মৃত চন্দ্রনাথের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত।
[TECHTARANGA-POST:8799]
মর্মান্তিক এই ঘটনায় অত্যন্ত শোকস্তব্ধ শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “এটি সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পিত ঠান্ডা মাথার খুন। আমি বিজেপি কর্মীদের অনুরোধ করছি, আপনারা ধৈর্য্য ধরুন। কেউ আইন হাতে তুলে নেবেন না। অতি দ্রুত দোষীদের চিহ্নিত করার আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ।” সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে ইতিমধ্যেই তিনজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে সিট।
Leave a comment