চেন্নাই: তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এখন একটাই নাম— থলপতি বিজয়। ‘ম্যাজিক ফিগার’ পকেটে নিয়ে যখন তিনি মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, ঠিক তখনই তাঁর সামনে এসে দাঁড়াল বড়সড় আইনি জটিলতা। দীর্ঘদিনের আয়কর ফাঁকির অভিযোগে এবার মাদ্রাজ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন এক ব্যক্তি। সরকার গঠনের প্রাক্কালে হবু মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এই অভিযোগে উত্তাল দক্ষিণ ভারতের রাজনীতি।
[TECHTARANGA-POST:8856]
২০১৫ সালে মুক্তি পেয়েছিল থলপতি বিজয় অভিনীত ব্লকবাস্টার সিনেমা ‘পুলি’। অভিযোগের তির মূলত সেই সময়ের দিকেই। কোডুঙ্গাইয়ুরের বাসিন্দা এম. রাজকুমার মাদ্রাজ হাইকোর্টে একটি পিটিশন দাখিল করেছেন। সেখানে দাবি করা হয়েছে, বিজয় বছরের পর বছর আয়কর ফাঁকি দিয়েছেন। বিশেষ করে ‘পুলি’ সিনেমার পারিশ্রমিক নেওয়ার ক্ষেত্রে বিপুল পরিমাণ অঘোষিত নগদ অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে অভিনেতার বিরুদ্ধে।
[TECHTARANGA-POST:8846]
পিটিশন অনুযায়ী, ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আয়কর বিভাগ বিজয়ের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর নথিপত্র উদ্ধার করেছিল। অভিযোগকারী রাজকুমারের দাবি, সিনেমার প্রযোজক পি.টি. সেলভাকুমার এবং শিবু বিজয়কে ১৬ কোটি টাকা চেকে দিলেও, অতিরিক্ত ৪ কোটি ৯৩ লক্ষ টাকা নগদে দিয়েছিলেন। অভিযোগ, শুধুমাত্র চেকে নেওয়া টাকার ওপর ‘টিডিএস’ জমা দেওয়া হলেও, নগদ অর্থের উপর কোনও কর দেননি সুপারস্টার।
[TECHTARANGA-POST:8837]
মামলাকারী আদালতের কাছে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪২০ (প্রতারণা), ৪৬৭ (জালিয়াতি) এবং ১২০বি (ষড়যন্ত্র)-সহ একাধিক ধারায় এফআইআর দায়ের করে তদন্তের আর্জি জানিয়েছেন। মাদ্রাজ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুশ্রুত অরবিন্দ ধর্মাধিকারী ও বিচারপতি জি.আরুল মুরগ্যানের বেঞ্চে গ্রীষ্মকালীন ছুটির পর এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।
[TECHTARANGA-POST:8842]
শপথ গ্রহণের ঠিক আগে এহেন অভিযোগ সামনে আসায় বিজয়ের দল ‘টিভিকে’-র কর্মী-সমর্থকরা ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। অনুরাগীদের দাবি, বিজয়ের ভাবমূর্তি নষ্ট করতেই বিরোধী শিবির সুপরিকল্পিতভাবে এই ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ চরিতার্থ করছে। অন্যদিকে, পিটিশনকারীর আইনজীবীর সাফ কথা, কর ফাঁকির অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন সবার জন্য সমান।
তামিল রাজনীতির এই টানটান উত্তেজনার মধ্যে বিজয়ের মুখ্যমন্ত্রী হওয়া মসৃণ হয় নাকি আইনি গেরোয় আটকে যায়, এখন সেটাই দেখার।
Leave a comment