০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home কলকাতা অপরাধ গল্পকেও হার মানায় পুলিশের কীর্তি! শান্তনুর ডেরায় জালিয়াতির পাহাড়, ইডির দাবিতে তোলপাড়
অপরাধকলকাতাপশ্চিমবঙ্গ

গল্পকেও হার মানায় পুলিশের কীর্তি! শান্তনুর ডেরায় জালিয়াতির পাহাড়, ইডির দাবিতে তোলপাড়

Share
গল্পকেও হার মানায় পুলিশের কীর্তি! শান্তনুর ডেরায় জালিয়াতির পাহাড়, ইডির দাবিতে তোলপাড়
ছবি: সংগৃহীত
Share

কলকাতা: এ কোনও থ্রিলার উপন্যাসের প্লট নয়, ঘোর বাস্তব! খোদ কলকাতা পুলিশের এক উচ্চপদস্থ কর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বহর দেখে এমনটাই দাবি করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। জমি দখল থেকে শুরু করে পুলিশ আধিকারিকদের বদলি নিয়ন্ত্রণ — ডিসি শান্তনু সিংহ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ওঠা গুচ্ছ গুচ্ছ অভিযোগ প্রসঙ্গে আদালতে ইডির মন্তব্য, “গল্প মনে হলেও সব সত্যি!” শুক্রবার বিশেষ আদালতে শান্তনুর এই ‘সাম্রাজ্যের’ পর্দাফাঁস করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

[TECHTARANGA-POST:9175]

ইডির দাবি, শান্তনু সিংহ বিশ্বাস, ব্যবসায়ী জয় কামদার এবং কুখ্যাত দুষ্কৃতী সোনা পাপ্পুর মধ্যে এক গভীর আঁতাঁত ছিল। এদের কার্যপদ্ধতি ছিল ভয়ঙ্কর। প্রথমে কোনও জমি পছন্দ করা হত, তারপর শুরু হতো পুলিশি ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো। মালিকপক্ষ জমি বিক্রি করতে রাজি না হলে সোনা পাপ্পুকে দিয়ে হুমকি দেওয়া হত এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে জলের দরে জমি লিখিয়ে নেওয়া হত।

[TECHTARANGA-POST:9174]

আদালতে ইডির আইনজীবী শান্তনুর বিরুদ্ধে একগুচ্ছ বিস্ফোরক পয়েন্ট তুলে ধরেন। যেমন – 

বদলি রাজ: কলকাতা পুলিশের নোডাল অফিসার হওয়ার সুবাদে নিজের ইচ্ছামতো আধিকারিকদের বদলি নিয়ন্ত্রণ করতেন তিনি।

ক্যানটিন সিন্ডিকেট: পাঁচটি মেডিকেল কলেজে শান্তনুর স্ত্রী ও ছেলের নামে ক্যানটিন চলত। এতে পার্টনার ছিলেন কলকাতা পুলিশেরই এক আধিকারিক।

[TECHTARANGA-POST:9173]

কোটি টাকার উপঢৌকন: ধৃত জয় কামদারের থেকে শান্তনু প্রায় ৬৫ লক্ষ টাকার ঘড়ি ও ব্যাগ উপহার নিয়েছেন বলে অভিযোগ। এমনকী, কান্দিতে তাঁর পৈতৃক বাড়ি আধুনিকীকরণে আড়াই কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে।

তোলাবাজি চক্র: কাউন্সিলর ও স্থানীয় পুলিশের সাহায্যে প্রোমোটারদের থেকে তোলা আদায় করা হত। ইডির দাবি, “টাকা না দিলে একজন মেথরও কাজ শুরু করতে পারতেন না।”

[TECHTARANGA-POST:9170]

গ্রেফতার হওয়া পুলিশকর্তা শান্তনু অবশ্য সব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। আদালতে তিনি দাবি করেন, উত্তরাধিকার সূত্রেই তিনি বিপুল সম্পত্তির মালিক এবং সম্ভ্রান্ত পরিবারের সদস্য। তাঁর কথায়, “জয় কামদার আমাকে কোনও টাকা দেয়নি, উল্টে আমি ফ্ল্যাট কেনার জন্য তাঁকে টাকা দিয়েছিলাম। ব্যাগ বা ঘড়ি যা পেয়েছি, তা উপহার হিসাবে, সেটা কোনও দুর্নীতি নয়।” সোনা পাপ্পুকে তিনি চেনেন না বলেও দাবি করেছেন শান্তনু।

[TECHTARANGA-POST:9169]

তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগ উঠলেও শান্তনুর পাল্ট দাবি, তিনি কর্তৃপক্ষকে জানিয়েই ইডি দফতরে গিয়েছিলেন। আপাতত এই ‘পুলিশ-অপরাধী-ব্যবসায়ী’ আঁতাঁত কতদূর বিস্তৃত, তা জানতেই শান্তনুকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করতে চায় ইডি।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *