শিলিগুড়ি: বাংলায় পরিবর্তনের পর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আজ, বুধবার উত্তরবঙ্গ সফরে পা রাখছেন শুভেন্দু অধিকারী। একদিকে যখন শিলিগুড়ি শহরের বর্ধমান রোডের বহু প্রতীক্ষিত উড়ালপুলের ফিতে কেটে আমজনতার দীর্ঘদিনের ট্রাফিক যন্ত্রণা লাঘব করবেন তিনি, ঠিক তখনই প্রশাসনিক স্তরে এক বিরাট বার্তা দিতে শিলিগুড়ির ‘উত্তরকন্যা’য় বসতে চলেছে হাইপ্রোফাইল বৈঠক। সামনেই বর্ষা, তাই উত্তরের পাঁচ জেলার বিধায়ক ও শীর্ষ প্রশাসনিক কর্তাদের নিয়ে এই রিভিউ মিটিংয়ে বন্যা, হড়পা বান, ভূমিধস ও নদীভাঙনের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলা নিয়ে জরুরি ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করবেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সাথে সড়ক যোগাযোগ, চা বাগানের তীব্র সমস্যা এবং বেআইনি নির্মাণ থেকে শুরু করে বালি-পাথর মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য রুখতে কড়া ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির হুঁশিয়ারি দিতে পারেন তিনি। তবে সবচেয়ে বড় চমক অন্য জায়গায়— বাংলার রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের ‘বিরোধী বয়কট’ সংস্কৃতি এক ঝটকায় ভেঙে এই প্রশাসনিক বৈঠকে সিতাইয়ের তৃণমূল বিধায়ক সংগীতা রায়কেও আমন্ত্রণ জানিয়েছে শুভেন্দু সরকার, যা এককথায় নজিরবিহীন।
[TECHTARANGA-POST:9289]
এদিনের সফরে ক্রীড়া ও উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিককে সাথে নিয়ে সকাল ১০টায় বাগডোগরা বিমানবন্দরে নামবেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকে দলীয় কার্যালয় ঘুরে সোজা চলে যাবেন উত্তরকন্যায়। বিগত তৃণমূল জমানায় যে উত্তরবঙ্গ জুড়ে সিন্ডিকেট রাজ, বালি মাফিয়া, সংরক্ষিত জঙ্গলে বেআইনি রিসর্ট তৈরি এবং চা বাগানের জমি প্রোমোটারদের হাতে তুলে দেওয়ার ভুরিভুরি অভিযোগ উঠেছিল, এবার সেই সমস্ত দুর্নীতির ফাইল খুলে কড়া তদন্তের নির্দেশ দিতে পারেন শুভেন্দু। বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গের মানুষ দু’হাত উজাড় করে বিজেপিকে ভোট দেওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই নতুন সরকারের প্রতি প্রত্যাশার পারদ আকাশছোঁয়া। নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দেওয়া প্রতিশ্রুতি মতো আইআইটি, এইমস কিংবা ক্যানসার হাসপাতালের মতো মেগা প্রজেক্টের সূচনা এবং কামতাপুরি ভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতির মতো বড়সড় কোনো রোডম্যাপের ঘোষণা আজ মুখ্যমন্ত্রী করেন কি না, এখন সেদিকেই চাতকের মতো তাকিয়ে গোটা উত্তরবঙ্গ।
Leave a comment