০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home কলকাতা বিধানসভায় তৃণমূলের ‘ভাঙা হাট’! মাত্র আধ ঘণ্টায় শেষ প্রতিবাদ, কোথায় গায়েব অর্ধেকের বেশি বিধায়ক?
কলকাতাপশ্চিমবঙ্গ

বিধানসভায় তৃণমূলের ‘ভাঙা হাট’! মাত্র আধ ঘণ্টায় শেষ প্রতিবাদ, কোথায় গায়েব অর্ধেকের বেশি বিধায়ক?

Share
বিধানসভায় তৃণমূলের ‘ভাঙা হাট’! মাত্র আধ ঘণ্টায় শেষ প্রতিবাদ, কোথায় গায়েব অর্ধেকের বেশি বিধায়ক?
ছবি: সংগৃহীত
Share

কলকাতা: বাংলায় ক্ষমতার হাতবদলের পর এবার বিধানসভার অন্দরেও যেন স্পষ্ট ধরা পড়ল নতুন বিরোধী দল তৃণমূলের ছন্নছাড়া ও কোণঠাসা পরিস্থিতি! বুধবার বিধানসভা চত্বরে দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিতে এসে কার্যত ‘ভাঙা হাট’-এর মুখোমুখি হতে হল ঘাসফুল শিবিরকে। রাজ্যে ভোট-পরবর্তী হিংসা ও হকার উচ্ছেদের নামে ‘বুলডোজার রাজ’-এর প্রতিবাদে এদিন বিধানসভার আম্বেদকর মূর্তির পাদদেশে এক প্রতিবাদ অবস্থানের ডাক দিয়েছিল তৃণমূল সংসদীয় দল। 

[TECHTARANGA-POST:9307]

কিন্তু সবাইকে চমকে দিয়ে দেখা গেল, ৮০ জন দলীয় বিধায়কের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি এদিন অনুপস্থিত! ফলে যে প্রতিবাদের ঝাঁজ নিয়ে বিধানসভা কাঁপানোর কথা ছিল, তা মাত্র আধ ঘণ্টার মধ্যেই দায়সারাভাবে গুটিয়ে নিতে বাধ্য হন উপস্থিত বিধায়করা। নতুন সরকার গঠনের পর প্রথম বড় কর্মসূচিতেই কেন দলের এই ছন্নছাড়া দশা, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা ও কটাক্ষ শুরু হয়েছে।

[TECHTARANGA-POST:9296]

তবে দলের এই ‘অনুপস্থিতি’র অস্বস্তি ঢাকতে এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে ময়দানে নামেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। দলের বিধায়কদের এই ছন্নছাড়া পরিস্থিতিকে একপ্রকার ‘কৌশলগত পরিকল্পনা’ বলে দাবি করে তিনি এক আজব সাফাই দেন। কুণালবাবু বলেন, “আমাদের পরিষদীয় দলের বৈঠক থেকেই এই কর্মসূচি ঠিক হয়েছে। আমরা দায়িত্ব ভাগ করে নিয়েছি। যাঁরা এলাকা সামলেও আসতে পারবেন, তাঁরাই শুধু আজ এখানে বসেছেন।

[TECHTARANGA-POST:9262]

 কিন্তু বহু এলাকায় আমাদের মানুষ ঘরছাড়া, যেখানে মানুষ এখনও বাড়িই ঢুকতে পারছে না এবং থানার সঙ্গে কো-অর্ডিনেশন করা দরকার, সেই সমস্ত বিধায়কদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে অবিলম্বে এলাকায় গিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াতে।” তাঁর পাল্টা প্রশ্ন, সবাই যদি কলকাতার এই প্রতিবাদে বসে থাকেন, তবে বিপদে পড়া মানুষের পাশে কে থাকবে? আগামী দিনে অন্য কোনো ইস্যুতে সেই সমস্ত বিধায়করা কলকাতায় এসে বসবেন এবং আজকের উপস্থিত বিধায়করা এলাকায় থাকবেন বলেও দাবি করেন তিনি।

এদিন দলের অনুপস্থিতি নিয়ে সাফাই দেওয়ার পাশাপাশি নতুন বিজেপি সরকারের ‘বুলডোজার রাজ’ নিয়ে সিপিএম ও বিজেপিকে একযোগে নিশানা করেন কুণাল ঘোষ। অতীতে বাম আমলের হকার উচ্ছেদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি তোপ দাগেন, “বুলডোজার দিয়ে গরিবের পেটে লাথি মারা— এটা সিপিএম চিরকাল করে এসেছে।

[TECHTARANGA-POST:9207]

 ১৯৯৬ সালে হাতিবাগান থেকে গড়িয়াহাট পর্যন্ত গরিবের পেটে বুলডোজার কে চালিয়েছিল? আজ বিজেপি ভাঙছে, আর সিপিএম-কে বাঘের ছাল পরিয়ে এলাকায় ঢুকিয়ে নেতা বানানোর চেষ্টা হচ্ছে।” তবে কুণাল ঘোষ বাম-বিজেপি আঁতাতের তত্ত্ব খাড়া করে নজর ঘোরানোর চেষ্টা করলেও, বিধানসভার প্রথম কর্মসূচিতেই অর্ধেকের বেশি বিধায়কের ‘গায়েব’ হয়ে যাওয়াটা তৃণমূলের অন্দরের কোনো বড় ফাটল নাকি ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ, তা নিয়ে সন্দিহান রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *