০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home দিল্লি দিল্লিতে বঙ্গভবনে মুখোমুখি শুভেন্দু-ঋতব্রত! ‘বিদ্রোহী’ তৃণমূল বিধায়ককে ‘বৈঠকে আসার’ আমন্ত্রণ মুখ্যমন্ত্রীর, তুঙ্গে জল্পনা
দিল্লিপশ্চিমবঙ্গ

দিল্লিতে বঙ্গভবনে মুখোমুখি শুভেন্দু-ঋতব্রত! ‘বিদ্রোহী’ তৃণমূল বিধায়ককে ‘বৈঠকে আসার’ আমন্ত্রণ মুখ্যমন্ত্রীর, তুঙ্গে জল্পনা

Share
দিল্লিতে বঙ্গভবনে মুখোমুখি শুভেন্দু-ঋতব্রত! ‘বিদ্রোহী’ তৃণমূল বিধায়ককে ‘বৈঠকে আসার’ আমন্ত্রণ মুখ্যমন্ত্রীর, তুঙ্গে জল্পনা
প্রতীকী ছবি
Share

নয়াদিল্লি: বিধানসভা নির্বাচনে আশানুরূপ ফল না হওয়ার পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ক্রমশ চড়ছে ‘বিদ্রোহী’ সুর। দলের একাংশের দুর্নীতি এবং কিছু নেতার একচ্ছত্র আধিপত্য নিয়ে ইদানীং যে সমস্ত শাসকদলের বিধায়ক সবচেয়ে বেশি সরব হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন উলুবেড়িয়া পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। এই আবহে দেশের রাজধানী দিল্লির বঙ্গভবনে আচমকাই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মুখোমুখি হলেন তিনি! আর এই ‘হঠাৎ দেখা’ ঘিরেই এখন রাজ্য তথা জাতীয় রাজনীতির অলিন্দে তীব্র গুঞ্জন ও জল্পনা তৈরি হয়েছে।

[TECHTARANGA-POST:9394]

সূত্রের খবর, শুক্রবার দুপুরে নয়াদিল্লির বঙ্গভবনে মধ্যাহ্নভোজন সারতে গিয়েছিলেন তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘটনাচক্রে, সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও বিজেপির কেন্দ্রীয় সদর দফতর থেকে বৈঠক সেরে বঙ্গভবনে এসে পৌঁছন। সেখানে তৃণমূল বিধায়ককে দেখামাত্রই এগিয়ে যান মুখ্যমন্ত্রী এবং দু’জনের মধ্যে অত্যন্ত সৌজন্যমূলক বার্তা বিনিময় হয়। অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত সময়ের এই কথোপকথনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঋতব্রতকে ‘বিধায়ক সাহেব’ বলে সম্বোধন করেন। সূত্রের দাবি, কথোপকথনের একপর্যায়ে মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে বলেন, “আমরা রাজ্যের উন্নয়নের স্বার্থে খুব শীঘ্রই একটি বৈঠক ডাকব। আপনাদেরও সেই বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। আপনারা অবশ্যই আসবেন।” জবাবে তৃণমূল বিধায়ক মৃদু হেসে বলেন, “দেখব।”

[TECHTARANGA-POST:9393]

এই হাইভোল্টেজ সাক্ষাৎকার নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে যেতেই মুখ খুলেছেন স্বয়ং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। এ প্রসঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে বলেন, “এটা নিতান্তই একটা আচমকা দেখা হয়ে যাওয়া, এর মধ্যে অন্য কোনও সমীকরণ নেই। আমি মূলত সাংসদ হিসেবে পাওয়া আমার পূর্বতন বাংলো এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে দিল্লিতে এসেছি। দুপুরে বঙ্গভবনে খাবার খেতে গিয়েছিলাম এবং তখনই মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা হয়ে যায়। উনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, তাই তাঁর সঙ্গে মাত্র ৪০ সেকেন্ডের মতো কথা হয়েছে। এতে যদি কেউ কোনও গোপন বৈঠকের তত্ত্ব খুঁজে পেতে চান, তবে পেতেই পারেন।” উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক আরও যোগ করেন, “ভবিষ্যতেও আমি দিল্লিতে এলে বঙ্গভবনেই উঠব। সেই সময় অনেকের সঙ্গেই দেখা হতে পারে, তখন কি প্রতিবারই এই ধরনের জল্পনা তৈরি হবে?”

[TECHTARANGA-POST:9392]

তবে ঋতব্রত এই সাক্ষাৎকে নিছক ‘সৌজন্য’ বলে উড়িয়ে দিলেও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বিষয়টিকে এত হালকাভাবে নিচ্ছেন না। কারণ, মাত্র দিন দুয়েক আগেই দলের একাধিক শীর্ষ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হয়ে একপ্রকার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিলেন ঋতব্রত। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, দলের কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত নেতার পাপের দায়ভার তিনি বা তাঁর মতো পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতারা কোনওভাবেই নেবেন না। এমনকী, ওই দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করার জন্য নিজের দল তৃণমূল কংগ্রেসকে ১৫ দিনের একটি ডেডলাইন বা সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছেন তিনি। ঘরের অন্দরে যখন এমন তীব্র অসন্তোষ, ঠিক সেই আবহেই দিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতার সঙ্গে তাঁর এই ৪০ সেকেন্ডের সাক্ষাৎ রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলের ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহল।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *