০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home পশ্চিমবঙ্গ জমি জবরদখল-হুমকি পোস্টার-কোটি টাকার তোলাবাজি! ‘আত্মঘাতী’ তৃণমূল কাউন্সিলর সঞ্জয়ের মৃত্যুতে বিস্ফোরক তথ্য
পশ্চিমবঙ্গ

জমি জবরদখল-হুমকি পোস্টার-কোটি টাকার তোলাবাজি! ‘আত্মঘাতী’ তৃণমূল কাউন্সিলর সঞ্জয়ের মৃত্যুতে বিস্ফোরক তথ্য

Share
জমি জবরদখল-হুমকি পোস্টার-কোটি টাকার তোলাবাজি! ‘আত্মঘাতী’ তৃণমূল কাউন্সিলর সঞ্জয়ের মৃত্যুতে বিস্ফোরক তথ্য
ছবি--প্রতীকী
Share

কলকাতা: দক্ষিণ দমদম পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সঞ্জয় দাসের অস্বাভাবিক মৃত্যুর চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই সামনে এল একাধিক বিস্ফোরক তথ্য। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, শনিবার সকালে নিজের ঘর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া সঞ্জয় আদতে আত্মহত্যাই করেছেন। কিন্তু, এই চরম পদক্ষেপের পিছনে শুধু কি নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তের চাপ, নাকি এর পিছনে লুকিয়ে রয়েছে কোটি কোটি টাকার তোলাবাজি এবং জমি জবরদখলের মতো মারাত্মক সব অভিযোগ? রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই যে সঞ্জয় তীব্র মানসিক চাপে ভুগছিলেন, তা এখন স্থানীয় বাসিন্দা, এমনকী খোদ তৃণমূলের একাংশের কথাতেই স্পষ্ট হচ্ছে।

[TECHTARANGA-POST:9417]

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের ঠিক পরেই ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় সঞ্জয় দাসের বিরুদ্ধে একাধিক পোস্টার পড়েছিল। সেই সব পোস্টারে তাঁর বিরুদ্ধে ‘বেআইনিভাবে জমি দখল’-এর মারাত্মক অভিযোগ তুলে সরাসরি হুমকি দেওয়া হয়েছিল। পোস্টারে লেখা ছিল — “মাঝরাতে লোক পাঠিয়ে যাঁদের অফিসে ডেকে এনে ভয় দেখানো হয়েছে, তাঁদের জমি অবিলম্বে ফেরত দেওয়া হোক।” ক্ষুব্ধ জনতার এই প্রকাশ্য হুঁশিয়ারি ও পোস্টার পড়ার ঘটনাটি সেই সময় পুলিশকেও জানানো হয়েছিল বলে দলীয় সূত্রে খবর।

[TECHTARANGA-POST:9416]

দমদম এলাকার তৃণমূল কর্মীদের একাংশের দাবি, দেবরাজ চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুবাদে এলাকায় যথেষ্ট ‘প্রভাবশালী’ ছিলেন সঞ্জয় দাস। তাঁর এক ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের নামে পুরসভার একাধিক ঠিকাদারি কাজ চলত, যা আদতে বকলমে সামলাতেন সঞ্জয় নিজেই। রাজ্যে নতুন সরকার গঠন হওয়ার পর এই সমস্ত দুর্নীতির ফাইল খোলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল তাঁর মনে। অন্যদিকে, রাজারহাট-গোপালপুর এলাকায় প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুর গ্রেফতারি এবং দেবরাজের কোর্টে চক্কর কাটার ঘটনায় সঞ্জয়ের মনেও সিবিআই-ইডি বা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ার তীব্র ভয় গ্রাস করেছিল। এই জোড়া ফলার চাপেই তিনি চরম অবসাদে তলিয়ে যান বলে মনে করছেন স্থানীয়দের একাংশ।

[TECHTARANGA-POST:9415]

সঞ্জয়ের এই মৃত্যুর পিছনে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক তত্ত্ব খাড়া করেছেন দক্ষিণ দমদম পুরসভার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল সভাপতি কিরণ ভট্টাচার্য। তাঁর অভিযোগের তির সদ্য তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া কিছু কর্মীর দিকে। কিরণ দাবি করেন, “আমি শুনেছি মৃত্যুর কয়েক দিন আগে সঞ্জয়ের কাছে ১০ লক্ষ টাকা দাবি করা হয়েছিল। আর এই টাকা যাঁরা চেয়েছিলেন, তাঁরা বিজেপির পুরনো কর্মী নন। গত ৪ তারিখ ভোটের ফল প্রকাশের দিন বেলা ১২টার পর তৃণমূল ছেড়ে রাতারাতি বিজেপি হওয়া লোকজনই এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন।”

[TECHTARANGA-POST:9414]

যদিও তৃণমূলের অন্য একটি অংশ তোলাবাজির এই তত্ত্ব মানতে নারাজ। পুলিশ অবশ্য জমি জবরদখলের পোস্টার, ঠিকাদারি দুর্নীতি এবং এই তোলাবাজির অভিযোগ — সবকটি দিকই খতিয়ে দেখছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পাশাপাশি সঞ্জয়ের মোবাইল ফোনের কল রেকর্ডও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *