০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home পশ্চিমবঙ্গ কলকাতা ১০০ দিনেই হবে মস্ত ধামাকা! বাংলার শিল্প নিয়ে ব্যবসায়ীদের বিরাট গ্যারান্টি দিলেন শমীক, কী সেই মাস্টারপ্ল্যান?
কলকাতাপশ্চিমবঙ্গ

১০০ দিনেই হবে মস্ত ধামাকা! বাংলার শিল্প নিয়ে ব্যবসায়ীদের বিরাট গ্যারান্টি দিলেন শমীক, কী সেই মাস্টারপ্ল্যান?

Share
১০০ দিনেই হবে মস্ত ধামাকা! বাংলার শিল্প নিয়ে ব্যবসায়ীদের বিরাট গ্যারান্টি দিলেন শমীক, কী সেই মাস্টারপ্ল্যান?
ছবি--প্রতীকী
Share

কলকাতা: বাংলায় ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নবান্নের অলিন্দে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—নতুন সরকারের জমানায় মুখ থুবড়ে পড়া রাজ্যের শিল্প ও বিনিয়োগের হাল ফিরবে কীভাবে? ঠিক এই আবহেই সোমবার কলকাতার ‘ভারত চেম্বার অফ কমার্স’-এর মঞ্চ থেকে রাজ্যের শিল্পমহল ও বণিকসভাকে এক মস্ত বড় এবং আশাব্যঞ্জক ‘১০০ দিনের’ ডেডলাইন দিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। কলকাতার বুক থেকে বিগত বাম ও তৃণমূল জমানায় বড় বড় কর্পোরেট কোম্পানিগুলির রাজ্য ছাড়ার ঐতিহাসিক ধাক্কাকে চূড়ান্ত লজ্জাজনক বলে আখ্যা দিয়ে শমীক সাফ জানান, রাজ্যে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা এখনও গঠন না হলেও, নতুন সরকার বাংলায় বিনিয়োগের বন্ধ দুয়ার খুলে দিতে কোমর বেঁধে নেমে পড়েছে। শিল্পমহলকে এক মস্ত বড় রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, আগামী মাত্র ১০০ দিনের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের শিল্প ও উৎপাদন ক্ষেত্রে এমন কিছু বৈপ্লবিক পদক্ষেপ করা হবে, যা দেখার পর প্রত্যেকে নতুন সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করতে বাধ্য হবেন।

[TECHTARANGA-POST:9466]

এদিন বাংলার শিল্পায়নের বেহাল দশা বোঝাতে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প বা ‘এমএসএমই’ সেক্টরের বর্তমান করুণ অবস্থার এক জ্বলন্ত উদাহরণ টানেন শমীক ভট্টাচার্য। তিনি আক্ষেপের সুরে বলেন, রাজ্যে ক্ষুদ্র শিল্পের নামে একটা সাধারণ পানের দোকান বা চায়ের দোকানকেও এমএসএমই-র তালিকায় রেজিস্টার্ড করিয়ে সংখ্যা বাড়িয়ে বাহবা নেওয়া হচ্ছিল, যা মোটেও কাম্য নয়। এরপরই মহারাষ্ট্রের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের তুলনামূলক খতিয়ান দিয়ে তিনি জানান, এক সময় শিল্পে ও অর্থনীতিতে মহারাষ্ট্রের সঙ্গে সমানে সমানে টক্কর দিত পশ্চিমবঙ্গ, আর আজ দেশের মোট এফডিআই-এর প্রায় ৩৬ শতাংশ যাচ্ছে একা মহারাষ্ট্রে, সেখানে কলকাতায় সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগের হার তলানিতে ঠেকে মাত্র ০.৬ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে। এই চরম লজ্জার অবসান ঘটাতে নতুন ডাবল ইঞ্জিন সরকার পরিকাঠামো ক্ষেত্রে এক বিশাল ব্লুপিন্ট তৈরি করেছে এবং নতুন শিল্প গড়ার স্বার্থে রাজ্যে একটি অত্যন্ত সুসংহত এবং যুগোপযোগী ‘ল্যান্ড পলিসি’ বা ভূমি নীতি তৈরি করা জরুরি বলে তিনি জানান।

[TECHTARANGA-POST:9464]

উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরে খনিজ তেলের সন্ধান মেলা সত্ত্বেও তা নিয়ে বিগত সরকারের গড়িমসি এবং পরিকাঠামো স্তরের চূড়ান্ত ব্যর্থতা নিয়ে এদিন সুর চড়ান রাজ্য বিজেপি সভাপতি। একই সঙ্গে তিনি ইএম বাইপাসের ওপর চিংড়িঘাটা মেট্রো লাইনের কাজ বছরের পর বছর ধরে কেন আটকে রাখা হয়েছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। শমীক ভট্টাচার্য বলেন, আমরা এখন এক চূড়ান্ত ডিজিটাল যুগে বাস করছি, তাই আমাদের রাজ্যকে দ্রুত ডেটা সেন্টার শিল্পে অংশ নিতে হবে এবং বাইরে থেকে আসা বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি ভয়হীন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা নিরপেক্ষ প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করে দিতে হবে। বিনিয়োগকারীরা এ রাজ্যে কোটি কোটি টাকা ঢালতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিলেন, কিন্তু বিগত সরকার প্রস্তুত ছিল না, তবে এবার নতুন সরকার সম্পূর্ণ তৈরি।

[TECHTARANGA-POST:9463]

এদিনের অনুষ্ঠান থেকে উত্তরবঙ্গের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা নিয়েও ক্ষোভ উগরে দেন শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর অভিযোগ, উত্তরবঙ্গের পর্যটন থেকে শুরু করে বিশ্ববিখ্যাত চা শিল্প—কোনো কিছু নিয়েই আগে সঠিক পরিকল্পনা করা হয়নি, যার ফলে বছরের পর বছর ধরে ধুঁকছেন গরিব চা শ্রমিকেরা এবং ক্ষোভে ফুঁসছেন টেক্সটাইল বা বস্ত্রশিল্পের কারিগররা। সবমিলিয়ে শমীক স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই সরকার চায় বাংলায় দেদার ব্যবসা হোক, কোটি কোটি টাকার বিনিয়োগ আসুক। আর সেই সোনার বাংলার রূপরেখা বাস্তবায়িত করতে বাংলার সাড়ে দশ কোটি মানুষকে একজোট হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। খুব দ্রুত এমন সময়োপযোগী ও কড়া আইন তৈরি করা হবে, যা এ রাজ্যের ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের জন্য চূড়ান্ত লাভদায়ক এবং সুরক্ষামূলক হবে বলেও তিনি বড় বার্তা দেন।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *