০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home কলকাতা মাটির বাড়ি থেকে ৩ তলা অট্টালিকা! আরামবাগে তৃণমূলী ২ ভাইয়ের রাজপ্রাসাদে পড়ল পোস্টার
কলকাতা

মাটির বাড়ি থেকে ৩ তলা অট্টালিকা! আরামবাগে তৃণমূলী ২ ভাইয়ের রাজপ্রাসাদে পড়ল পোস্টার

Share
মাটির বাড়ি থেকে ৩ তলা অট্টালিকা! আরামবাগে তৃণমূলী ২ ভাইয়ের রাজপ্রাসাদে পড়ল পোস্টার
ছবি সংগৃহীত
Share

আরামবাগ: বাংলায় রাজনৈতিক পরিবর্তনের হাওয়া লাগতেই এবার রাজপথ থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামবাংলায় কাটতে শুরু করেছে ভয়ের চাদর। তৃণমূল জমানায় যে সমস্ত নেতাদের দাপটে বাঘে-গরুতে এক ঘাটে জল খেত, এখন তাঁদের পাপের ঘড়া পূর্ণ হতেই জনরোষ আছড়ে পড়ছে বাড়ির দরজায়। দিনের পর দিন লাগামহীন অত্যাচার, তোলাবাজি আর কাটমানির টাকায় ফুলেফেঁপে ওঠা আরামবাগের গোঘাটের দুই প্রভাবশালী তৃণমূলী ভাইয়ের বিরুদ্ধে এবার সরাসরি যুদ্ধে নেমেছেন গ্রামবাসীরা। বাংলা থেকে ‘ভয় আউট’ হতেই আপাদমস্তক দুর্নীতিতে ডুবে থাকা এই দুই নেতার বাড়ি ঘিরে ধরে কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে পড়েছে একের পর এক পোস্টার। গোঘাটের শ্যামবাজার এলাকার এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে গোটা জেলায় তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

[TECHTARANGA-POST:9472]

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গোঘাটের এই দুই সহোদর শাহাবুদ্দিন খান ও গিয়াসউদ্দিন খানের একসময় নুন আনতে পান্তা ফুরনোর দশা ছিল, থাকত জরাজীর্ণ মাটির বাড়িতে। কিন্তু তৃণমূল আমলে দলে পদ পেতেই উল্কার গতিতে উত্থান হয় দুই ভাইয়ের। দাদা শাহাবুদ্দিন খান একসময় গোঘাট-২ পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ এবং ব্লক তৃণমূলের সভাপতির পদ পেয়ে কার্যত গোটা গোঘাট শাসন করতে শুরু করেন। দাদার হাত ধরেই রাজনীতিতে এন্ট্রি নেন ভাই গিয়াসউদ্দিন খান। ২০১৮ সালে তিনি শ্যামবাজার পঞ্চায়েতের প্রধান পদে বসার পর থেকেই রাজকীয় প্রতিপত্তি শুরু হয়। মাটির বাড়ি রাতারাতি বদলে যায় তিনতলার পেল্লাই অট্টালিকায়। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, এই রাজপ্রাসাদের প্রতিটি ইট আসলে সাধারণ মানুষের থেকে লুঠ করা কাটমানি আর তোলাবাজির টাকা দিয়ে গাঁথা।

[TECHTARANGA-POST:9471]

এলাকার মানুষের দাবি, গত এক দশকে এই দুই ভাই ও তাদের সাঙ্গোপাঙ্গরা গোটা এলাকার ত্রাস হয়ে উঠেছিল। শুধু টাকা লুঠ করাই নয়, তৃণমূল নেতা ও তার দলবলের লালসার শিকার হতে হয়েছে এলাকার বহু অসহায় মহিলাকে। এতটাই দাপট ছিল যে, এই নেতারা বাজারে থলে নিয়ে গেলে ভয়ে বিনা পয়সায় সবজির ব্যাগ ভর্তি করে দিতে হতো বিক্রেতাদের। এর বিরুদ্ধে কেউ সামান্য প্রতিবাদ করার সাহস দেখালে জুটত কপালে অমানুষিক মারধর, বাড়ি ভাঙচুর, এমনকী জ্বালিয়ে দেওয়া হতো ঘরবাড়ি। কিন্তু রাজ্যে নতুন সরকার আসতেই সেই ভয়ের দিন শেষ হয়েছে। এতদিনের জমানো ক্ষোভ উগরে দিয়ে এখন দুই নেতার কোটি টাকার প্রাসাদের দেওয়ালে কাটমানি ফেরতের পোস্টার লাগিয়ে হিসাব চাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

[TECHTARANGA-POST:9470]

গোঘাট ২ নম্বর ব্লকের বিজেপি মণ্ডল সভাপতি তমাল ঘোষ এই ঘটনায় সরব হয়ে অত্যন্ত বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন। তিনি বলেন, “একুশের ভোট পরবর্তী হিংসা থেকে শুরু করে এলাকার সমস্ত সন্ত্রাসে যুক্ত এই দুই তৃণমূল নেতা। এরা পুলিশকে পর্যন্ত এলাকায় কাজ করতে দিত না, বহু মানুষকে খুন করেছে। ভোটের রেজাল্টের আগের দিন পর্যন্ত এরা মানুষকে ধমক-চমক দিয়েছে, এদের ভয়ে মহিলারা সন্ধের পর বাড়ি থেকে বেরোতে পারতেন না।” যদিও সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা গিয়াসউদ্দিন খানের দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত ঘটনা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে বঙ্গে নির্বাচনের সময় বিজেপির দেওয়া ‘ভয় আউট, ভরসা ইন’ স্লোগানের ওপর ভর করেই এখন বিচারের আশায় নতুন ডবল ইঞ্জিন সরকারের দিকে চাতকের মতো তাকিয়ে রয়েছে গোটা আরামবাগ।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *