০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home কলকাতা মেট্রোযাত্রীদের জন্য সবচেয়ে বড় সুখবর! ৪ দশক পর আমূল বদলে গেল কবি সুভাষ-দক্ষিণেশ্বর রুট, বাঁচবে কোটি কোটি টাকা
কলকাতাপশ্চিমবঙ্গ

মেট্রোযাত্রীদের জন্য সবচেয়ে বড় সুখবর! ৪ দশক পর আমূল বদলে গেল কবি সুভাষ-দক্ষিণেশ্বর রুট, বাঁচবে কোটি কোটি টাকা

Share
মেট্রোযাত্রীদের জন্য সবচেয়ে বড় সুখবর! ৪ দশক পর আমূল বদলে গেল কবি সুভাষ-দক্ষিণেশ্বর রুট, বাঁচবে কোটি কোটি টাকা
ছবি সংগৃহীত
Share

কলকাতা: সেই ১৯৮৪ সাল থেকে শুরু করে গত চার দশক ধরে কলকাতার লাইফলাইন হয়ে রয়েছে পাতাল রেল। নন-এসি রেক থেকে এসি রেক, কিংবা পাতাল ফুঁড়ে গঙ্গার তলা দিয়ে ট্রেন চলাচল— একের পর এক ইতিহাসের সাক্ষী থেকেছে তিলোত্তমা। এবার সেই কলকাতা মেট্রোর মুকুটে জুড়ল আরও একটি ঐতিহাসিক পালক। গত প্রায় তিন বছর ধরে চলা এক মহাযজ্ঞের অবসান ঘটিয়ে সম্পূর্ণ বদলে ফেলা হলো কবি সুভাষ থেকে দক্ষিণেশ্বরগামী ব্লু লাইনের অভ্যন্তরীণ পরিকাঠামো। চার দশকের পুরনো খোলনলচে বদলে ফেলে মেট্রোর ইঞ্জিনিয়াররা এমন এক অসাধ্য সাধন করলেন, যা আগামী দিনে কলকাতার গণপরিবহণ ব্যবস্থাকে আরও একধাপ এগিয়ে দিল।

[TECHTARANGA-POST:9583]

কলকাতা মেট্রো সূত্রের খবর, উত্তর-দক্ষিণ করিডোরের শতাব্দীপ্রাচীন ইস্পাতের থার্ড রেল (যার মাধ্যমে ট্রেনে বিদ্যুৎ পরিবাহিত হয়) পুরোপুরি সরিয়ে সেখানে বসানো হয়েছে অত্যাধুনিক অ্যালুমিনিয়াম থার্ড রেল। ইস্ট-ওয়েস্ট বা জোকা-তারাতলা লাইনে প্রথম থেকেই এই আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হলেও, শহরের সবচেয়ে ব্যস্ততম উত্তর-দক্ষিণ লাইনে এই কাজ করা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ছিল। ফলে মেট্রো কর্তৃপক্ষ এক দফায় নয়, বরং গোটা রুটটিকে দুটি প্রধান দফায় ভেঙে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কাজ শেষ করেছে। প্রথম দফায় মহানায়ক উত্তম কুমার (টলিগঞ্জ) থেকে দমদম এবং দ্বিতীয় দফায় উত্তম কুমার থেকে কবি সুভাষ স্টেশন পর্যন্ত প্রতি রাতে ধাপে ধাপে দৈনিক ২০০ মিটার করে এই রেল বদলের কাজ চলেছে। ইস্পাতের মতো অ্যালুমিনিয়ামের রেল জুড়তে কোনও ঝালাইয়ের প্রয়োজন পড়ে না, বিশেষ পাত ব্যবহার করে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে এই কাজ সম্পন্ন করেছেন ইঞ্জিনিয়াররা।

[TECHTARANGA-POST:9582]

মেট্রো কর্তৃপক্ষের দাবি, এই কাঠামোগত পরিবর্তনের ফলে কলকাতা মেট্রোর গতি যেমন বাড়বে, তেমনই দুটি ট্রেনের মধ্যকার সময়ের ব্যবধানও অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। তবে সবচেয়ে বড় চমক রয়েছে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে। অ্যালুমিনিয়ামের থার্ড রেল ব্যবহারের ফলে ট্রেনের প্রায় ৮৪ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুতের অপচয় রোধ করা সম্ভব হবে, যার জেরে মেট্রো কর্তৃপক্ষের বছরে প্রায় এক কোটি টাকারও বেশি বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয় হবে। এই আধুনিকীকরণের জন্য যে বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ হয়েছে, তা আগামী তিন বছরের বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের টাকা থেকেই উঠে আসবে বলে মনে করছেন মেট্রো কর্তারা। এই ঐতিহাসিক বদলের পর ব্লু লাইনের মেট্রো সফর আরও দ্রুত, মসৃণ এবং পরিবেশবান্ধব হয়ে উঠবে, যা নিত্যযাত্রীদের জন্য এক বিরাট প্রাপ্তি।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *