০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home ভারতবর্ষ ‘ভারত নয়, আমরাও জমি দখল করেছি!’ নেপালের প্রধানমন্ত্রীর বিস্ফোরক মন্তব্যে তোলপাড় আন্তর্জাতিক মহল
ভারতবর্ষ

‘ভারত নয়, আমরাও জমি দখল করেছি!’ নেপালের প্রধানমন্ত্রীর বিস্ফোরক মন্তব্যে তোলপাড় আন্তর্জাতিক মহল

Share
‘ভারত নয়, আমরাও জমি দখল করেছি!’ নেপালের প্রধানমন্ত্রীর বিস্ফোরক মন্তব্যে তোলপাড় আন্তর্জাতিক মহল
ছবি সংগৃহীত
Share

কাঠমাণ্ডু: নিজের দেশেই এবার চরম অস্বস্তির মুখে পড়লেন নেপালের সদ্যনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ। চিরকাল ভারতের বিরুদ্ধে নেপালের ভূখণ্ড দখল করার যে চিরাচরিত অভিযোগ কাঠমাণ্ডু তুলে এসেছে, এবার সেই ধারণার উল্টো সুরে গেয়ে খোদ দেশের সংসদেই বিতর্কিত মন্তব্য করে বসলেন তিনি। সংসদের প্রথম অধিবেশনেই বালেন শাহ দাবি করেন, শুধু ভারত নয়, নেপালও নাকি ভারতের বেশ কিছু ভূখণ্ড দখল করে রেখেছে! প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকে এমন নজিরবিহীন ও বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি শোনার পর থেকেই নেপালের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

[TECHTARANGA-POST:9659]

রবিবার, ৩১ মে নেপালের সংসদে দাঁড়িয়ে ভারত-নেপাল সীমান্ত সমস্যা নিয়ে বক্তব্য রাখছিলেন বালেন শাহ। লিপুলেখ, লিম্পিয়াধুরা এবং কালাপানির মতো বিতর্কিত অঞ্চলগুলি নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি এক অদ্ভুত সত্য জানতে পেরেছেন যা শুনলে সবাই অবাক হয়ে যাবেন। তাঁর কথায়, “শুধু ভারত নেপালের ভূখণ্ড দখল করেছে এমনটা নয়। নেপালও বহু জায়গায় ভারতের ভূখণ্ড নিজের দখলে রেখেছে।” এই ঐতিহাসিক জট কাটাতে দুই দেশেরই উচিত ইতিহাসবিদ ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে বন্ধুর মতো একসঙ্গে বসে সত্য অনুসন্ধান করা। এমনকি এই সীমান্ত জট ছাড়াতে একসময়ের ঔপনিবেশিক শাসক ব্রিটেন এবং প্রতিবেশী চিনের কাছেও নেপাল সাহায্য চেয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

[TECHTARANGA-POST:9657]

প্রধানমন্ত্রীর এই আলটপকা মন্তব্যে আন্তর্জাতিক স্তরে দেশের মুখ পুড়তেই তড়িঘড়ি ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামে নেপালের বিদেশ মন্ত্রক। ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই মন্ত্রকের তরফে সাফাই দিয়ে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী ‘ভূখণ্ড দখল’ বলতে মূলত দুই দেশের সীমান্তের ‘নো-ম্যানস ল্যান্ড’ অংশকে বুঝিয়েছেন, যেখানে হয়তো ভারতীয়দের ব্যবহৃত কিছু জমি নেপালের অংশে বা নেপালিদের ব্যবহৃত জমি ভারতের অংশে ঢুকে পড়েছে। প্রসঙ্গত, ভারত-চিন বাণিজ্য ও কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রুট লিপুলেখ নিয়ে দুই দেশের বিবাদ দীর্ঘদিনের। গত মার্চ মাসেই নেপাল এই নিয়ে ভারতকে কূটনৈতিক নোট পাঠায় এবং ৩ মে সাফ জানিয়ে দেয়, ১৮১৬ সালের সুগৌলি চুক্তি অনুযায়ী লিপুলেখ, কালাপানি ও লিম্পিয়াধুরা নেপালের অংশ, তাই ভারতীয় পর্যটকরা যেন এই রুট ব্যবহার না করেন। তবে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকও পাল্টা কড়া বিবৃতিতে স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ১৯৫৪ সাল থেকে এই লিপুলেখ পাসটি কৈলাস যাত্রার জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে এবং নেপালের এই আকস্মিক দাবির কোনও ঐতিহাসিক বা নথিজাত ভিত্তি নেই।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *