০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home পশ্চিমবঙ্গ কলকাতা নেতাদের ওপর কেন এত ক্ষোভ-বিক্ষোভ? ইডি দপ্তরে ঢোকার মুখে বিস্ফোরক রথীন ঘোষ, রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল
কলকাতাপশ্চিমবঙ্গ

নেতাদের ওপর কেন এত ক্ষোভ-বিক্ষোভ? ইডি দপ্তরে ঢোকার মুখে বিস্ফোরক রথীন ঘোষ, রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল

Share
নেতাদের ওপর কেন এত ক্ষোভ-বিক্ষোভ? ইডি দপ্তরে ঢোকার মুখে বিস্ফোরক রথীন ঘোষ, রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল
FILE IMAGE
Share

কলকাতা: পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে ফের একবার ইডি (ED) দপ্তরে হাজিরা দিলেন রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী তথা মধ্যমগ্রামের তৃণমূল বিধায়ক রথীন ঘোষ। 

[TECHTARANGA-POST:9656]

সোমবার বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে পৌঁছন তিনি। তবে এ দিন ইডি দপ্তরে ঢোকার মুখে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো হেভিওয়েট নেতাদের ঘিরে সাম্প্রতিক হামলা ও বিক্ষোভের ঘটনা প্রসঙ্গে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন রথীনবাবু। ক্ষুব্ধ জনতার এই বিক্ষোভের কারণ কী— এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি কার্যত দলের অস্বস্তি বাড়িয়ে বিস্ফোরক দাবি করে বসেন। তাঁর কথায়, “কোথায় খামতি, তা বুঝতে পারলে অনেক কিছু হয়ে যেত।” পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতি খবর হিসেবে তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তুমুল জল্পনা ও নতুন সমীকরণ তৈরি হতে শুরু করেছে।’

[TECHTARANGA-POST:9653]

রাজনৈতিকভাবে এ দিনের এই হাজিরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ রবিবারই তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনে দলীয় বিধায়কদের নিয়ে একটি মেগা বৈঠক ছিল, যেখানে দেখা যায়নি রথীন ঘোষকে। এই অনুপস্থিতির কারণ হিসেবে অবশ্য তিনি নিজের শারীরিক অসুস্থতার কথাই দাবি করেছেন। সোমবার রথীনবাবু যখন ইডি দপ্তরে হাজিরা দিতে যাচ্ছিলেন, তার ঠিক কিছুক্ষণ আগেই রাজভবনে মন্ত্রিসভার মহা-সম্প্রসারণ ঘটছিল। 

[TECHTARANGA-POST:9669]

শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভায় যোগ দেওয়া নতুন ৩৪ জন মন্ত্রীকে অবশ্য শুভেচ্ছা জানাতে ভোলেননি তিনি। প্রসঙ্গত, বছর তিনেক আগে রেশন দুর্নীতি মামলায় তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক গ্রেপ্তার হওয়ার পর, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির কারণে মধ্যমগ্রামের এই দীর্ঘদিনের বিধায়কের হাতে খাদ্যদপ্তরের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছিল। তিনি দপ্তরের ‘কলঙ্ক’ ঘোচানোর চেষ্টা করলেও, পরবর্তীতে তাঁর নিজের নামই জড়িয়ে যায় পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায়। ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত মধ্যমগ্রাম পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান থাকাকালীন তাঁর সুপারিশে বহু বেআইনি নিয়োগ হয়েছিল বলে ইডির অভিযোগ।

[TECHTARANGA-POST:9658]

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক মুখে এই নিয়োগ দুর্নীতির মামলার কিনারা করতে রথীন ঘোষকে মোট ৫ বার সমন পাঠিয়েছিল ইডি। কিন্তু সেই সময় নির্বাচনের টিকিট পাওয়া এবং প্রচারের ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে দফায় দফায় হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছিলেন তিনি। গত ৪ মে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর দেখা যায়, মধ্যমগ্রামের কড়া টক্করে রথীন ঘোষ মাত্র ১৩০০ ভোটের এক সামান্য ব্যবধানে কোনওরকমে জয়ী হয়েছেন।

[TECHTARANGA-POST:9664]

 রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটে বিজেপি সরকার আসতেই রথীনবাবুর ওপর কেন্দ্রীয় এজেন্সির চাপ বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে। নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর ইতিমধ্যেই দফায় দফায় ইডি দপ্তরে হাজিরা দিয়েছেন তিনি। সোমবার ছিল এই মামলায় তাঁর তৃতীয় দফার জিজ্ঞাসাবাদ। আর এ দিন ইডি দপ্তরে প্রবেশের মুখে দলের শীর্ষ নেতাদের ওপর জনবিক্ষোভ নিয়ে তাঁর এই মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিকে আরও কতটা উত্তপ্ত করে তোলে, সেটাই এখন দেখার।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *