০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home পশ্চিমবঙ্গ নিরাপত্তা উঠতেই পুরোপুরি হাওয়া দাপুটে কেষ্ট! জনরোষের ভয়েই কি বোলপুরের ঘরে খিল তুললেন অনুব্রত?
পশ্চিমবঙ্গ

নিরাপত্তা উঠতেই পুরোপুরি হাওয়া দাপুটে কেষ্ট! জনরোষের ভয়েই কি বোলপুরের ঘরে খিল তুললেন অনুব্রত?

Share
নিরাপত্তা উঠতেই পুরোপুরি হাওয়া দাপুটে কেষ্ট! জনরোষের ভয়েই কি বোলপুরের ঘরে খিল তুললেন অনুব্রত?
FILE IMAGE
Share

বোলপুর: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই চরম কোণঠাসা ঘাসফুল শিবির। আর সেই ভরাডুবির ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই এবার বীরভূমের রাজনীতিতে এককালের দাপুটে তৃণমূল জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলকে ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন তীব্র চাঞ্চল্য। 

[TECHTARANGA-POST:9693]

একসময় যাঁর ইশারায় কাঁপত গোটা রাঙামাটি, সেই কেষ্ট মণ্ডল এখন কার্যত ঘরবন্দি। দলীয় সূত্রের খবর, নতুন জমানায় পুলিশি নিরাপত্তা একঝটকায় পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর থেকেই তীব্র জনরোষের ভয়ে আর প্রকাশ্যে আসছেন না তিনি। বোলপুরের চণ্ডিদাস রোডে অবস্থিত জেলা তৃণমূলের যে হাইপ্রোফাইল কার্যালয়ে একসময় তিল ধারণের জায়গা থাকত না, সেই অফিস এখন কার্যত খাঁ খাঁ করছে। অনুব্রতের এই হঠাৎ বেপাত্তা হয়ে যাওয়া নিয়ে এখন তোলপাড় জেলা রাজনীতি।

[TECHTARANGA-POST:9698]

এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বীরভূমে তৃণমূলের সম্পূর্ণ নির্বাচনী প্রচার ও সাংগঠনিক কৌশল পরিচালিত হয়েছিল অনুব্রত মণ্ডল এবং তাঁর তৈরি জেলা কোর কমিটির প্রেসক্রিপশনে। কিন্তু ইভিএম খুলতেই দেখা যায় কেষ্টর সেই চেনা ম্যাজিক এবার সম্পূর্ণ ব্যর্থ। জেলার ১১টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ৬টিতেই বিপুল ভোটে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে বিজেপি। গত ৪ মে গণনার দিন সকালের দিকেও নিচুপট্টির জেলা কার্যালয়ে কর্মী-সমর্থকদের উপচে পড়া ভিড় থাকলেও, দুপুরের পর থেকে ফলাফলের ধারা স্পষ্ট হতেই সেই ভিড় কর্পূরের মতো উড়ে যায়। বিশেষ করে খোদ বোলপুর শহরেই তৃণমূল পিছিয়ে পড়ায় নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে তীব্র হতাশা তৈরি হয়। গণনার পর প্রথম কয়েকদিন অনুব্রত প্রতিদিন বিকেল সাড়ে চারটের পর পার্টি অফিসে এসে ঘণ্টা দুয়েক বসলেও, পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে এখন তিনি নিজেকে চার দেওয়ালের মধ্যে বন্দি করে ফেলেছেন।

[TECHTARANGA-POST:9677]

একসময় অনুব্রত মণ্ডলের নিরাপত্তার বহর দেখলে চোখ কপালে উঠত আমজনতার। কেন্দ্রের নতুন জমানার আগে পর্যন্ত তাঁর সুরক্ষায় থাকত ভিভিআইপি বা ‘ওয়াই-প্লাস’ ক্যাটাগরির নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সার্বক্ষণিক ১০ জন সশস্ত্র দেহরক্ষী, গাড়ির সামনে-পেছনে সাইরেন বাজানো পাইলট কার এবং বোলপুরের বাড়িতে স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প— কী ছিল না তাঁর দাপট বজায় রাখতে! কিন্তু রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পর কয়েক দিন আগেই সেই বিপুল নিরাপত্তা ধাপে ধাপে পুরোপুরি তুলে নেয় প্রশাসন। 

[TECHTARANGA-POST:9653]

প্রথমে দেহরক্ষীর সংখ্যা কমানো হয় এবং পরে বাড়ি থেকে শেষ পুলিশ কর্মীটিকেও সরিয়ে নেওয়া হয়। ব্যস, এই সরকারি রক্ষাকবচ সরতেই সম্পূর্ণ একা হয়ে পড়েছেন কেষ্ট। নিরাপত্তা প্রত্যাহারের পর থেকে অনুব্রতের পাশাপাশি জেলা কোর কমিটির অন্য চাঁইদেরও আর পার্টি অফিসের ত্রিসীমানায় দেখা মিলছে না। এই বিষয়ে অনুব্রত নিজে সংবাদমাধ্যমের কাছে মুখে কুলুপ আঁটলেও, রাজনৈতিক মহলের স্পষ্ট দাবি— জনরোষের ভয়েই এখন ঘরের বাইরে পা রাখার সাহস পাচ্ছেন না একদা বাঘে-গরুতে এক ঘাটে জল খাওয়ানো এই নেতা, যার জেরে বীরভূমের তৃণমূল সংগঠনও এখন পুরোপুরি অভিভাবকহীন ও নিস্তেজ হয়ে পড়েছে।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *