০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home কলকাতা এবার কি পুলিশের জালে বেলেঘাটার ডন? প্রাক্তন বিধায়ক পরেশ পালের ঘাড়ে সিবিআইয়ের চরম খাঁড়া!
কলকাতাপশ্চিমবঙ্গ

এবার কি পুলিশের জালে বেলেঘাটার ডন? প্রাক্তন বিধায়ক পরেশ পালের ঘাড়ে সিবিআইয়ের চরম খাঁড়া!

Share
এবার কি পুলিশের জালে বেলেঘাটার ডন? প্রাক্তন বিধায়ক পরেশ পালের ঘাড়ে সিবিআইয়ের চরম খাঁড়া!
FILE IMAGE
Share

কলকাতা: বঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই যেন এক নতুন অবতারে ধরা দিয়েছে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি। ভোট-পরবর্তী হিংসা ও খুনের মামলায় একের পর এক নেতার ডানা ছাঁটতে এক্কেবারে রুদ্র মেজাজে চলছে জোরকদমে ধড়পাকড়। 

[TECHTARANGA-POST:9723]

আর এই সাঁড়াশী অভিযানের মাঝেই এবার কি শ্রীঘরে যাওয়ার পালা বেলেঘাটার দাপুটে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক পরেশ পালের? এই প্রশ্নই এখন চড়চড় করে কাঁপিয়ে দিচ্ছে রাজ্য রাজনীতির পারদ। কারণ, এবার আর কোনও রাজনৈতিক সমীকরণ বা ঢিলেমি নয়, খোদ সিবিআই (CBI) আদালতের পক্ষ থেকে পরেশ পালের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার একপ্রকার স্পষ্ট গ্রিন সিগন্যাল বা সবুজ সংকেত দিয়ে দেওয়া হয়েছে। তদন্তে বা আদালতে হাজিরা এড়ালেই যে তাঁর বিপদ ১০০ গুণ বেড়ে যাবে এবং জারি হতে পারে গ্রেফতারি পরোয়ানা, তা কার্যত নিশ্চিত।

[TECHTARANGA-POST:9718]

এই গোটা আইনি নাটকের সূত্রপাত চাঞ্চল্যকর বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকার খুনের মামলাকে কেন্দ্র করে। সিবিআই আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল, এই হাই-প্রোফাইল খুনের মামলায় চার্জ গঠন করে মূল বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য গত ১ জুন পরেশ পালকে সশরীরে আদালতে উপস্থিত থাকতে হবে। কিন্তু আইনি খাঁড়া এড়াতে আর পাঁচজন নেতার মতোই শেষ মুহূর্তে ‘অসুস্থতার’ ঢাল ব্যবহার করে আদালতের হাজিরা এড়িয়ে যান এই প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক। তবে চাতুরী করে যে শেষ রক্ষা হচ্ছে না, তা আদালতের অনড় মনোভাব থেকেই পরিষ্কার। সিবিআই আদালত এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে আগামী ১১ জুন। আর ওই দিন যদি কোনওরকম ওজর-আপত্তি দেখিয়ে প্রাক্তন বিধায়ক এজলাসে হাজির না হন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আদালত সূত্রে চরম হুঁশিয়ারি মিলেছে।

[TECHTARANGA-POST:9699]

প্রসঙ্গত, বেলেঘাটার বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকারকে পিটিয়ে খুনের ঘটনায় সিবিআই যে চার্জশিট জমা দিয়েছিল, তাতে সরাসরি খুন ও ষড়যন্ত্রের মূলে এই পরেশ পালের নামই উল্লেখ করা হয়েছিল। সিবিআই-এর দাবি ছিল, খোদ এই হেভিওয়েট নেতার সরাসরি মদতেই ওই নৃশংস হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছিল। চার্জশিটে পরেশ পাল ছাড়াও তৃণমূল কাউন্সিলর স্বপন সমাদ্দার ও পাপিয়া ঘোষ-সহ মোট ১৮ জনের নাম জড়িয়েছিল। যদিও দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর ২০২৫ সালের অগস্ট মাসে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি জয় সেনগুপ্তের একক বেঞ্চ এক লক্ষ টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে পরেশ পাল, স্বপন সমাদ্দার ও পাপিয়া ঘোষদের শর্তসাপেক্ষ জামিন মঞ্জুর করেছিলেন। আদালত তখন জানিয়েছিল, সিবিআই চার্জশিট দিতে ৪ বছর সময় নিলেও অভিযুক্তরা তদন্তে সহযোগিতা করেছেন, তাই তাঁদের জামিন দেওয়া হচ্ছে।

[TECHTARANGA-POST:9667]

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিগত সরকারের আমলে যে সমস্ত দুঁদে নেতারা বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াতেন, রাজ্যে পালাবদলের পর আইন কিন্তু তাঁদের দিকেই নতুন করে চোখ রাঙাতে শুরু করেছে। জামিন পেলেও আদালতের ট্রায়াল বা বিচার প্রক্রিয়া শুরুর সময় অভিযুক্তের হাজিরা থাকা বাধ্যতামূলক। ফলে ১১ জুন পরেশ পাল যদি অসুস্থতার অজুহাতে ফের গরহাজির থাকেন, তবে আদালত তাঁর জামিন বাতিল করে সরাসরি সিবিআই-কে গ্রেফতারির সবুজ সংকেত দিয়ে দেবে। এখন দেখার, আগামী ১১ জুন বেলেঘাটার এই প্রাক্তন দাপুটে নেতা হুইলচেয়ারে করে আদালতে গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন, নাকি সিআইডি বা পুলিশের হাত ধরে সোজা শ্রীঘরের পথ ধরেন!

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *