০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home কলকাতা মৌচাকে ঢিল! বালি থেকে কয়লা পাচার, অবশেষে পুলিশের জালে দাপুটে ‘প্রভাবশালী’ তৃণমূল নেতা, এবার কোন বড় মাথার পালা
কলকাতাকলকাতাপশ্চিমবঙ্গ

মৌচাকে ঢিল! বালি থেকে কয়লা পাচার, অবশেষে পুলিশের জালে দাপুটে ‘প্রভাবশালী’ তৃণমূল নেতা, এবার কোন বড় মাথার পালা

Share
মৌচাকে ঢিল! বালি থেকে কয়লা পাচার, অবশেষে পুলিশের জালে দাপুটে 'প্রভাবশালী' তৃণমূল নেতা, এবার কোন বড় মাথার পালা
ছবি--প্রতীকী
Share

দুর্গাপুর: অজয় নদ থেকে কোটি কোটি টাকার বালি লুট থেকে শুরু করে খনি অঞ্চলের কয়লা পাচার— সিন্ডিকেট রাজের যে নামটা শুনলে থরথর করে কাঁপত গোটা এলাকা, অবশেষে সেই ‘প্রভাবশালী’ ডন পুলিশের জালে। বৃহস্পতিবার সকালে গোগলা অঞ্চলের দাপুটে তৃণমূল সভাপতি গৌতম ঘোষকে গ্রেপ্তার করল দুর্গাপুর-ফরিদপুর থানার পুলিশ। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক অপরাধমূলক সাম্রাজ্য চালানোর অভিযোগ উঠলেও প্রশাসনের হাত এড়িয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু শেষরক্ষা হলো না। বুধবার রাতে গোগলা এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে এই প্রভাবশালী নেতাকে পাকড়াও করে পুলিশ। এই হাই-ভোল্টেজ গ্রেপ্তারি ঘিরে শিল্পাঞ্চল জুড়ে চরম শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

[TECHTARANGA-POST:9734]

স্থানীয় বাসিন্দা এবং পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অজয় নদ থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন এবং পাচারের যে বিশাল নেটওয়ার্ক তৈরি হয়েছিল, তার অন্যতম প্রধান মস্তিস্ক ছিলেন এই গৌতম ঘোষ। দিনের পর দিন বুক ফুলিয়ে নদের বুক থেকে বালি লুট করা হলেও তাঁর দাপটে এতদিন প্রশাসনের চোখ বন্ধ ছিল বলেই অভিযোগ। শুধু বালি নয়, খনি এলাকা থেকে অবৈধভাবে কয়লা সরানোর চক্রের ওপরেও ছিল তাঁর একচ্ছত্র আধিপত্য। স্থানীয় মানুষের একাংশের দাবি, গৌতমের প্রভাব এতটাই মারাত্মক ছিল যে তাঁর বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস পেতেন না কেউ, সকলেই ভয়ে চুপ থাকতেন। এবার এই চক্রের শিকড়ে পৌঁছতে ধৃত তৃণমূল নেতাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ।

[TECHTARANGA-POST:9729]

গৌতম ঘোষের গ্রেপ্তারি নিয়ে ইতিমধ্যেই শাসকদল তৃণমূলকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের স্থানীয় নেতৃত্বের অভিযোগ, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ও পরে বিরোধী দলীয় কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা, মারধর, লাগাতার হুমকি এবং ভোটারদের ভয় দেখিয়ে প্রভাবিত করার পেছনে এই নেতার সক্রিয় ভূমিকা ছিল। বিজেপির দাবি, গৌতম শুধুমাত্র একজন অঞ্চল সভাপতি ছিলেন না, বরং গোটা এলাকায় গড়ে ওঠা কুখ্যাত সিন্ডিকেট রাজের আসল মাথা ছিলেন তিনি। তাঁর সবুজ সংকেত ছাড়া এলাকায় একটা পাতাও নড়ত না। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত নেতার বিরুদ্ধে অতীতে একাধিক সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জমা পড়েছিল এবং প্রাথমিক তদন্তে জোরালো প্রমাণ মিলতেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই গ্রেপ্তারি খনি ও বালি পাচার চক্রের আরও কোন কোন বড় রাঘববোয়ালের ঘুম উড়িয়ে দেয়, সেটাই এখন দেখার।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *