কলকাতা: কাঠফাটা রোদ আর প্যাচপ্যাচে ঘামের দিন শেষ, জুনের শুরুতেই চাতক পাখির মতো চাতক চাহনির অবসান ঘটিয়ে স্বস্তির বার্তা দিল আলিপুর আবহাওয়া দফতর। গত দু’দিনের টানা বৃষ্টিতে রাজ্যের তাপমাত্রার পারদ একধাক্কায় অনেকটাই নেমে গিয়েছে। রবিবার সকাল থেকেই তিলোত্তমার আকাশ মেঘলা, তবে বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভ্যাপসা গরমের একটা অস্বস্তি থাকলেও তা উধাও হতে বেশি সময় লাগবে না। কারণ, আবহাওয়াবিদদের ইঙ্গিত অনুযায়ী, গরমের দাপটকে এক্কেবারে খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিতে ধেয়ে আসছে ঝেঁপে বৃষ্টি ও কালবৈশাখী ঝড়। দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ইতিমধ্যেই কালবৈশাখীর চরম সতর্কতা জারি করা হয়েছে, যা রবিবার রাত থেকেই নিজের দাপট দেখাতে শুরু করবে।
[TECHTARANGA-POST:9794]
হাওয়া অফিসের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, আজ রবিবার সারাদিনই দক্ষিণবঙ্গের হাওড়া, নদীয়া, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণা এবং পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। মেঘ ভাঙা বৃষ্টির পাশাপাশি এই জেলাগুলিতে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। ঝড়ের আশঙ্কায় এই সমস্ত জেলাগুলোতে ইতিমধ্যেই আবহাওয়া দফতরের তরফে ‘হলুদ সতর্কতা’ জারি করা হয়েছে। ছুটির দিনে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিতে ভিজতে চলেছে কলকাতাও। তবে এখানেই শেষ নয়, আগামী সপ্তাহের শুরুতেই অর্থাৎ সোমবার থেকে গোটা বাংলাজুড়ে ঝড়-বৃষ্টির তীব্রতা ও দাপট আরও কয়েক গুণ বেড়ে যাবে বলে স্পষ্ট পূর্বাভাস দিয়েছে আলিপুর।
[TECHTARANGA-POST:9790]
দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গেও আজ থেকে বৃষ্টির দাপট হু হু করে বাড়বে। আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, আজ রবিবার থেকেই জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করে হলুদ অ্যালার্ট দেওয়া হয়েছে। তবে আসল খেল দেখাবে সোমবার, যেদিন আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়িতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কায় জারি করা হয়েছে ‘কমলা সতর্কতা’। মৌসম ভবনের মতে, বঙ্গোপসাগরের ওপর তৈরি হওয়া এই বিপুল দুর্যোগের নেপথ্যে রয়েছে একটি শক্তিশালী মৌসুমী অক্ষরেখা, যা বর্তমানে সুরতগড়, রোহতক, রাঁচি হয়ে ক্যানিং ছুঁয়ে সরাসরি উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর পাশাপাশি পূর্ব উত্তরপ্রদেশের ওপর একটি ঘূর্ণাবর্ত সক্রিয় থাকায় সমুদ্র থেকে প্রচুর পরিমাণ জলীয় বাষ্প ঢুকছে রাজ্যে। ফলস্বরূপ, বর্ষা ঢোকার আগেই প্রাক-বর্ষার এই তাণ্ডবে আপাতত স্বস্তির বৃষ্টিতে ভিজতে চলেছে গোটা বাংলা।
Leave a comment