০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home পশ্চিমবঙ্গ অপরাধ হস্টেল বন্ধ করার হাড়হিম ছক! ৭ বছরের শিশুকে বালতির জলে চুবিয়ে, ব্লেডে হাত কেটে নৃশংস খুন কৃষ্ণনগরে, ধৃত নবম শ্রেণীর ২ ‘দিদি’
অপরাধপশ্চিমবঙ্গ

হস্টেল বন্ধ করার হাড়হিম ছক! ৭ বছরের শিশুকে বালতির জলে চুবিয়ে, ব্লেডে হাত কেটে নৃশংস খুন কৃষ্ণনগরে, ধৃত নবম শ্রেণীর ২ ‘দিদি’

Share
হস্টেল বন্ধ করার হাড়হিম ছক! ৭ বছরের শিশুকে বালতির জলে চুবিয়ে, ব্লেডে হাত কেটে নৃশংস খুন কৃষ্ণনগরে, ধৃত নবম শ্রেণীর ২ ‘দিদি’
স্কুলে ঢুকছেন পুলিশকর্মীরা। ছবি সংগৃহীত
Share

কৃষ্ণনগর: পড়াশোনার পীঠস্থান সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের হস্টেলের অন্দরেই ঘটে গেল এক নারকীয় ও হাড়হিম করা হত্যাকাণ্ড। গরমের ছুটি কাটিয়ে সবে হস্টেলে ফিরেছিল প্রথম শ্রেণীর এক একরত্তি শিশু, কিন্তু মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নির্মমভাবে স্তব্ধ করে দেওয়া হলো তার জীবন। নদীয়ার কৃষ্ণনগরের একটি স্কুলের হস্টেলের শৌচাগার থেকে প্রথম শ্রেণীর এক ছাত্রীর রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা রাজ্যজুড়ে। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ হস্টেলেরই নবম শ্রেণীর দুই ছাত্রীকে আটক করেছে। পুলিশের ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়ে ইতিমধ্যেই ওই দুই কিশোরী নিজেদের অপরাধের কথা কবুল করেছে। একজন ৭ বছরের নিষ্পাপ শিশুর ওপর এমন পৈশাচিক অত্যাচার চালিয়ে খুনের পেছনের আসল কারণটি জানতে পেরে খোদ দুঁদে পুলিশ আধিকারিকদেরও রক্ত হিম হওয়ার জোগাড়।

[TECHTARANGA-POST:9809]

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ওই ছাত্রীর নাম সঞ্জনা সাহা (৭)। গত শুক্রবারই গরমের দীর্ঘ ছুটি শেষে মেয়েটিকে হস্টেলে দিয়ে গিয়েছিলেন তার বাবা। শনিবার ভোরে হস্টেলের শৌচাগারের ভেতর থেকে সঞ্জনার নিথর দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, শনিবার সকালে শৌচাগারে স্নান করতে গিয়েছিল ওই একরত্তি শিশুটি। ঠিক তখনই তার পিছু পিছু সেখানে ঢোকে নবম শ্রেণীর ওই দুই ছাত্রী। এর পর অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় সঞ্জনার মাথা ধরে শৌচাগারে থাকা বালতির জলের ভেতর চুবিয়ে ধরা হয়। দীর্ঘক্ষণ জলের তলায় শ্বাসরোধ করে মারার চেষ্টা করার পর, তার মৃত্যু নিশ্চিত করতে ব্লেড দিয়ে শিশুটির এক হাতের শিরা কেটে দেওয়া হয়। নৃশংস এই কাণ্ড ঘটানোর পর শৌচাগারের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে এবং রক্তাক্ত বালতিটি এক কোণে সরিয়ে দিয়ে স্বাভাবিকভাবে বেরিয়ে যায় দুই অভিযুক্ত। পরে হস্টেলের ওয়ার্ডেন খোঁজ করতে গিয়ে ওই শৌচাগারের মেঝেতে সঞ্জনাকে রক্তাক্ত ও নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।

[TECHTARANGA-POST:9791]

কিন্তু কেন ১৫-১৬ বছরের দুটো কিশোরী এমন ভয়ঙ্কর অপরাধ করতে গেল? কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার সুপার ওয়াই রঘুবংশী জানিয়েছেন, হস্টেলের আবাসিকদের জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় ওই দুই ছাত্রীর বয়ানে আকাশ-পাতাল অসঙ্গতি মেলে। এর পর কোমর বেঁধে টানা জেরা করতেই খুনের মূল উদ্দেশ্যটি সামনে আসে। অভিযুক্ত দুই ছাত্রী আসলে কোনোভাবেই ওই হস্টেলে থাকতে চাইছিল না, কিন্তু পরিবার তাদের জোর করে সেখানে রেখেছিল। তাদের ধারণা হয়েছিল, হস্টেলের ভেতরে যদি কোনো বড়সড় অপরাধ বা বিশৃঙ্খলা তৈরি করা যায়, তবে বদনামের ভয়ে কর্তৃপক্ষ হস্টেলটি চিরতরে বন্ধ করে দেবে এবং তারা বাড়ি ফিরে যেতে পারবে। এই বিকৃত মানসিকতার বশবর্তী হয়েই তারা এই খুন করে। যদিও সঞ্জনার বাবা অনিমেষ কুমার সাহা এই তত্ত্ব পুরোপুরি মেনে নিতে পারছেন না। তাঁর দাবি, হয়তো কোনো তীব্র নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ওই দুই ছাত্রী এই কাণ্ড ঘটিয়েছে, নয়তো এর পেছনে হস্টেল কর্তৃপক্ষের কোনো গভীর ষড়যন্ত রয়েছে। আপাতত স্কুল চত্বরে বহিরাগতদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করে ফরেনসিক দল দিয়ে তদন্তের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে কৃষ্ণনগর থানার পুলিশ।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *