০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home পশ্চিমবঙ্গ পাহাড়ে এবার মহাতদন্তের খাঁড়া! ১৬টি বোর্ডের সঙ্গে কাঁপবে জিটিএ-ও, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে বিঁধে বিস্ফোরক পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা
পশ্চিমবঙ্গ

পাহাড়ে এবার মহাতদন্তের খাঁড়া! ১৬টি বোর্ডের সঙ্গে কাঁপবে জিটিএ-ও, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে বিঁধে বিস্ফোরক পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা

Share
পাহাড়ে এবার মহাতদন্তের খাঁড়া! ১৬টি বোর্ডের সঙ্গে কাঁপবে জিটিএ-ও, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে বিঁধে বিস্ফোরক পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা
FILE IMAGE
Share

দার্জিলিং: ক্ষমতার পালাবদলের পর এবার পাহাড়ের রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব তোলপাড় শুরু হতে চলেছে। উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়েই বিগত সরকারের কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির কঙ্কাল বের করতে কোমর বেঁধে নামলেন রাজ্যের নতুন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। সোমবার সকাল থেকে পাহাড়ের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত চষে ফেলার পর তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, পূর্বতন মুখ্যমন্ত্রীর আমলে পাহাড়ের জনজাতিদের উন্নয়ন দেওয়ার নামে যে ১৬টি পৃথক বোর্ড গঠন করে বিপুল টাকা দেওয়া হয়েছিল, তার প্রতিটির পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত হবে। রেহাই পাবে না গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা জিটিএ-ও। পুরমন্ত্রীর এই বিস্ফোরক ঘোষণায় কার্যত কম্পন শুরু হয়েছে পাহাড়ের রাজনৈতিক অলিন্দে।

[TECHTARANGA-POST:9816]

সোমবার সকালে প্রথমেই মহাকাল মন্দিরে পুজো দিয়ে পাহাড়ের হালহকিকত খতিয়ে দেখার কাজে নেমে পড়েন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় সাংসদ রাজু বিস্তা। পাহাড়ের প্রধান ও দীর্ঘদিনের জ্বলন্ত সমস্যা হলো তীব্র জলসংকট। সেই সংকট মেটাতে রবিবার পুরসভাগুলির সঙ্গে ম্যারাথন বৈঠক সারার পর, সোমবার সকালেই মন্ত্রী সোজা পৌঁছে যান সিনচেল এলাকায়। সেখানে জল প্রকল্পের কাজ কতদূর এগোল, ইঞ্জিনিয়ারদের কাছ থেকে তার পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসেব নেন তিনি। এরপর হ্যাপি ভ্যালির একটি আইসিডিএস সেন্টার পরিদর্শন করে সেখানকার কর্মীদের সমস্যার কথা শোনেন। এরপর বিখ্যাত মিরিক লেকের সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ মন্ত্রী পর্যটকদের আরও আকর্ষণ করতে সেটিকে ওয়াইফাই জোনসহ নতুন রূপ দেওয়ার এক মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করেন। সেখান থেকে ইন্দো-নেপাল সীমান্তের পশুপতি মন্দির হয়ে তিনি পৌঁছন দুধিয়ায়, যেখানে গত বছর ভয়াবহ বন্যায় ভেঙে যাওয়া নতুন সেতুর কাজ আজও থমকে রয়েছে।

[TECHTARANGA-POST:9815]

সমস্ত এলাকা সরেজমিনে খতিয়ে দেখার পর বিগত তৃণমূল সরকারের তীব্র সমালোচনা করে চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ শানান অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি তোপ দেগে বলেন, আগের মুখ্যমন্ত্রী কেবল পাহাড়ে হাওয়া খেতে আসতেন, কাজের কাজ কিছুই করতেন না। তিনি পাহাড়ে যে ১৬টি জনজাতি বোর্ড গড়ে জলের মতো টাকা বিলিয়েছিলেন, এবার সেই সরকারি কোষাগারের পাই-পয়সার হিসাব দিতে হবে। দুর্নীতির প্রশ্নে জিটিএ-কেও রেয়াত করা হবে না বলে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন তিনি। এর পাশাপাশি পাহাড়বাসীকে আশ্বস্ত করে মন্ত্রী জানান, আমাদের সরকার স্রেফ ঘুরে বেড়াতে নয়, প্রকৃত উন্নয়ন করতে এসেছে। সিনচেলের ‘আমুত’ প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ হলেই পাহাড়ের জলকষ্ট চিরতরে মিটে যাবে।

[TECHTARANGA-POST:9814]

পাহাড়ের পরিকাঠামো উন্নয়নে একাধিক বড় ঘোষণা করে পুরমন্ত্রী জানান, ভেঙে পড়া দুধিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজটি আগামী ২০২৭ সালের মধ্যেই সম্পূর্ণ তৈরি করে ফেলা হবে। শুধু তাই নয়, গত বর্ষায় পাহাড়ের যেসব দুর্গত মানুষের ঘরবাড়ি ভেঙে গিয়েছিল এবং বিগত সরকারের উদাসীনতায় যাঁরা প্রতিশ্রুত ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকার মধ্যে মাত্র ৬০ হাজার টাকা পেয়ে থমকে ছিলেন, তাঁদের জন্য সুখবর শোনান মন্ত্রী। তিনি জানান, বকেয়া ৬০ হাজার টাকা যাতে দ্রুত গরিব মানুষদের হাতে পৌঁছে যায়, তার জন্য তিনি ইতিমধ্যেই কড়া নির্দেশ জারি করেছেন। সোমবার পাহাড়ের কাজ শেষ করে মঙ্গলবার তাঁর জলপাইগুড়ি রওনা হওয়ার কথা রয়েছে, যা ঘিরে উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে এখন টানটান পারদ।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *