০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home কলকাতা মধ্যরাতে পুলিশি অ্যাকশন! এবার শ্রীঘরে তৃণমূলের সব্যসাচী দত্ত, একের পর এক হেভিওয়েটের পতনে কাঁপছে রাজ্য রাজনীতি
কলকাতাকলকাতাপশ্চিমবঙ্গ

মধ্যরাতে পুলিশি অ্যাকশন! এবার শ্রীঘরে তৃণমূলের সব্যসাচী দত্ত, একের পর এক হেভিওয়েটের পতনে কাঁপছে রাজ্য রাজনীতি

Share
মধ্যরাতে পুলিশি অ্যাকশন! এবার শ্রীঘরে তৃণমূলের সব্যসাচী দত্ত, একের পর এক হেভিওয়েটের পতনে কাঁপছে রাজ্য রাজনীতি
এ বার গ্রেফতার সব্যসাচী দত্ত। ছবি-সংগৃহীত
Share

কলকাতা: রাতভর টানটান উত্তেজনা, আর তার পরেই মিলল চরম নাটকীয় পরিণতি। রাজ্য রাজনীতিতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে ঝাঁঝালো অভিযান শুরু হয়েছে, তার সাম্প্রতিকতম শিকার হলেন বিধাননগর পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা হেভিওয়েট তৃণমূল নেতা সব্যসাচী দত্ত। গভীর রাতে রাজারহাটের রাইগাছি এলাকায় তাঁর বাসভবনে অতর্কিতে হানা দেয় বিধাননগর উত্তর থানার বিশাল পুলিশবাহিনী। দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের পর তোলাবাজি ও হুমকির অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। ফলতার ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গির খানের নাটকীয় গ্রেফতারির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সব্যসাচীর এই পতন রাজ্য রাজনীতির অলিন্দে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

বিধাননগর পুরসভার ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সব্যসাচী দত্তের বিরুদ্ধে সল্টলেকের এক ব্যবসায়ী পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, এই তৃণমূল নেতা তাঁর কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা তোলা চেয়ে লাগাতার চাপ দিচ্ছিলেন এবং টাকা না দিলে ভয়াবহ পরিণতির হুমকিও দেওয়া হচ্ছিল। এই বিস্ফোরক অভিযোগের ভিত্তিতেই সোমবার রাতে কোমর বেঁধে আসরে নামে পুলিশ। গভীর রাতে সব্যসাচীর বাড়ি ঘিরে ফেলে তাঁকে প্রথমে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ম্যারাথন জেরার পর বয়ানে অসঙ্গতি মেলায় গভীর রাতেই তাঁকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ প্রশাসন।

মঙ্গলবার সকালে নিয়মমাফিক পুলিশি ঘেরাটোপে যখন সব্যসাচী দত্তকে মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজের ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। চেনা মেজাজে অভিযোগকারীর উদ্দেশ্যেই পালটা তির ছুড়ে সব্যসাচী দাবি করেন, যিনি তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন, তিনি নিজেই একজন দাগী অপরাধী। ২০১৮ সালে প্রতারণার মামলায় বিধাননগর উত্তর থানায় গ্রেফতার হয়েছিলেন ওই ব্যক্তি। সে সময় তাঁর পরিবারের লোকেরাই নাকি সব্যসাচীর কাছে এসে জামিনের জন্য তদ্বির করেছিলেন। তবে এই সাফাইয়ে যে বিশেষ লাভ হয়নি, তা স্পষ্ট। মেডিক্যাল পরীক্ষার পরেই তাঁকে বিধাননগর আদালতে তোলার তোড়জোড় শুরু হয়েছে।

রাজ্যে সরকার ও রাজনৈতিক সমীকরণের ভোলবদলের পর থেকেই দুর্নীতি দমনে এক অভূতপূর্ব তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। সোমবার সকালেই নেপাল সীমান্ত থেকে এসটিএফের জালে ধরা পড়েছেন ফলতার দাপুটে নেতা জাহাঙ্গির খান। আর তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শ্রীঘরে গেলেন সব্যসাচী। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, গত মাসে পুরনিয়োগ মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির হাতে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুর গ্রেফতারি এবং পরবর্তীতে তাঁর ঘনিষ্ঠ কাউন্সিলরদের গারদের ওপারে যাওয়ার ঘটনাই আসলে এই বড়সড় পতনের সূত্রপাত ছিল। একের পর এক ডমিনো ইফেক্টের মতো যেভাবে হেভিওয়েটরা পুলিশের জালে ধরা পড়ছেন, তাতে স্পষ্ট যে দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলতে প্রশাসন এখন কাউকেই রেয়াত করতে নারাজ।

[TECHTARANGA-POST:9811]

হিডেন স্টোরিজ নিউজ

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *