০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home ভ্রমণ বাংলার ‘হারানো আটলান্টিস’:কলকাতা থেকে মাত্র কয়েক ঘণ্টা দূরেই ঘুমিয়ে আছে এক প্রাচীন সভ্যতা!
ভ্রমণ

বাংলার ‘হারানো আটলান্টিস’:কলকাতা থেকে মাত্র কয়েক ঘণ্টা দূরেই ঘুমিয়ে আছে এক প্রাচীন সভ্যতা!

Share
বাংলার ‘হারানো আটলান্টিস’:কলকাতা থেকে মাত্র কয়েক ঘণ্টা দূরেই ঘুমিয়ে আছে এক প্রাচীন সভ্যতা!
AI GENERATED IMAGE
Share

এক সময় এই জায়গা ছিল বাংলার সবচেয়ে সমৃদ্ধ বন্দর নগরী। রোমান ব্যবসায়ীরা আসত এখানে, জাহাজ ভিড়ত নদীর ঘাটে, আর বাজারে রমরমিয়ে বিক্রি হত মণি-মুক্তো, সূক্ষ্ম মাটির শিল্প আর পৃথিবীর দুর্লভ সব সামগ্রী!

কলকাতা থেকে মাত্র কয়েক ঘণ্টার দূরত্বে, উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গায় মাটির নিচে আজও লুকিয়ে আছে দুই হাজার বছরেরও পুরোনো এক অপার রহস্য। যার নাম — চন্দ্রকেতুগড়।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মহাসড়ক: কী বলছে ইতিহাস?

সাম্প্রতিক খননকার্যে এখানে পাওয়া গেছে অসাধারণ সব টেরাকোটা (পোড়ামাটি) মূর্তি, প্রাচীন সিলমোহর এবং রোমান যুগের মুদ্রা। ইতিহাসবিদদের মতে, এই নিদর্শনগুলোই প্রমাণ করে যে চন্দ্রকেতুগড় কেবল একটি সাধারণ জনপদ ছিল না, বরং এটি ছিল আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। জলপথে গ্রিস, রোম এবং মিশরের মতো সুদূর সভ্যতার সাথে সরাসরি যোগাযোগ ছিল এই প্রাচীন বাংলার।

প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতক থেকে শুরু করে পাল বা সেন যুগ পর্যন্ত, অর্থাৎ প্রায় এক হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে এই সভ্যতা সগৌরবে টিকে ছিল।

উন্নত এক সভ্যতা হঠাৎ হারিয়ে গেল কেন?

বন্দর, ব্যবসা, শিল্প, উন্নত নগরপরিকল্পনা— সব মিলিয়ে যা ছিল এক ঈর্ষণীয় সভ্যতা, তা হঠাৎ করেই একদিন ইতিহাস থেকে সম্পূর্ণ মুছে গেল! কিন্তু কেন?

এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর আজও কুয়াশাচ্ছন্ন। ইতিহাসবিদদের মধ্যে এটি নিয়ে রয়েছে হাজারো মতবিরোধ। 

অনেকের মতে, বিদ্যাধরী নদীর গতিপথ পরিবর্তন বা কোনো প্রলয়ঙ্করী বন্যা এই উন্নত শহরকে মাটির নিচে চাপা দিয়ে দিয়েছিল।

 অন্য একটি দলের ধারণা, কোনো বড় মরণব্যাধি বা আকস্মিক বৈদেশিক আক্রমণ এই জনপদকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়।

কারণ যা-ই হোক না কেন, চন্দ্রকেতুগড়ের পতন আজও বাংলার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রহস্যগুলোর একটি।

কীভাবে যাবেন এই রহস্যের খোঁজে?

শহুরে ব্যস্ততা থেকে দূরে এক টুকরো প্রাচীন ইতিহাসের ছোঁয়া পেতে উইকএন্ডেই ঘুরে আসতে পারেন এখান থেকে। কলকাতা থেকে যাতায়াত একেবারেই সহজ। কলকাতার ধর্মতলা বা উল্টোডাঙা থেকে বাসে বা গাড়িতে চেপে প্রথমে পৌঁছান বেড়াচাঁপা। বেড়াচাঁপা মোড় থেকে অটো বা টোটো ধরলেই সরাসরি পৌঁছে যাবেন বিখ্যাত ‘খনা-মিহিরের ঢিপি’ এবং চন্দ্রকেতুগড়ের মূল ধ্বংসাবশেষে।

আজই পরিকল্পনা করুন আর নিজের চোখে দেখে আসুন মাটির নিচে ঘুমিয়ে থাকা এক প্রাচীন বাংলার গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়!

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *