০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home কলকাতা আইন-কানুন বুলডোজার অ্যাকশনে বিরাট ব্রেক! রেলের হকার উচ্ছেদ নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের এমন নির্দেশে তোলপাড় রাজ্য!
আইন-কানুনকলকাতাপশ্চিমবঙ্গ

বুলডোজার অ্যাকশনে বিরাট ব্রেক! রেলের হকার উচ্ছেদ নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের এমন নির্দেশে তোলপাড় রাজ্য!

Share
বুলডোজার অ্যাকশনে বিরাট ব্রেক! রেলের হকার উচ্ছেদ নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের এমন নির্দেশে তোলপাড় রাজ্য!
AI GENERATED IMAGE
Share

কলকাতা: রেলের জমিতে বুলডোজার চালিয়ে হকার উচ্ছেদ অভিযানে এবার এক ধাক্কায় বসে গেল বড়সড় ব্রেক। বিগত বেশ কিছুদিন ধরেই রাজ্যের বিভিন্ন স্টেশনে যেভাবে হকারদের দোকানপাট ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছিল, তা নিয়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। এই উচ্ছেদ অভিযানের বিরুদ্ধেই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন শয়ে শয়ে হকার। বুধবার বালিগঞ্জ, বারুইপুর, যাদবপুর, ডানকুনি, বনগাঁ সহ মোট ২৫টি স্টেশনের হকার উচ্ছেদের মামলা জড়ো হয়েছিল আদালতে। আর সেখানেই রেল কর্তৃপক্ষকে কার্যত কড়া বার্তা দিয়ে এক বড়সড় স্বস্তির নির্দেশ শোনাল কলকাতা হাইকোর্ট।

[TECHTARANGA-POST:10049]

আদালতের এই রায় ঘিরে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে ওয়াকিবহাল মহলে। বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, চলতি জুন মাস পর্যন্ত হকারদের বিরুদ্ধে কোনওরকম কঠোর পদক্ষেপ বা উচ্ছেদ করা যাবে না। শুধু তাই নয়, রেলের উচ্ছেদ প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা নিয়েও একাধিক প্রশ্ন তুলেছে আদালত। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, আগামী দিনে রেল যাদের উচ্ছেদ করতে চায়, তাদের আগে থেকে নোটিস দিতে হবে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, উচ্ছেদের আগে হকারদের পুনর্বাসনের জন্য বিকল্প জায়গার বিষয়টি রেলকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে এবং তা আদালতকে জানাতে হবে। এমনকি যে সমস্ত জায়গায় উচ্ছেদের নোটিস দেওয়া হয়েছে, সেগুলি আদেও রেলের জমি কি না, তা ফিজিক্যাল ভেরিফিকেশন বা সশরীরে খতিয়ে দেখে আগামী দিনে কোর্টে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

[TECHTARANGA-POST:10028]

আদালতে হকারদের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে প্রবীণ আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য ও ফিরদৌস শামিম রেলের এই আকস্মিক ভূমিকার তীব্র বিরোধিতা করেন। বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য সওয়াল করেন যে, যেভাবে হঠাৎ করে বুলডোজার পাঠিয়ে গরিব মানুষদের রুটি-রুজি কেড়ে নেওয়া হচ্ছে, তা আসলে নাগরিকদের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। রাষ্ট্র কখনও নিজের দেশের নাগরিকদের সঙ্গে শত্রুর মতো আচরণ করতে পারে না। হাজার হাজার পরিবার এই ঠেলা গাড়ি বা ঝুপড়ি দোকানের ওপর নির্ভর করে সংসার চালায়। জীবন ও কর্মসংস্থানের অধিকার এভাবে কেড়ে নেওয়া যায় না। সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, দশকের পর দশক ধরে যখন কেউ রেলের জমিতে বসছেন এবং তখন বাধা দেওয়া হয়নি, তখন হুট করে এভাবে তাঁদের উচ্ছেদ করা যায় না। আতঙ্কে হকাররা রাত জেগে দোকান পাহারা দিচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

[TECHTARANGA-POST:10024]

পাল্টা সওয়ালে বিচারপতি অবশ্য প্রশ্ন তোলেন যে, রেলের প্ল্যাটফর্ম বা যাতায়াতের জায়গা দখল হলে রেল কি ব্যবস্থা নেবে না? বৈধ লাইসেন্স থাকা সত্ত্বেও উচ্ছেদ করা হয়েছে এমন কোনও প্রমাণ আছে কি না, তাও জানতে চান বিচারপতি। এর জবাবে আইনজীবী ফিরদৌস শামিম আদালতকে জানান, বারুইপুরে ১৯৯৫ সাল থেকে লাইসেন্স নিয়ে থাকা ৪০টি পরিবারকে কোনও সই বা তারিখ ছাড়াই উচ্ছেদের নোটিস দেওয়া হয়েছে। এমনকি স্টেশন থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে ডানকুনিতে যেখানে ৩২টি পরিবারের দোকান ও বাসস্থান রয়েছে, সেখানেও নোটিস পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে রেলের আইনজীবী ধীরজ ত্রিবেদী দাবি করেন, ১৮৮১ সালে জমি কেনার ন্যূনতম দাম জমা দেওয়ার নোটিস দেওয়া হলেও আজ পর্যন্ত কেউ তা দেননি। তবে দু’পক্ষের সওয়াল-জবাব শেষে আপাতত চলতি মাসের জন্য উচ্ছেদ অভিযানে স্থগিতাদেশ দিয়ে হকারদের বড়সড় স্বস্তি দিল কলকাতা হাইকোর্ট।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *