০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home পশ্চিমবঙ্গ অপরাধ ‘মার্ডার করে দিয়েছি, লাশ তুলে নিয়ে যা!’ বিজেপি কর্মীকে পিটিয়ে খুনের পর পরিবারকে চরম হুমকি খুনিদের?
অপরাধপশ্চিমবঙ্গ

‘মার্ডার করে দিয়েছি, লাশ তুলে নিয়ে যা!’ বিজেপি কর্মীকে পিটিয়ে খুনের পর পরিবারকে চরম হুমকি খুনিদের?

Share
‘মার্ডার করে দিয়েছি, লাশ তুলে নিয়ে যা!’ বিজেপি কর্মীকে পিটিয়ে খুনের পর পরিবারকে চরম হুমকি খুনিদের?
ছবি সংগৃহীত
Share

হাওড়া: “মার্ডার করে দিয়েছি, এবার এসে বডি তুলে নিয়ে যা!”— বুধবার গভীর রাতে ফোনের ওপার থেকে ভেসে আসা এই হাড়হিম করা কণ্ঠস্বর শুনে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল গোটা পরিবার। রাজনৈতিক হিংসার এক চরম নৃশংস রূপ দেখল হাওড়ার বাগনান। বাগনানের সন্তোষপুর এলাকায় বুধবার রাতে এক বিজেপি কর্মীকে পিটিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠল তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে গোটা এলাকা। মৃত বিজেপি কর্মীর নাম প্রশান্ত দে (৩৯)। তিনি বাগনান ৫ নম্বর মণ্ডলের ১৯৭ নম্বর বুথের সহ-সভাপতি ছিলেন। খুনের এই নৃশংস ঘটনার পর ইতিমধ্যেই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এবং পুলিশ এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

ডেপুটেশন দিতে গিয়েই হাতে উঠল লাল পতাকা! সামসেরগঞ্জে বাম শিবিরে যোগদানের হিড়িক

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রের খবর, বুধবার রাত সাড়ে আটটা নাগাদ বাড়ি থেকে বেরিয়ে অন্য দলীয় কর্মীদের সঙ্গে সন্তোষপুরের একটি অনুষ্ঠান বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন প্রশান্তবাবু। অভিযোগ, সেই সময়ই সন্তোষপুর এলাকায় আচমকা তাঁদের পথ আটকায় লাঠি, রড ও ধারালো অস্ত্রে সজ্জিত একদল দুষ্কৃতী। কিছু বুঝে ওঠার আগেই প্রশান্তবাবু এবং তাঁর সঙ্গীদের ওপর অতর্কিতে হামলা চালানো হয়। লোহার রড এবং লাঠির বেধড়ক ঘায়ে ঘটনাস্থলেই রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন প্রশান্ত দে। তাঁর সঙ্গ থাকা আরও তিন বিজেপি কর্মীও এই হামলায় গুরুতর জখম হন। ঘটনার পর জখমদের উদ্ধার করে বাগনান গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা প্রশান্তবাবুকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। বাকি তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের কলকাতার একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

[TECHTARANGA-POST:10062]

এই ঘটনার পরেই রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে উঠেছে। বিজেপির দাবি, সন্তোষপুরের ওই এলাকাতেই হাল্লান গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল উপপ্রধান মফিজুলের বাড়ি, এবং তাঁর মদতেই এই পরিকল্পিত খুন করা হয়েছে। অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে তৃণমূলের পাল্টাদাবি, বিজেপি কর্মীরাই উল্টে উপপ্রধানের বাড়িতে চড়াও হয়ে হামলা চালিয়েছিল। হাওড়া গ্রামীণের এসপি অমিত ভার্মা জানিয়েছেন, খুনের অভিযোগ পাওয়া মাত্রই পুলিশ তৎপরতার সঙ্গে তদন্তে নেমে ৫ জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই শ্যামপুর-বাগনান রাস্তার বাঁটুল এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *