০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home কলকাতা মমতা-যুগ কি শেষ? সুপ্রিমোকে সরিয়ে তৃণমূলের নতুন অল-ইন-অল অরূপ রায়! ২০ মিনিটের অপারেশনে ইতিহাস বদলালেন ঋতব্রত!
কলকাতাপশ্চিমবঙ্গসাক্ষাৎকার

মমতা-যুগ কি শেষ? সুপ্রিমোকে সরিয়ে তৃণমূলের নতুন অল-ইন-অল অরূপ রায়! ২০ মিনিটের অপারেশনে ইতিহাস বদলালেন ঋতব্রত!

Share
মমতা-যুগ কি শেষ? সুপ্রিমোকে সরিয়ে তৃণমূলের নতুন অল-ইন-অল অরূপ রায়! ২০ মিনিটের অপারেশনে ইতিহাস বদলালেন ঋতব্রত!
ছবি সংগৃহীত
Share

নিউটাউন: বাংলার রাজনীতিতে এই মুহূর্তে ঘটে গেল শতাব্দীর সবচেয়ে বড় মহাবিস্ফোরণ! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের হাতে তৈরি করা দল তৃণমূল কংগ্রেসের রাশ আনুষ্ঠানিকভাবে চলে গেল নতুন শিবিরের হাতে। দল গঠনের পর এই প্রথমবার স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই সভানেত্রীর পদ থেকে ছেঁটে ফেলা হলো! সোমবার নিউটাউনের পাঁচতারা হোটেল নোভোটেলে আয়োজিত এক রুদ্ধদ্বার অধিবেশনে ঘটল এই ঐতিহাসিক পটপরিবর্তন। দলের ৬০ জন বিধায়ক এবং কলকাতা পুরসভার অন্তত ৭০ জন হেভিওয়েট কাউন্সিলরের উপস্থিতিতে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নতুন ‘চেয়ারম্যান’ হিসেবে নির্বাচিত করা হলো মধ্য হাওড়ার দাপুটে বিধায়ক অরূপ রায়কে। মাত্র ২০ মিনিটের এক ঝোড়ো অপারেশনে বিদ্যুতের গতিতে খোলনলচে বদলে ফেলা হলো ঘাসফুল শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্বের।

[TECHTARANGA-POST:10172]

বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরেই এদিন এই মেগা অভ্যুত্থান ঘটে। বৈঠকের শুরুতেই দলের আইনি ও ‘সাংবিধানিক সংকটের’ মারাত্মক তথ্য তুলে ধরেন ঋতব্রত। তিনি স্পষ্ট জানান, তৃণমূলের দলীয় সংবিধানের ২০ নম্বর ধারা অনুযায়ী প্রতি তিন বছর অন্তর ন্যাশনাল ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করা বাধ্যতামূলক, যা নির্বাচন কমিশনের কাছেও দায়বদ্ধতার বিষয়। কিন্তু শেষবার ২০২২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি এই কমিটি গড়া হয়েছিল। তারপর তিন বছর কেটে গেলেও নতুন কোনও কমিটি গঠন না করায় দল তীব্র আইনি সংকটে ভুগছিল। আর সেই সংকট কাটাতেই জরুরি ভিত্তিতে এই মেগা বৈঠক ডেকে মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে তিরিশ জনের নতুন ন্যাশনাল ওয়ার্কিং কমিটি তৈরি করে ফেলা হয়।

ধুলিয়ানে বাম শিবিরে প্রত্যাবর্তন, সিপিআই(এম)-এ যোগ দিলেন প্রবীণ নেতা ইউসুফ হোসেন

নতুন ওয়ার্কিং কমিটির প্রথম ১০ জনের নাম ঘোষণা হতেই বোঝা যাচ্ছিল ক্ষমতার অলিন্দে বড়সড় সুনামি আসতে চলেছে। এই তালিকায় অরূপ রায়, ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, বিপ্লব মিত্রদের মতো শীর্ষ স্তরের নেতাদের নাম রাখা হয়। এর পরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরিয়ে অরূপ রায়কে দলের চেয়ারম্যান করার চূড়ান্ত প্রস্তাব পেশ করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, যা উপস্থিত বিধায়ক ও কাউন্সিলরদের প্রবল ধ্বনি ভোটে পাশ হয়ে যায়। চেয়ারম্যান পদে বসেই নিজের সংক্ষিপ্ত বিজয়ী বক্তৃতাও দিয়ে দেন অরূপ রায়। একই সঙ্গে নতুন কমিটির রাজ্য সভাপতি এবং চার জন হাইপ্রোফাইল সহ-সভাপতির নামও ঘোষণা করা হয়। এই মেগা কমিটিতে সহ-সভাপতি হয়েছেন ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, রথীন ঘোষ এবং সাবিনা ইয়াসমিন।

[TECHTARANGA-POST:10159]

নতুন এই সমীকরণে দলের সাধারণ সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদের চাবিকাঠি নিজের হাতে রেখেছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সঙ্গে রয়েছেন জাভেদ খান ও সন্দীপন সাহা। এখানেই শেষ নয়, বৈঠকের শেষে ঋতব্রত এক বড় ঘোষণা করে জানান, রাজ্য কমিটির নতুন কোষাধ্যক্ষ বা ক্যাশিয়ারের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে রঘুনাথগঞ্জের বিধায়ক আখরুজ্জামান আনসারিকে। পাশাপাশি, পূর্বতন জমানায় তৃণমূলের দলীয় তহবিলে এবং টাকার অঙ্কে কোনও বড়সড় আর্থিক অনিয়ম বা জালিয়াতি হয়েছে কিনা, তা চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে একজন পেশাদার অডিটর নিয়োগের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলের শীর্ষ পদ থেকে সরিয়ে নতুন কমিটির এই আত্মপ্রকাশ আগামী দিনে বাংলার ক্ষমতা ও দলীয় রাজনীতির ভাগ্যকে কোন দিকে মোড় ঘোরায়, এখন সেটাই দেখার।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *