০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home কলকাতা ‘নিজে বহিষ্কৃত হয়ে মমতাকে তাড়াবে? হাসি পাচ্ছে!’ ঋতব্রতকে ‘চাটন ঋত’ ও ‘গদ্দার’ বলে তুলোধনা কুণাল ঘোষের!
কলকাতাপশ্চিমবঙ্গ

‘নিজে বহিষ্কৃত হয়ে মমতাকে তাড়াবে? হাসি পাচ্ছে!’ ঋতব্রতকে ‘চাটন ঋত’ ও ‘গদ্দার’ বলে তুলোধনা কুণাল ঘোষের!

Share
‘নিজে বহিষ্কৃত হয়ে মমতাকে তাড়াবে? হাসি পাচ্ছে!’ ঋতব্রতকে ‘চাটন ঋত’ ও ‘গদ্দার’ বলে তুলোধনা কুণাল ঘোষের!
FILE IMAGE
Share

কলকাতা: নিউটাউনের পাঁচতারা হোটেলে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তৃণমূলের সভানেত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার যে দাবি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠী করেছে, তা নিয়ে এবার বেনজির মহাবিস্ফোরণ ঘটল কালীঘাট শিবিরে। শতাব্দীর সবচেয়ে বড় এই রাজনৈতিক অভ্যুত্থানের খবর চাউর হতেই ক্ষোভে-ফেটে পড়লেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক তথা দলের হেভিওয়েট নেতা কুণাল ঘোষ। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে নজিরবিহীন ভাষায় আক্রমণ শানিয়ে কুণাল সাফ জানিয়ে দিলেন, একজন নিজে যে দল থেকে বহিষ্কৃত, সে নাকি আবার অন্য কাউকে বহিষ্কার করার নাটক করছে! একে চরম বেআইনি ও হাস্যকর আখ্যা দিয়ে ঋতব্রতকে ‘গদ্দার’ ও ‘দালাল’ বলে তোপ দেগেছেন তিনি।

[TECHTARANGA-POST:10177] রাজ্য বাজেটে জনকল্যাণের ছাপ, স্বাগত সুকান্ত মজুমদারের

সোমবার নোভোটেল হোটেলের বৈঠকে অরূপ রায়কে ‘আসল’ তৃণমূলের নতুন চেয়ারম্যান ঘোষণা করার পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে আদি তৃণমূল শিবির। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কুণাল ঘোষ চাঁচাছোলা ভাষায় বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নাকি দল থেকে অপসারিত করা হয়েছে! এই কথা শুনলে আমাদের শুধুই হাসি পায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোনও পদের মোহতাজ নন, তিনি মানুষের হৃদয়ের নেত্রী। আর ঋতব্রত তো নিজেই দল থেকে বহু আগে বহিষ্কৃত হয়েছে। ও আসলে চাটন ঋত। মায়ের মতো এই নেত্রীর প্রতি এমন জঘন্য অসম্মানের জবাব আগামী দিনে এ রাজ্যের মানুষই কড়ায়-গণ্ডায় বুঝিয়ে দেবে।”

মাত্র ২০ মিনিটের অপারেশনে দলের নতুন সুপ্রিমো অরূপ রায়, নোভোটেলের বৈঠকে একী কাণ্ড!

ভোটের ফল এদিক-ওদিক হতেই ঋতব্রতপন্থী নেতারা যেভাবে ভোল বদলেছেন, তা নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেন কুণাল ঘোষ। তিনি দাবি করেন, আজ যখন দলের সাধারণ কর্মীরা বিভিন্ন জায়গায় আক্রান্ত হচ্ছেন, তখন এঁরা ক্ষমতার লোভে অন্যদের হাতে তামাক খাচ্ছেন এবং পিছন থেকে তৃণমূলের পিঠে সশরীরে ছুরি মারছেন। তাঁর কথায়, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি আজ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী থাকতেন, তাহলে আজ যারা দল দখলের নাটক করছে, এরাই সারাদিন দিদি দিদি করে তাঁর পিছু পিছু ঘুরে বেড়াত। ফাইভ স্টার হোটেলে গিয়ে ওরা যত খুশি মিটিং করুক না কেন, তাতে আমাদের বিন্দুমাত্র কিছু যায় আসে না। আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বেই ছিলাম এবং আজীবন তাঁর নেতৃত্বেই থাকব।”

[TECHTARANGA-POST:10164]

ঋতব্রতর অতীত স্মরণ করিয়ে দিয়ে কুণাল ঘোষ এক মারাত্মক বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস করেন। তিনি অভিযোগ করেন, “যে দল এবং যে অ্যাকাউন্টের টাকা খারাপ ও বেআইনি বলে ও এখন নির্বাচন কমিশনে চিঠি পাঠিয়েছে, ঠিক তার মাত্র এক মাস আগেই সেই অ্যাকাউন্টের টাকা নিয়েই ও নিজে লোকসভা নির্বাচন লড়েছে। তখন সেই টাকাটা খারাপ ছিল না? আর আজ ক্ষমতা হারাতেই সেটা খারাপ টাকা হয়ে গেল? তোমরা যদি এতটাই বাপের ব্যাটা হও, তাহলে নিজেদের ক্ষমতায় লড়াই করো। তা না করে অন্যের টাকায় ফাইভ স্টার হোটেলে গিয়ে কেন বৈঠক করতে বসছ? তার মানেই পরিষ্কার যে এর পিছনে বড় কোনও ষড়যন্ত্র ও অন্য কারও আর্থিক মদত রয়েছে। এরা আসলে দালালি করতে নেমেছে।” কুণাল ঘোষ স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তৃণমূল মানেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এই দুই সত্ত্বাকে আলাদা করা অসম্ভব এবং এই বেইমানির বিরুদ্ধে সমগ্র বাংলা খুব শীঘ্রই গর্জে উঠবে।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *