কলকাতা: আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাসকে সত্যি করে মঙ্গলবার দুপুর থেকেই আকাশ কালো করে ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নামল কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায়। মেঘের গর্জন আর মুহুর্মুহু বজ্রপাতে কার্যত থমকে গিয়েছে তিলোত্তমা।
‘দিদি’-র হাত ছাড়ছেন বালু? ঋতব্রতর সঙ্গে গোপন বৈঠক ঘিরে কাঁপছে বাংলা!
বৃষ্টির সঙ্গেই দাপট দেখিয়েছে ঝোড়ো হাওয়া, যার গতিবেগ কোথাও কোথাও ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটারে পৌঁছে যায়। কলকাতার ধর্মতলা এবং কলকাতা হাই কোর্ট চত্বরে ঝড়ের দাপটে প্রকাণ্ড গাছ উপড়ে পড়ার খবর মিলেছে, যার জেরে অফিস ও স্কুল-কলেজ ছুটির ব্যস্ত সময়ে শহরের বিস্তীর্ণ এলাকায় যান চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন বাড়িফেরত সাধারণ মানুষ, পড়ুয়া ও অভিভাবকেরা। ডাফরিন রোডে একটি অস্থায়ী মূর্তিও ঝড়ের তাণ্ডবে ভেঙে পড়েছে বলে জানা গিয়েছে।
[TECHTARANGA-POST:10198]
আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, আজ কলকাতা ছাড়াও হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদিয়া এবং পুরুলিয়ায় বৃষ্টি হয়েছে। তবে দুর্যোগ এখানেই শেষ নয়, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়ায় ঝড়ের তীব্রতা বেশি থাকার কারণে এই সাত জেলায় কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক জলসীমা ও উপকূলবর্তী সমুদ্রে ঘণ্টায় প্রায় ৬০ কিলোমিটার গতিবেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। সেই কারণে আগামী বুধবার পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়ার ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আলিপুর হাওয়া অফিস। আগামী সোমবার পর্যন্ত কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে এই বিক্ষিপ্ত ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকলেও, তাপমাত্রা খুব একটা হেরফের হবে না বলেই জানা গিয়েছে।
[TECHTARANGA-POST:10180]
দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতেও আগামী সোমবার পর্যন্ত টানা বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। মালদহ ও দুই দিনাজপুর সহ উত্তরবঙ্গের আট জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ ও ঝোড়ো হাওয়ার হলুদ সতর্কতা জারি রয়েছে। বিশেষ করে দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারের মতো পাহাড়ি জেলাগুলিতে ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সপ্তাহান্তে বৃষ্টির পরিমাণ আরও বেড়ে ৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটারে পৌঁছাতে পারে, যার ফলে পাহাড়ে ধস নামার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। উত্তরবঙ্গের জন্য ইতিমধ্যেই জারি করা হয়েছে কমলা সতর্কতা। সব মিলিয়ে গোটা রাজ্য জুড়েই আগামী কটা দিন প্রকৃতির রুদ্ররূপ বজায় থাকবে বলে মনে করছেন আবহবিদরা।
Leave a comment