তারাতলা বিপর্যয়ে উদ্ধারকাজ চলাকালীনই আচমকা আবহাওয়ার বড় পরিবর্তনে ফের জটিল হয়ে উঠল পরিস্থিতি। ভরদুপুরেই আকাশ কালো করে নামে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ প্রবল বৃষ্টি। মুহুর্মুহু বজ্রপাত ও ঝোড়ো হাওয়ার জেরে কমে যায় দৃশ্যমানতা, যার ফলে সাময়িকভাবে থমকে যায় উদ্ধার অভিযান।
১০ লক্ষের কেলেঙ্কারি নয়, ৩০০ প্লটের জাল বিছিয়েছিলেন অভিষেকের পিএ!
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখা ঝাড়খণ্ড হয়ে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশার উপর বিস্তৃত রয়েছে। তার প্রভাবে সোমবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
[TECHTARANGA-POST:10271]
এদিন সকাল থেকেই উদ্ধারকাজে কোনও বিরতি ছিল না। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়া শ্রমিকদের খোঁজে মোট দশটি জায়গায় একসঙ্গে ভার্টিকাল ড্রিলিং চালানো হয়। ভারী মেশিনারি ও আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে দ্রুতগতিতে ধ্বংসাবশেষ সরানোর চেষ্টা চলছিল। কিন্তু দুপুর প্রায় ১টা নাগাদ হঠাৎই বদলে যায় আবহাওয়া। মুহূর্তের মধ্যে আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায়, ভরদুপুরেই নেমে আসে ঘন অন্ধকার। শুরু হয় প্রবল বৃষ্টিপাতের সঙ্গে বজ্রপাত। ঝোড়ো হাওয়ায় দৃশ্যমানতা একেবারেই কমে যায়। প্রতিকূল আবহাওয়ার জেরে বাধ্য হয়েই সাময়িকভাবে থমকে যায় উদ্ধারকাজ। ভারী যন্ত্রপাতির কাজও কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ রাখতে হয়। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেই ফের উদ্ধার অভিযান শুরু করা হবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।
[TECHTARANGA-POST:10273]
উল্লেখ্য, বুধবার বেলা ১২টা ৭ মিনিট নাগাদ তারাতলায় একটি নির্মীয়মাণ কারখানা হঠাৎ ভেঙে পড়ে। ওই সময় প্রায় ৪০ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়। ঘটনার পরপরই পুলিশ, দমকল, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং সেনা উদ্ধারকাজে নামে। রাজ্য প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে যান একাধিক মন্ত্রী। পরিস্থিতির উপর নিয়মিত নজর রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। আহতদের দেখতে তিনি এসএসকেএম হাসপাতালেও যান এবং দ্রুত উদ্ধারকাজ সম্পূর্ণ করার নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিবের তত্ত্বাবধানে রাতভর চলে উদ্ধার অভিযান। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় মোট ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
Leave a comment