কলকাতা: প্রতি বছর ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসকে কেন্দ্র করে কলকাতার প্রাণকেন্দ্র ধর্মতলা লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। কিন্তু ২০২৬ সালের রাজনৈতিক সমীকরণে এবার সেই চেনা ছবিতে পড়তে চলেছে দাঁড়ি। ২১ জুলাই ধর্মতলায় আর কোনোভাবেই সভা করা যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিল কলকাতা পুলিশ।
[TECHTARANGA-POST:10413]
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘কালীঘাট তৃণমূল’ এবং পাল্টা দাবিদার ‘ঋতব্রত তৃণমূল’— দুই পক্ষকেই লালবাজারের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, ধর্মতলার মতো অত্যন্ত ব্যস্ত এলাকায় রাস্তা আটকে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়। পুলিশের এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্তে দুই শিবিরের ‘জমি’-যুদ্ধে এক ঝটকায় ইতি পড়ে গেল।
[TECHTARANGA-POST:10434]
অনুমতি মেলার আগেই রবিবার ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে ফিতে নিয়ে মণ্ডপের মাপজোক করতে পৌঁছে গিয়েছিলেন কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের কুণাল ঘোষ ও দোলা সেনরা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার বিধানসভায় তীব্র ক্ষোভপ্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
সুতিতে পুলিশের বড় সাফল্য! ৫৫৮ বোতল ফেনসিডিল-সহ গ্রেফতার যুবক
কুণালদের কড়া ভাষায় কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “ফিতে নিয়ে মাপতে চলে গিয়েছেন! কোথায় সভা করবেন আমি বলে দেব।” একই সঙ্গে তাঁর খোঁচা, “আপনাদের সভায় তো লক্ষ লক্ষ লোক হবে, ব্রিগেডে চলে যান।” মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরই ধর্মতলায় যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করার অভিযোগে দোলা-কুণালদের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করে পুলিশ, যার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এল সভার নিষেধাজ্ঞা।
[TECHTARANGA-POST:10418]
দল ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যাওয়ার পর এবার আদৌ শহিদ দিবস হবে কি না, তা নিয়ে খোদ ঘাসফুল শিবিরের অন্দরেই সংশয় ছিল। তবে গত বৃহস্পতিবার কুণাল ঘোষের এক সভায় লাউডস্পিকারে বার্তা দিয়ে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কর্মীদের ধর্মতলায় সমবেত হওয়ার নির্দেশ দেন। নিজেদের আসল তৃণমূল দাবি করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরও একই জায়গায় সভার জন্য পুলিশের দ্বারস্থ হয়।
[TECHTARANGA-POST:10419]
তবে লালবাজারের আপত্তিতে গত ৩৩ বছরের রেওয়াজ (ব্যতিক্রমী কয়েক বছর বাদে) এবার বড় ধাক্কা খেল। এই নির্দেশের পর কালীঘাট শিবিরের শুভাশিস চক্রবর্তী জানিয়েছেন, তাঁরা এখনও আনুষ্ঠানিক চিঠি পাননি, তাই এখনই মন্তব্য করবেন না। অন্যদিকে ঋতব্রত শিবিরের মুখ্যসচেতক আখরুজ্জামান জানান, মানুষের অসুবিধা না করে তাঁরা শহিদ দিবস পালন করবেনই, তবে পরবর্তী স্থান নিয়ে আলোচনার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
Leave a comment