০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home কলকাতা ভোটার লিস্ট থেকে ছাঁটাই, বঙ্গে আসছে দিল্লির হাইভোল্টেজ কমিটি! অনুপ্রবেশ রুখতে এবার ‘মাস্টারস্ট্রোক’ শুভেন্দুর
কলকাতাপশ্চিমবঙ্গ

ভোটার লিস্ট থেকে ছাঁটাই, বঙ্গে আসছে দিল্লির হাইভোল্টেজ কমিটি! অনুপ্রবেশ রুখতে এবার ‘মাস্টারস্ট্রোক’ শুভেন্দুর

Share
ভোটার লিস্ট থেকে ছাঁটাই, বঙ্গে আসছে দিল্লির হাইভোল্টেজ কমিটি! অনুপ্রবেশ রুখতে এবার ‘মাস্টারস্ট্রোক’ শুভেন্দুর
এ আই নির্মিত ছবি
Share

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের জনবিন্যাস পরিবর্তন এবং বেআইনি অনুপ্রবেশ রুখতে এবার একযোগে কোমর বেঁধে ময়দানে নামছে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার। আগামী ৭ জুলাই দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সঙ্গে নবান্নের এক চরম গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হতে চলেছে। সেখানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের পাশাপাশি সশরীরে উপস্থিত থাকবেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার জোকায় ভারত সেবাশ্রম হাসপাতালের একটি অনুষ্ঠান থেকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, অনুপ্রবেশের শিকড় উপড়ে ফেলতে এবং রাজ্যের জনবিন্যাসের ভারসাম্য বজায় রাখতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর গাইডলাইন মেনেই যৌথভাবে একগুচ্ছ কড়া পদক্ষেপ করতে চলেছে তাঁর সরকার।

[TECHTARANGA-POST:10524]

রাজ্যে অনুপ্রবেশ রুখতে ইতিমধ্যেই প্রথম ধাপের কাজ যে অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে, সে কথা মনে করিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, বিগত ৪৫ দিনের মধ্যে সীমান্ত এলাকায় বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তর করা হয়েছে এবং ১২টি স্পর্শকাতর জায়গায় তৈরি হয়েছে বিশেষ ‘হোল্ডিং স্টেশন’। এই স্টেশনগুলির মারফত ইতিমধ্যে প্রায় ১০ হাজার অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করে সীমান্ত পার ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়েছে এবং বর্তমানে আরও দেড় হাজার মানুষ সেখানে আটক রয়েছে। এখন থেকে সীমান্ত এলাকার থানাগুলি অনুপ্রবেশকারীদের জেলে না পাঠিয়ে সরাসরি এই হোল্ডিং স্টেশনে পাঠাচ্ছে, যেখান থেকে নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক প্রোটোকল মেনে তাদের নিজেদের দেশে ফেরত দেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি সীমান্ত এলাকার ভোটার তালিকা স্ক্রিনিং করে বাদ পড়া ও ভুয়ো নামগুলি বাদ দেওয়ার কাজও যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে।

[TECHTARANGA-POST:10511]

বাংলায় অনুপ্রবেশের প্রকৃত গভীরতা এবং আসল সত্য মানুষের সামনে আনতে এক বিশাল পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আগামী ১ আগস্ট থেকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল মাধ্যমে রাজ্যে জাতিগত জনগণনা শুরু হতে চলেছে। এই বিশেষ সেনসাসে সাধারণ মানুষের জন্য ‘সেলফ ডিক্লারেশন’ বা স্ব-ঘোষণার ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হবে ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে। এই ডিজিটাল সেনসাসের পুঙ্খানুপুঙ্খ চিত্র সামনে এলেই অনুপ্রবেশকারীদের সম্পূর্ণ চিহ্নিত করা এবং তাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া অনেক সহজ হবে বলে দাবি নবান্নের।

[TECHTARANGA-POST:10503]

অন্যদিকে, বাংলার জনবিন্যাসের মারাত্মক পরিবর্তন নিয়ে তথ্যতালাশ করতে খুব শীঘ্রই রাজ্যে পা রাখছে কেন্দ্রের উচ্চ পর্যায়ের একটি বিশেষ কমিটি। প্রথম দফায় দেশের একাধিক রাজ্যের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গকেও পাখির চোখ করেছে এই কমিটি। সফরের ঠিক আগেই বুধবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বাসভবনে কমিটির সদস্যরা একটি হাইপ্রোফাইল বৈঠক সারেন। সূত্রের খবর, রাজ্য সরকার ও জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের জন্য ইতিমধ্যেই একটি নিরেট প্রশ্নমালা তৈরি করে ফেলেছে দিল্লি। বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় জনবিন্যাসের রদবদল, অবৈধ অনুপ্রবেশের বাড়বাড়ন্ত এবং তার সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রভাবের বাস্তব মূল্যায়ন করাই এই কমিটির মূল লক্ষ্য। নতুন সরকারের জমানায় কেন্দ্রের এই হাইভোল্টেজ কমিটির সফর যে বাংলার রাজনৈতিক মহলে এক নতুন ঝড় তুলতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *