০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home কলকাতা ‘আমি পড়াব, আগে দেখি তুমি কতটা ভাবতে পারো’ – ভাইরাল প্রশ্নপত্রের নেপথ্যে যাদবপুরের শিক্ষাদর্শ
কলকাতাপশ্চিমবঙ্গশিক্ষাঙ্গনসোশ্যাল মিডিয়া

‘আমি পড়াব, আগে দেখি তুমি কতটা ভাবতে পারো’ – ভাইরাল প্রশ্নপত্রের নেপথ্যে যাদবপুরের শিক্ষাদর্শ

Share
'আমি পড়াব, আগে দেখি তুমি কতটা ভাবতে পারো' - ভাইরাল প্রশ্নপত্রের নেপথ্যে যাদবপুরের শিক্ষাদর্শ
ছবি--প্রতীকী
Share

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের স্নাতক স্তরের প্রবেশিকা পরীক্ষার একটি প্রশ্নপত্র সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। সিলেবাসভিত্তিক বা মুখস্থ নির্ভর প্রশ্নের বদলে সেখানে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে অনুভূতি, পর্যবেক্ষণ এবং সৃজনশীল চিন্তাকে। কেন এমন প্রশ্ন করা হয়, সেই ব্যাখ্যাই দিলেন বাংলা বিভাগের অধ্যাপক রাজ্যেশ্বর সিনহা ও জয়দীপ ঘোষ।

[TECHTARANGA-POST:10593]

অধ্যাপক রাজ্যেশ্বর সিনহার কথায়, এই পরীক্ষার উদ্দেশ্য কোনও পড়ুয়ার মুখস্থ জ্ঞান যাচাই করা নয়। বরং একজন ছাত্র বা ছাত্রীর নিজের মতো করে ভাবার ক্ষমতা এবং সেই ভাবনাকে ভাষার মাধ্যমে প্রকাশ করার দক্ষতাই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, “কিছুই পড়ে আসতে হবে না, কারণ আমি তোমাকে পড়াব। আগে দেখতে চাই তুমি কতটা ভাবতে পারো এবং সেই ভাবনাকে কতটা প্রকাশ করতে পারো।” তিনি আরও জানান, যাদবপুরে শুধু কলকাতা বা শহরের নয়, গ্রাম, পাহাড়, জঙ্গল কিংবা সমুদ্র উপকূলের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পড়ুয়ারা ভর্তি হতে আসেন। সবার আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি এক নয়। 

[TECHTARANGA-POST:10591]

তাই এমন প্রশ্ন রাখা হয়, যাতে বই পড়ার সুযোগ কম পাওয়া কোনও পড়ুয়াও নিজের অভিজ্ঞতা, সংবেদনশীলতা এবং চিন্তার জোরে উত্তর লিখতে পারে।

PM আবাসের ঘর পাইয়ে দেওয়ার নামে প্রতারণা? সামসেরগঞ্জে তৃণমূল সদস্য গ্রেপ্তার

একই সুর শোনা যায় অধ্যাপক জয়দীপ ঘোষের বক্তব্যেও। তাঁর মতে, এই ধরনের প্রশ্নের কোনও নির্দিষ্ট উত্তর হয় না। একই প্রশ্নের উত্তর একেকজন একেকভাবে লিখতে পারেন, আর সেই বৈচিত্র্যই এই পরীক্ষার সবচেয়ে বড় শক্তি। তিনি জানান, ভর্তি প্রক্রিয়ায় উচ্চমাধ্যমিকের নম্বর থেকেই পড়ুয়ার পাঠ্যজ্ঞান মূল্যায়ন করা হয়।

[TECHTARANGA-POST:10580]

 প্রবেশিকা পরীক্ষার মাধ্যমে দেখা হয়, পাঠ্যবইয়ের বাইরের পৃথিবীকে একজন কীভাবে দেখছেন এবং নিজের ভাষায় তা কতটা সহজ ও স্বাভাবিকভাবে প্রকাশ করতে পারছেন। অধ্যাপক জয়দীপ আরও বলেন, জীবনানন্দ দাশের কবিতার বিশ্লেষণের মতো প্রশ্ন না রেখে প্রকৃতি, সমাজ বা দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা ঘিরে প্রশ্ন করা হয়, যাতে প্রত্যেক পরীক্ষার্থী সমান সুযোগ পান। প্রতি বছর খাতা মূল্যায়নের সময় অনেক উত্তর তাঁদের বিস্মিতও করে। সেই উত্তরগুলিই প্রমাণ করে, ভালো লেখার জন্য সবসময় প্রচুর বই নয়, প্রয়োজন সংবেদনশীল মন এবং স্বাধীনভাবে ভাবার ক্ষমতা।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *