বারুইপুরে ১২ বছরের নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় কড়া অবস্থান নিল রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই ঘটনায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়া হয়েছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ‘ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট’ (সর্বোচ্চ শাস্তি) চেয়ে প্রয়োজনীয় সুপারিশ করবে রাজ্য। তাঁর কথায়, “পরিবার যেমন বিচার চেয়েছে, ঠিক তেমনই বিচার পাবে। কাউকে ছাড়া হবে না।”
[TECHTARANGA-POST:10651]
সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, তিনি ইতিমধ্যেই নির্যাতিতার বাবার সঙ্গে কথা বলেছেন। তদন্তের জন্য বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে। পলাতক অভিযুক্তদের সঙ্গে ধৃতদের যোগাযোগের প্রমাণও মিলেছে বলে দাবি করেন তিনি। মঙ্গলবার বারুইপুর পুলিশ সুপারের দফতরে গিয়ে তদন্তের অগ্রগতি খতিয়ে দেখবেন বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, নাবালিকা নিখোঁজ হওয়ার পর স্থানীয় পুলিশ যথাযথ পদক্ষেপ না নিয়ে থাকলে বা কারও গাফিলতি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্যাতিতার পরিবার যা যা সহায়তা চাইবে, সরকারের সাধ্য অনুযায়ী সবরকম সাহায্য করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যেই দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং আরও তিনজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
‘দোষী প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ শাস্তি, কাউকে ছাড়বে না সরকার’— সুকান্ত মজুমদার
উল্লেখ্য, গত শনিবার বিকেলে খাবার কিনতে বেরিয়ে নিখোঁজ হয় ১২ বছরের ওই কিশোরী। রবিবার বাড়ির কাছের একটি পুকুর থেকে তার দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের অভিযোগ, চার যুবক তাকে অপহরণ করে ধর্ষণের পর খুন করেছে। ঘটনার পরই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। বিক্ষোভ, পথ অবরোধ ও রেল অবরোধে অচল হয়ে যায় পরিস্থিতি। খুনে অভিযুক্ত সন্দেহে গণপিটুনিতে এক ব্যক্তির মৃত্যুও হয়েছে।
[TECHTARANGA-POST:10628]
এদিকে, নাবালিকার প্রাথমিক ময়নাতদন্তের রিপোর্টে ধর্ষণ ও নৃশংস শারীরিক নির্যাতনের প্রমাণ মিলেছে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে খুনের মামলার পাশাপাশি কঠোর POCSO আইনের ধারাও যুক্ত করেছে পুলিশ। ধৃত দুই অভিযুক্তকে আদালতে পেশ করে ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতের আবেদন করা হয়েছে। তদন্তকারীরা আরও এক অভিযুক্তের খোঁজে বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছেন।
Leave a comment