১৪ বছর আগে বুনো হাতির হামলায় বাবা-মাকে হারিয়েছিলেন। সেই দুঃসহ স্মৃতি থেকে বাঁচতে বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র বসবাস শুরু করেছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস যে একই বুনো হাতির হামলায় এবার প্রাণ গেল তাঁর বউমা এবং চার বছরের নাতির। রবিবার নেপালের চিতওয়ান এলাকায় ঘটে যাওয়া এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ফের সামনে আনল মানুষ-বন্যপ্রাণ সংঘাতের ভয়াবহ চিত্র।
[TECHTARANGA-POST:10685]
ঘটনার সূত্রপাত ২০১২ সালের ডিসেম্বরে। নেপালের মাদি এলাকার বারুয়া বাজারে বাস করতেন শনিচারা বোটে। সে সময় চিতওয়ান ন্যাশনাল পার্কের কুখ্যাত বুনো মদ্দা হাতি ‘ধুরবে’-র হামলায় মৃত্যু হয় তাঁর বাবা বুধিরাম বোটে এবং মা ঝারালির। এরপর পরিবারের নিরাপত্তার কথা ভেবে পৈতৃক ভিটে ছেড়ে রাপ্তি নদীর পাড়ে জগতপুর এলাকায় নতুন করে বসবাস শুরু করেন শনিচারা। কিন্তু তাতেও শেষরক্ষা হয়নি। গত রবিবার ফের সেই ‘ধুরবে’-র হামলায় মৃত্যু হয়েছে শনিচারার ২৫ বছরের বউমা আশিকা বোটে এবং চার বছরের নাতি ভরত বোটের। পুলিশ স্টেশনে মৃতদেহ নিতে এসে ভেঙে পড়েন শনিচারা। তাঁর কথায়, “বুনো হাতির ভয়ে সবকিছু বিক্রি করে অন্যত্র চলে এসেছিলাম। ভেবেছিলাম, নদী পেরিয়ে এলে আর বিপদ হবে না। কিন্তু ১৪ বছর পর একই হাতি আবার আমার পরিবারকে শেষ করে দিল।”
শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মজয়ন্তীতে বিশ্ব বাংলা মেলা প্রাঙ্গণে অমিত শাহ
চিতওয়ান ন্যাশনাল পার্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ‘ধুরবে’ দীর্ঘদিন ধরেই অত্যন্ত আক্রমণাত্মক স্বভাবের। ২০১০ সাল থেকে লোকালয়ে ঢুকে হামলা চালানো শুরু করে সে। এখনও পর্যন্ত অন্তত ২৫ জনের মৃত্যুর জন্য এই হাতিকেই দায়ী করা হচ্ছে। ২০১২ সালে তাকে গুলি করে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হলেও সে জঙ্গলে পালিয়ে যায়। কয়েক বছর নিখোঁজ থাকার পর ২০১৬ সালে ফের লোকালয়ে ফিরে হামলা শুরু করে। ন্যাশনাল পার্কের কর্মীদের মতে, ছোটবেলায় মায়ের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার কারণেই ধুরবের আচরণ অস্বাভাবিকভাবে আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন ঘটনা বন্য হাতিদের মধ্যে হিংস্র আচরণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হতে পারে। তবে ১৪ বছর পর একই পরিবারের উপর একই হাতির এমন ভয়াবহ হামলা নেপালজুড়ে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
Leave a comment