০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home বিশ্বকাপ - ২০২৬ খেলা আর্জেন্টিনার রূপকথা নাকি ভিএআর-এর কারসাজি? মেসিদের কামব্যাকের রাতে বলির পাঁঠা কি তবে মিশর?
খেলাবিনোদনবিশ্ববিশ্বকাপ - ২০২৬

আর্জেন্টিনার রূপকথা নাকি ভিএআর-এর কারসাজি? মেসিদের কামব্যাকের রাতে বলির পাঁঠা কি তবে মিশর?

Share
আর্জেন্টিনার রূপকথা নাকি ভিএআর-এর কারসাজি? মেসিদের কামব্যাকের রাতে বলির পাঁঠা কি তবে মিশর?
ছবি সংগৃহীত
Share

ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই আবেগ, নাটকীয়তা আর অনিশ্চয়তার মিশেল। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনা–মিশর ম্যাচের পর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে রেফারিং ও ভিএআর (VAR)। প্রশ্ন উঠছে—ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরের সৌন্দর্য কি এখন বিতর্কের আড়ালে চাপা পড়ছে? আর সেই বিতর্কের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী কি মিশর?

রাউন্ড অব ১৬-এ আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মিশর ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল। ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে মিশরের আরেকটি গোল ভিএআর পর্যালোচনার পর বাতিল করা হয়। এরপর সম্ভাব্য একটি পেনাল্টির দাবিও নাকচ হয়। সেই বিতর্কের রেশ কাটার আগেই শেষ মুহূর্তে তিন গোল করে ৩-২ ব্যবধানে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, প্রাক্তন ফুটবলার এবং বিশ্লেষকদের একাংশ রেফারিং নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন।

[TECHTARANGA-POST:10728]

মিশরের কোচ হোসাম হাসান ম্যাচ শেষে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তার দল ন্যায্য বিচার পায়নি। মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও ম্যাচ পরিচালনা নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে।

তবে এখানেই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা জরুরি। বিতর্ক থাকলেও এখন পর্যন্ত ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি যে ম্যাচ পরিচালনায় কোনো অনিয়ম বা পক্ষপাতিত্ব হয়েছে। ফলে “মিশরের সঙ্গে অবিচার হয়েছে”—এটি এখনো অভিযোগের পর্যায়েই রয়েছে, প্রমাণিত সত্য নয়।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি প্রথম নয়। ১৯৬৬ সালের ফাইনালের বিতর্কিত গোল, ২০১০ সালে ইংল্যান্ডের ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ডের বাতিল গোল, ২০২২ বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডস–আর্জেন্টিনা ম্যাচের রেফারিং—প্রতিবারই রেফারির সিদ্ধান্ত ফুটবলের চেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রযুক্তির উন্নতি হলেও বিতর্ক যেন কমেনি; বরং ভিএআর-এর ব্যাখ্যা ও প্রয়োগ নিয়েই নতুন প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।

[TECHTARANGA-POST:10729]

বিশ্বকাপে ভিএআর চালুর মূল উদ্দেশ্য ছিল মানবিক ভুল কমানো এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করা। কিন্তু যখন একই ম্যাচে একটি দলের দাবি বারবার উপেক্ষিত হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে, তখন প্রযুক্তির নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দেয়। বিশেষ করে বড় দল ও জনপ্রিয় তারকাদের ম্যাচে এই বিতর্ক আরও বেশি গুরুত্ব পায়।

আর্জেন্টিনা অবশ্য মাঠে শেষ পর্যন্ত দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করেছে। শেষ ১৩ মিনিটে তিন গোল করে তারা জয়ের কৃতিত্বও অর্জন করেছে। কিন্তু সেই ক্রীড়ানৈপুণ্যের পাশাপাশি ম্যাচ-পরবর্তী আলোচনার বড় অংশ জুড়ে রয়েছে রেফারির সিদ্ধান্ত। ফলে আর্জেন্টিনার অসাধারণ কামব্যাকের গল্পও অনেকটা চাপা পড়েছে বিতর্কের নিচে।

সব মিলিয়ে প্রশ্ন একটাই—বিশ্বকাপের মতো সর্বোচ্চ মঞ্চে কি রেফারিং বিতর্ক বারবার ফুটবলের সৌন্দর্যকে ম্লান করে দিচ্ছে? মিশর সত্যিই বলির পাঠা হয়েছে কি না, তার চূড়ান্ত উত্তর হয়তো ভবিষ্যতের তদন্ত বা বিশ্লেষণ দেবে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—যখন দর্শকরা খেলার চেয়ে রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে বেশি আলোচনা করেন, তখন ফুটবলই সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়ে।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *