নয়াদিল্লি: দিল্লির ২৪ আকবর রোডের সুবিশাল লাটিয়েন্স বাংলো নিয়ে এবার সামনে এল এক চরম চাঞ্চল্যকর তথ্য। দেশের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় কংগ্রেস গত ১৩ বছর ধরে ওই ঐতিহাসিক সরকারি বাংলোটি কার্যত বেআইনিভাবে দখলে রেখে দিয়েছে এবং ২০১৩ সালের পর থেকে তার কোনও ভাড়াই মেটানো হয়নি! এক বিস্ফোরক আরটিআই (RTI) রিপোর্টে এই তথ্য ফাঁফাস হতেই দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। তবে এর চেয়েও বড় আশ্চর্যের বিষয় হলো, দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বকেয়া থাকা এই বিলাসবহুল বাংলোর ভাড়া বাবদ কংগ্রেসের কাছে ঠিক কত টাকা সরকারের পাওনা রয়েছে, সেই হিসাব খোদ কেন্দ্রীয় সরকারের আবাসন মন্ত্রকের কাছেও নেই!
[TECHTARANGA-POST:10745]
আরটিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯২ সালে সরকারিভাবে এই ২৪ আকবর রোডের বাংলোটি অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটির নামে বরাদ্দ করা হয়েছিল। নিয়ম মেনে ২০১০ সালে কংগ্রেসকে নতুন সদর দপ্তর তৈরির জন্য আলাদা জমিও দেয় কেন্দ্র এবং বলা হয় ৩ বছরের মধ্যে অর্থাৎ ২০১৩ সালের মধ্যে আকবর রোডের চাবি সরকারের হাতে বুঝিয়ে দিতে হবে। সেই নির্দেশিকা মেনে ২০১৩ সালেই এই বাংলোর বরাদ্দ খাতায়-কলমে খারিজ হয়ে গেলেও, বাস্তবে হাত শিবির কোনও না কোনও অজুহাতে বাংলোটি ছাড়েনি। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, গত মাসেই মোদী সরকারের আবাসন মন্ত্রক বাড়িটি খালি করার চূড়ান্ত নোটিস দিলেও কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব বিজেপির অলিন্দে আলোচনা চালিয়ে বাংলোটি এখনও ধরে রেখেছে। কিন্তু এর বকেয়া ভাড়া কত? আরটিআইয়ের জবাবে কেন্দ্রের আবাসন দপ্তর অদ্ভুতভাবে জানিয়েছে, এই বিপুল দেনার “হিসাবনিকেশ এখনও চলছে!” তবে শুধু কংগ্রেস নয়, দিল্লিতে বিজেপির দুটি প্রধান দপ্তরের বকেয়া ভাড়ার তথ্যও দিতে ব্যর্থ হয়েছে মন্ত্রক।
[TECHTARANGA-POST:10739]
রাজনৈতিক মহলে ২৪ আকবর রোড মানেই এক বিপুল ইতিহাস। একসময় যন্তরমন্তর রোড থেকে দল চালালেও, ১৯৭৮ সালে ইন্দিরা গান্ধী কংগ্রেস ভেঙে কংগ্রেস (আই) গড়ার পর তাঁর অনুগামীরা এই আকবর রোডের বাংলো থেকেই নতুন লড়াই শুরু করেছিলেন। বিগত প্রায় চার দশক ধরে এটিই দেশের প্রাচীনতম রাজনৈতিক দলের স্নায়ুকেন্দ্র। মূল দলের অফিস ছাড়াও এখানে রয়েছে সেবা দল, রাইসিনা রোডের যুব কংগ্রেস কার্যালয় এবং চাণক্যপুরীর কংগ্রেসের বিশেষ আবাসন। যদিও অতি সম্প্রতি কংগ্রেসের মূল কাজকর্ম কোটলা রোডের নবনির্মিত ‘ইন্ধিরা ভবন’-এ স্থানান্তরিত হয়েছে, তবুও ঐতিহাসিক আকবর রোডের এই ঠিকানা হাতছাড়া করতে নারাজ সোনিয়া-রাহুলরা। এখন দেখার, এই বিপুল বকেয়া ভাড়ার অংক সামনে আসার পর আইনি পথে হাত শিবিরকে উচ্ছেদ করতে কেন্দ্র কী পদক্ষেপ নেয়।
Leave a comment