০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home কলকাতা ভিক্টোরিয়ার কোলে রাজকীয় এন্ট্রি ‘দুর্গা’-র! খাস কলকাতার বুকে অবিশ্বাস্য কাণ্ড ঘটাল মেগা মেট্রো
কলকাতাভ্রমণরাজনীতি

ভিক্টোরিয়ার কোলে রাজকীয় এন্ট্রি ‘দুর্গা’-র! খাস কলকাতার বুকে অবিশ্বাস্য কাণ্ড ঘটাল মেগা মেট্রো

Share
ভিক্টোরিয়ার কোলে রাজকীয় এন্ট্রি ‘দুর্গা’-র! খাস কলকাতার বুকে অবিশ্বাস্য কাণ্ড ঘটাল মেগা মেট্রো
ছবি সংগৃহীত
Share

কলকাতা: কলকাতা মেট্রোর মুকুটে জুড়ল আরও একটি গৌরবময় পালক। খাস তিলোত্তমার বুকে জোকা-এসপ্ল্যানেড (পার্পল লাইন) মেট্রো প্রকল্পের আন্ডারগ্রাউন্ড সুড়ঙ্গ তৈরিতে এল এক নজিরবিহীন ও ঐতিহাসিক সাফল্য। মাত্র এক বছরের রেকর্ড সময়ের মধ্যে খিদিরপুর থেকে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল মেট্রো স্টেশন পর্যন্ত প্রথম পর্যায়ের সুড়ঙ্গ খোঁড়ার কাজ সাফল্যের সঙ্গে শেষ করল দানবাকৃতি আধুনিক টানেল বোরিং মেশিন (TBM) ‘দুর্গা’। এর ফলে ভিক্টোরিয়ার ঠিক কোল ঘেঁষে তৈরি হয়ে গেল পার্পল লাইনের প্রথম দফার মেগা টানেল, যা কলকাতার যোগাযোগ ব্যবস্থার ইতিহাসে এক মস্ত বড় মাইলফলক।

[TECHTARANGA-POST:10803]

কলকাতা মেট্রো রেল কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, খিদিরপুর থেকে পার্ক স্ট্রিট পর্যন্ত ২.৬৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যুগল সুড়ঙ্গ তৈরির গুরুদায়িত্ব কাঁধে নিয়েছে চেন্নাই থেকে আনা দুটি দানবীয় টিবিএম, যার একটির নাম ‘দুর্গা’ এবং অন্যটির নাম ‘দিব্যা’। ৯০ থেকে ৯৫ মিটার লম্বা এবং প্রায় ৬০০ থেকে ৬৫০ টন ওজনের এই নতুন প্রজন্মের টিবিএমগুলি অত্যন্ত শক্তিশালী। প্রতি মিনিটে ৮০ মিলিমিটার গতিতে মাটি ফুঁড়ে এগিয়ে যাওয়ার আশ্চর্য ক্ষমতা রয়েছে এগুলির। বর্তমানে ভূপৃষ্ঠ থেকে ১৭ মিটার গভীরে কাজ চলছে। ‘দুর্গা’ এগিয়ে চলেছে পার্ক স্ট্রিটের অভিমুখে, আর ‘দিব্যা’ ব্যস্ত রয়েছে জোকামুখী সুড়ঙ্গ তৈরিতে। মেট্রো কর্তৃপক্ষ আশা করছে, ২০২৬ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই ‘দুর্গা’-র অংশের সুড়ঙ্গ খনন সম্পূর্ণ হয়ে যাবে এবং আগামী ২০২৭ সালের মার্চ মাসে ‘দিব্যা’-র ব্রেকথ্রু মিলবে।

সামসেরগঞ্জে আগ্নেয়াস্ত্র সহ গ্রেপ্তার যুবক! এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার, বড় সাফল্য পুলিশের

কলকাতার ভূগর্ভের মাটির চরিত্র বেশ জটিল। সেই কথা মাথায় রেখেই এই নতুন মেশিন দুটিকে বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে। মেট্রো রেলের শীর্ষ আধিকারিকরা জানিয়েছেন, মাটির নিচে কাজ করার সময় যাতে কোনওরকম ধস বা ফাটলের মতো বড় বিপত্তি না ঘটে, তার জন্য এই টিবিএমগুলিতে যুক্ত করা হয়েছে ইনফ্লেটেবল সিল, প্রেসার ট্রান্সডিউসার, টেল স্কিন গ্রিস (টিএসজি) লাইনের মত উচ্চমানের আধুনিক বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি। এমনকি ব্যাকআপ হিসেবে রাখা হয়েছে অতিরিক্ত টিএসজি পাম্পও। ফলে খিদিরপুরের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এবং ভিক্টোরিয়ার মতো হেরিটেজ চত্বরের নিচ দিয়ে কাজ চললেও মাটির উপরে তার বিন্দুমাত্র প্রভাব পড়তে দেওয়া হয়নি।

[TECHTARANGA-POST:10743]

বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমতি না পাওয়ায় আটকে ছিল চিংড়িঘাটা মেট্রো প্রকল্পের কাজ। কিন্তু রাজ্যে সরকার বদল হতেই দীর্ঘদিনের সেই জটিল জট নিমেষে কেটে যায়। নতুন প্রশাসনের সবুজ সংকেত মিলতেই নবান্ন ও মেট্রোর যৌথ উদ্যোগে প্রায় যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু হয়। দু’দফায় মেট্রোর লাইন জোড়ার কাজ কার্যত রেকর্ড গতিতে শেষ করা হয়েছে। এই বিপুল কর্মকাণ্ড সম্পন্ন করতে মেট্রো ইঞ্জিনিয়ারদের সময় লেগেছে ১২০ ঘণ্টারও কম, যা এক কথায় অবিশ্বাস্য! আইনি ও প্রশাসনিক জট কাটিয়ে এবার যেভাবে কলকাতার ভূগর্ভে কাজ এগোচ্ছে, তাতে জোকা-এসপ্ল্যানেড রুটে দ্রুত মেট্রো ছোটানোর স্বপ্নপূরণ এখন শুধুই সময়ের অপেক্ষা।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *