০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home ভারতবর্ষ অপরাধ সফর শেষে পকেটে পুরছেন রেলের সম্পত্তি! চার বছরে এসি ট্রেন থেকে উধাও কোটি কোটি কম্বল-তোয়ালে
অপরাধআরও খবরভারতবর্ষ

সফর শেষে পকেটে পুরছেন রেলের সম্পত্তি! চার বছরে এসি ট্রেন থেকে উধাও কোটি কোটি কম্বল-তোয়ালে

Share
সফর শেষে পকেটে পুরছেন রেলের সম্পত্তি! চার বছরে এসি ট্রেন থেকে উধাও কোটি কোটি কম্বল-তোয়ালে
ট্রেনের এসি কামরা থেকে গায়েব হয়ে যাচ্ছে গুচ্ছ গুচ্ছ শয্যাসামগ্রী। ছবি-সংগৃহীত
Share

নয়াদিল্লি: প্রত্যেক ট্রেনের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) কোচে প্রত্যেক যাত্রীর জন্যই থাকে দু’টি চাদর, একটি বালিশ, একটি বালিশের কভার এবং একটি তোয়ালে। কিন্তু ভাবার বিষয়, ভারতীয় রেলের এসি কোচে যাত্রীদের জন্য দেওয়া তোয়ালে, বেডশিট, বালিশের কভার, কম্বল-সহ নানা লিনেন সামগ্রী চুরির ঘটনা উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে। সফর শেষে সেই সব শয্যাসামগ্রী চুপিচুপি নিজেদের ব্যাগে পুরে বাড়ি নিয়ে চলে যাচ্ছেন একদল যাত্রী! আরটিআই বা তথ্যের অধিকার আইনের অধীনে চঞ্চল্যকর এই তথ্য সামনে এনেছে ভারতীয় রেল। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বাতানুকূল কামরা থেকে অন্তত ১ কোটি ২৭ লক্ষ শয্যাসামগ্রী স্রেফ গায়েব হয়ে গিয়েছে। কোভিডের ধাক্কা সামলে ২০২২ সালে নতুন করে এই পরিষেবা চালু হওয়ার পর থেকে চুরির এই গ্রাফ আকাশছোঁয়া হয়েছে, যা দেখে চক্ষু চড়কগাছ রেলকর্তাদের।

রেলের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, গত চার বছরে শয্যাসামগ্রী চুরির ঘটনা প্রায় ৫৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। যাত্রীদের সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে হাত বা মুখ মোছার তোয়ালে, যার চুরির সংখ্যা প্রায় ৪৬.৫৪ লক্ষ। এর ঠিক পরেই রয়েছে চাদর, যা উধাও হয়েছে ৪১.১৩ লক্ষের কাছাকাছি। এছাড়া ২৩.৫৯ লক্ষ বালিশের ওয়াড়, ১২.৯৫ লক্ষ কম্বল এবং ২.৭৬ লক্ষ আস্ত বালিশও যাত্রীরা বাড়ি নিয়ে চলে গিয়েছেন। দেশের মোট ১৬টি জ়োনের ৫৪টি ডিভিশন থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যাচ্ছে, রাজস্থানের বিকানের, জোধপুর, জয়পুর থেকে শুরু করে দিল্লি, মুম্বই, রাঁচী এবং বিহারের দানাপুরের মতো ১০টি ডিভিশনে এই চুরির প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। এই বিপুল চুরির জেরে শয্যাসামগ্রী সরবরাহকারী সংস্থাগুলির প্রায় ১০৫ কোটি টাকার বিপুল লোকসান হয়েছে, যার বড় অংশ আবার চুক্তিভিত্তিক রেলকর্মীদের বেতন থেকে কেটে উসুল করা হচ্ছে।

নজিরবিহীন এই চুরির ঘটনায় রীতিমতো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রেল মন্ত্রক। রেলের প্রাথমিক অনুমান, কর্মীদের নজর এড়িয়েই এক শ্রেণির অসচেতন যাত্রী এই কাজ করছেন। এই প্রবণতা রুখতে এবার কোচের ভেতর সিসিটিভি ক্যামেরার নিবিড় নজরদারির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, ট্রেনের অ্যাটেনডেন্ট ও কর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা ভাবছে রেল, যাতে কামরা ছাড়ার আগে যাত্রীদের থেকে সমস্ত সামগ্রী সঠিকভাবে বুঝে নেওয়া যায়। একই সঙ্গে রেলের সম্পত্তি যে আমজনতারই, সেই সচেতনতার পাঠ দিতেও বিশেষ প্রচার চালানো হবে বলে জানানো হয়েছে।

[TECHTARANGA-POST:10901]

হিডেন স্টোরিজ নিউজ

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *