০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home কলকাতা একুশের পাতে ডিম-ভাত ও সয়াবিন! ঋতব্রতর চমক, ফাঁকা পেটেই মমতার বার্তা
কলকাতাপশ্চিমবঙ্গ

একুশের পাতে ডিম-ভাত ও সয়াবিন! ঋতব্রতর চমক, ফাঁকা পেটেই মমতার বার্তা

Share
একুশের পাতে ডিম-ভাত ও সয়াবিন! ঋতব্রতর চমক, ফাঁকা পেটেই মমতার বার্তা
ছবি--প্রতীকী
Share

কলকাতা: তিলোত্তমায় ২১শে জুলাইয়ের চেনা আবেশ এবার সম্পূর্ণ রাজনৈতিক সমীকরণের বদলে গিয়েছে। তৃণমূলের দুটি পৃথক শিবির এবং কংগ্রেস— একই সঙ্গে তিন ভিন্ন মঞ্চে আজ শহিদদের স্মরণে নামে রাজনৈতিক ময়দানে। তবে মিটিং-মিছিলের পাশাপাশি রাজ্য রাজনীতিজুড়ে এখন তীব্র কৌতূহল, সভা শুনতে দূরদূরান্ত থেকে পৌঁছানো সমর্থকদের পাতে এবার ঠিক কী খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে? ক্ষমতায় আসার পর থেকে যার সঙ্গে একুশে জুলাইয়ের নাম অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে গিয়েছে— সেই ঐতিহ্যবাহী ‘ডিম-ভাত’ এবার কার দখলে আর কার হাত খালি রয়েছে, তা নিয়ে চরম জল্পনা।  ঐতিহ্য ধরে রেখে সয়াবিনের সঙ্গে ডিম-ভাত ঋতব্রত শিবিরে  কলকাতা ও রাজ্যের রাজনীতিতে বেশ কয়েক বছর ধরে একুশে জুলাইয়ের সাথে একপ্রকারের সমার্থক হয়ে দাঁড়িয়েছে কর্মী-সমর্থকদের ডিম-ভাত খাওয়ানোর রীতি।

[TECHTARANGA-POST:11126]

 রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও দলভাগে সেই ডিম-ভাতের দায়িত্ব নিজেদের কাঁধেই তুলে নিয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘আসল তৃণমূল’। দূর জেলা থেকে আসা কর্মীদের কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকাগুলোতে থাকার সুবিধার সাথে তাঁদের জন্য রাখা হয়েছে ডিম-ভাতের এলাহি আয়োজন। আর এবার শুধু চেনা ডিমের ঝোল ও ভাতই নয়, পাতে বাড়তি আকর্ষণ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে সয়াবিনের তরকারি। দীর্ঘদিনের এই খাদ্য ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রেখে সমর্থকদের মনোযোগ নিজেদের দিকে টানার স্পষ্ট চেষ্টা রয়েছে এই শিবিরে।  কালীঘাটের হাত ফাঁকা, আস্থার বার্তা দিয়ে ভরসা দলের  অন্যদিকে সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুতে হাঁটছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কালীঘাট তৃণমূল। বিড়লা তারামণ্ডলের সামনের সীমিত পরিসরে হাই কোর্টের বিধিনিষেধ মেনে আয়োজিত এই সভায় খাবার বিতরণের কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি বলেই স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন দলীয় নেতৃত্ব। খাবারের আয়োজন না থাকলেও এতে দলীয় উদ্দীপনায় কোনো খামতি পড়বে না বলে দাবি করেছেন কালীঘাট তৃণমূলের নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়। তাঁর মতে, “একুশে জুলাই এবং তৃণমূল মানেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কর্মী-সমর্থকরা নিজেদের তাগিদেই সভায় উপস্থিত হবেন, খাবারের লোভ দেখিয়ে কাউকে টেনে আনার দরকার পড়ে না।” পাশাপাশি দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের থাকা এবং আসায় প্রশাসন বা অন্য পক্ষের বাধা সৃষ্টির অভিযোগও তুলেছেন তাঁরা।  মাছ, নিরামিষ ও টোস্ট-পাউরুটির বৈচিত্র্যে কংগ্রেসতৃণমূলের অভ্যন্তরে যখন এই রসনা-টানাপোড়েন, তখন কংগ্রেসের নিজস্ব খাদ্য পরিকল্পনায় রয়েছে বৈচিত্র্য। হাত শিবিরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এক ছাদের তলায় ঢালাও ব্যবস্থার পরিবর্তে স্থানীয় প্রয়োজন মাফিক খাদ্যের বন্দোবস্ত করা হয়েছে। হরিয়ানা ভবন বা মাহেশ্বরী ভবনের মতো ধর্মশালাগুলিতে নিরামিষ খাদ্যরীতির কারণে রাঁধুনি রেখে নিখাঁদ ভাত, ডাল ও পাঁচমিশেলি সবজির আয়োজন রাখা হয়েছে। অন্যদিকে সল্টলেক স্টেডিয়াম এলাকা এবং কলকাতা স্টেশনমুখী সমর্থকদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে মাছ, ডিম এবং ভাতের পদ। সকালের প্রাতরাশ হিসেবে কর্মীদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে গরম টোস্ট ও পাউরুটি। সব মিলিয়ে একুশের রাজনৈতিক মঞ্চের মতোই এবার কর্মীদের ভূরিভোজেও ত্রিমুখী আমেজ বজায় রাখল তিলোত্তমা। 

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *