০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home দিল্লি ‘এভাবে চলতে দিতে পারি না!’ প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে কেন্দ্রকে সুপ্রিম কোর্টের চরম ভর্ৎসনা ও কড়া বার্তা
দিল্লিভারতবর্ষ

‘এভাবে চলতে দিতে পারি না!’ প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে কেন্দ্রকে সুপ্রিম কোর্টের চরম ভর্ৎসনা ও কড়া বার্তা

Share
Share

নয়া দিল্লি: বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষা ব্যবস্থার লাগাতার অনিয়মের ঘটনায় এ বার সরাসরি দেশের সর্বোচ্চ আদালতের তীব্র রোষানলে পড়ল কেন্দ্রীয় সরকার। গোটা পরীক্ষা ব্যবস্থায় জমে থাকা যাবতীয় ত্রুটি ও ভুলভ্রান্তি অবিলম্বে শুধরে নেওয়ার কঠোর বার্তা দিয়ে সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে যে, এ ভাবে দেশ চলতে দেওয়া যায় না। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি বা এনটিএ-র বিলোপ ঘটিয়ে দেশের প্রবেশিকা পরীক্ষার পুরো ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে একগুচ্ছ জনস্বার্থ মামলা ও আবেদন জমা পড়েছিল। আর সেই সমস্ত মামলার ভিত্তিতেই শুক্রবার বিচারপতি পি এস নরসিমা এবং বিচারপতি অলোক আরাধের ডিভিশন বেঞ্চে এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

[TECHTARANGA-POST:11238]

এদিনের শুনানিতে ক্ষুব্ধ বিচারপতিরা কেন্দ্রকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, আদালত এই স্পর্শকাতর বিষয়টি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে এবং সরকারের পক্ষ থেকে সংস্কারমূলক কাজের অগ্রগতি কতটা হচ্ছে, তার নিয়মিত খোঁজখবর রাখা হবে। আদালতের এই তীব্র অসন্তোষের মুখে পড়ে কেন্দ্রের পক্ষে উপস্থিত সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান যে, দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থায় যুগান্তকারী সংস্কার আনতে সরকার ইতিমধ্যে ভাবনাচিন্তা ও পরিকল্পনা শুরু করে দিয়েছে। তবে পুরো প্রশাসনিক ও কাঠামোগত পরিকল্পনার রূপরেখা আদালতের সামনে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরার জন্য তিনি আদালতের কাছে কিছুটা সময় প্রার্থনা করেছেন।

[TECHTARANGA-POST:11237]

পরীক্ষা ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদী সংস্কারের অংশ হিসেবে আগামী দিনে সম্পূর্ণ কম্পিউটার ভিত্তিক পরীক্ষা বা সিবিটি পদ্ধতি চালু করা যায় কি না, তা নিয়ে এদিনের শুনানিতে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তবে সে ক্ষেত্রে উপযুক্ত সাইবার নিরাপত্তা কী ভাবে সুনিশ্চিত করা হবে এবং পুরো ডিজিটাল প্রক্রিয়াটি ত্রুটিহীনভাবে পরিচালিত হবে কি না, তা স্পষ্ট হওয়া অত্যন্ত জরুরি বলে পর্যবেক্ষণ করেছেন বিচারপতি নরসিমা। শুধু তাই নয়, রাধাকৃষ্ণন কমিটির প্রথাগত সুপারিশগুলির বাইরে গিয়েও কীভাবে আরও বেশি স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব এবং জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষার সফল মডেলটি এক্ষেত্রে অনুসরণ করা যায় কি না, সেই বিষয়েও সুচিন্তিত ভাবনাচিন্তা করতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। বিচারপতিদের জোরালো মত হলো, এই ধরনের গুরুতর সংকটে কোনো অস্থায়ী বা অ্যাডহক সিদ্ধান্ত না নিয়ে একটি স্থায়ী ও পাকাপাকি সমাধান খুঁজে বের করা দরকার। সরকারের পক্ষ থেকে সলিসিটর জেনারেল আদালতকে আশ্বস্ত করে জানান যে, দেশের লক্ষ লক্ষ মেধাবী শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ যাতে কোনোভাবেই অনিশ্চয়তার মুখে না পড়ে, তার জন্য রাধাকৃষ্ণণ কমিটির সুপারিশের গণ্ডি ছাড়িয়েও সমস্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে কেন্দ্র। অন্যদিকে, আবেদনকারীদের আইনজীবী তনভি দুবে আদালতের কাছে জানান যে, এই শিক্ষা সংস্কারের বিষয়ে তাঁদেরও কিছু গঠনমূলক পরামর্শ রয়েছে। উভয় পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর আদালত এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন আগামী ৩ অগস্ট ধার্য করেছে।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *