০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home রাজনীতি কলকাতা রবিবার নির্ধারিত সময়ের আগেই ভবানী ভবনে সুমিত! জেরায় এবার কী বড় তথ্য ফাঁস করছেন অভিষেকের পিএ সুমিত?
কলকাতাপশ্চিমবঙ্গরাজনীতি

রবিবার নির্ধারিত সময়ের আগেই ভবানী ভবনে সুমিত! জেরায় এবার কী বড় তথ্য ফাঁস করছেন অভিষেকের পিএ সুমিত?

Share
Share

কলকাতা: শনিবার টানা ১০ ঘণ্টার জেরার ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই আবার তলব! রবিবার নির্ধারিত সময়ের দশ মিনিট আগেই সোজা সিআইডি দপ্তর ভবানী ভবনে পৌঁছে গেলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়। শনিবার রাতে জেরা পর্ব মিটতেই ভবানী ভবন থেকে বেরিয়ে সোজা অভিষেকের বাড়িতে গিয়েছিলেন তিনি। তার পরেই রবিবার সকালে ফের তাঁর এই আগাম হাজিরাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা তৈরি হয়েছে। সিআইডি-র গোয়েন্দারা সুমিতের কাছ থেকে ঠিক কী গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আদায় করতে চাইছেন, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে কৌতূহল।

শালবনি থানায় সুমিতের বিরুদ্ধে জমি দুর্নীতির লিখিত অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর তদন্তের ভার হাতে নেয় সিআইডি। সেই মামলার সূত্র ধরেই গত শুক্রবার নিউ আলিপুরে সুমিতের বাসভবনে গিয়ে নোটিস দিয়ে আসেন গোয়েন্দা আধিকারিকেরা। নির্দেশমতো শনিবার সকালে ভবানী ভবনে হাজিরা দেওয়ার পর টানা রাত ৮টা পর্যন্ত দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হয়। প্রায় ১০ ঘণ্টার জেরা শেষে যখন তিনি বার হন, তখনই রবিবার সকালে ফের হাজিরার নোটিস ধরানো হয়। রবিবার সকাল ১০টায় হাজিরার কথা থাকলেও ৯টা ৪৯ মিনিটেই তিনি ভবানী ভবনে ঢুকে পড়েন। তবে সাংবাদিকদের কোনও প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে তিনি সোজা সিআইডি দফতরে চলে যান।

জমি দুর্নীতির পাশাপাশি সুমিতের বিরুদ্ধে চাকরি দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে। জোড়া দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসতেই আত্মগোপন করেছিলেন সুমিত। পুলিশের একাধিক তলব এড়িয়ে তিনি কলকাতা হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের দরজায় কড়া নাড়েন। হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ জমি দুর্নীতি মামলায় অগ্রিম জামিনের আর্জি খারিজ করলেও, চাকরি-দুর্নীতি মামলায় ১০ দিনের মধ্যে তদন্তকারী অফিসারের সামনে হাজিরার শর্তে অগ্রিম জামিন মঞ্জুর করেন। পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ জমি দুর্নীতি মামলায় পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত গ্রেফতারিতে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেয়। তবে আদালতের নির্দেশ ছিল, তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে এবং সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ করা যাবে।

এর আগে বিষ্ণুপুর ও শালবনি থানার পুলিশ এবং সিআইডি আধিকারিকেরা নোটিস দিতে গেলে সুমিতের দেখা মেলেনি। আদালতের রক্ষাকবচ পাওয়ার পরই তিনি তদন্তের মুখোমুখি হতে শুরু করেন। তবে এখনও তাঁর বিরুদ্ধে আরও দু’টি পৃথক মামলা ঝুলছে। সেই জোড়া মামলায় গ্রেফতারির আশঙ্কায় হাইকোর্টে দ্রুত শুনানির আবেদন জানিয়েছিলেন সুমিত, কিন্তু গত শুক্রবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ তা খারিজ করে জানায় যে তালিকা অনুযায়ীই শুনানি হবে। ফলে জোড়া আইনি চাপ ও সিআইডির জোড়া জেরার মুখে সুমিতের ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন সবার নজর।

হিডেন স্টোরিজ নিউজ

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Articles