০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home পশ্চিমবঙ্গ অপরাধ ফোনে সেভ ছিল ‘ঝাড়গ্রাম ম্যানেজার’! ব্যাগভর্তি ৫ লাখ ঘুষ নিতে গিয়ে পুলিশের জালেই আটক পুলিশ, তুলকালাম কাণ্ড
অপরাধঝাড়গ্রামপশ্চিমবঙ্গপশ্চিমবঙ্গ

ফোনে সেভ ছিল ‘ঝাড়গ্রাম ম্যানেজার’! ব্যাগভর্তি ৫ লাখ ঘুষ নিতে গিয়ে পুলিশের জালেই আটক পুলিশ, তুলকালাম কাণ্ড

Share
Share

ঝাড়গ্রাম: তোলাবাজি করতে দুর্নীতি দমন শাখার হাতে গ্রেফতার ঝাড়গ্রামের আরও এক আধিকারিক। ট্রাক ও ট্রাক্টরের থেকে অবৈধ ভাবে টাকা তোলার অভিযোগ পেয়ে সেই চক্রের খোঁজে মঙ্গলবার ঝাড়গ্রামে অভিযান চালিয়েছিল রাজ্যের দুর্নীতি দমন শাখার একটি দল। তদন্তকারীদের জালে ঝাড়গ্রাম থানার এক কনস্টেবল-সহ তিন দালাল।

ক্ষমতায় এসেই তোলাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরকারি আমলা হোক বা রাজনৈতিক নেতা—অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিলেন তিনি। সেই কড়া বার্তার মাঝেই এবার রাজ্য দুর্নীতি দমন শাখার জালে ধরা পড়লেন খোদ এক পুলিশ কনস্টেবল ও তাঁর তিন দালাল সঙ্গী। বালি বোঝাই গাড়ি থেকে তোলা তোলার অভিযোগে হাতেনাতে ৫ লক্ষ টাকাসহ তাঁদের পাকড়াও করেছেন তদন্তকারীরা।

অভিযোগ, ঝাড়গ্রাম থানার কনস্টেবল রতন প্রামাণিক বালি পরিবহণকারী লরি ও ট্রাক্টরের থেকে নিয়মিত মোটা অঙ্কের টাকা কাটমানি নিতেন। এই কাজের জন্য মাঠে নামানো হয়েছিল দালালদের। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অ্যান্টি-করাপশন ব্রাঞ্চের আধিকারিকরা ফাঁদ পাতেন। এক ট্রাক মালিকের থেকে টাকা তোলার সময় প্রথমে হাতেনাতে ধরা পড়ে তিন দালাল। তাঁদের জেরা করতেই চক্ষু চড়কগাছ তদন্তকারীদের। ধৃত দালালদের একজন স্বীকার করে, সংগৃহীত তোলা কনস্টেবলের হাতেই তুলে দেওয়া হতো। এমনকি এক দালালের ফোনে অভিযুক্ত কনস্টেবলের নম্বর ‘ঝাড়গ্রাম ম্যানেজার’ নামে সেভ করা ছিল।

এরপরই নাটকীয় মোড় নেয় অভিযান। দুর্নীতি দমন শাখার এক আধিকারিক বালি ব্যবসায়ী সেজে এক দালালকে সঙ্গে নিয়ে সটান পৌঁছে যান ঝাড়গ্রাম থানায়। একটি ব্যাগে রাখা ঘুষের ৫ লক্ষ টাকা কনস্টেবল রতন প্রামাণিকের হাতে তুলে দেওয়া মাত্রই চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে তাঁকে পাকড়াও করা হয়। ঘটনাস্থল থেকেই বাজেয়াপ্ত হয় পুরো টাকা। অভিযুক্ত পুলিশকর্মী এবং তিন দালালকে সঙ্গে সঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছে। কয়েক দিন আগেই জামবনী বিডিও অফিসের এক সহকারী ইঞ্জিনিয়র ঘুষ নিতে গিয়ে ধরা পড়েছিলেন। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই এবার খোদ থানার অন্দরে এই পুলিশ কনস্টেবলের গ্রেফতারির ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই বেআইনি চক্রের জাল কতদূর বিস্তৃত এবং নেপথ্যে কোনও প্রভাবশালীর মদত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

[TECHTARANGA-POST:11986]

হিডেন স্টোরিজ নিউজ

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *