কাঠমান্ডুঃ নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানে মৃত্যুমিছিল অব্যাহত। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ৪৬৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ বহু মানুষ। তাঁদের মধ্যে প্রায় ২৯০ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে জোরকদমে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
[TECHTARANGA-POST:12052]
আচমকা হড়পা বানের প্রবল স্রোতে ভেসে গিয়েছে নেপালের একাধিক রাস্তা ও সেতু। বিভিন্ন এলাকায় জমে রয়েছে কাদামাটির পুরু স্তর। কোথাও রাস্তার অস্তিত্বই মুছে গেছে, কোথাও আবার ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে উদ্ধারকাজ করাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে দুর্গত এলাকায় পৌঁছতে এবং নিখোঁজদের খুঁজে বের করতে উদ্ধারকারী দলগুলিকে তৎপরতার সঙ্গে কাজ করতে হচ্ছে। এই বিপর্যয়ের সূত্রপাত চিনের তিব্বত এলাকায়। সেখান থেকে বন্যার জল নেমে নেপালের রসুয়া জেলায় ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করে। তবে এই পরিস্থিতির মধ্যেও উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে নেপাল পুলিশ এবং অন্যান্য উদ্ধারকারী সংস্থা। পুলিশ সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত ৫০ জন বিদেশি-সহ ৭৯৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে নিখোঁজের সংখ্যাও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। প্রশাসনিক তথ্য অনুযায়ী, অন্তত দেড় হাজার মানুষ নিখোঁজ। সেই তালিকায় রয়েছেন নেপাল সেনার ৪৪ জন সদস্য, পুলিশের ২৮ জন এবং সশস্ত্র পুলিশের ১৩ জন। এছাড়াও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্মরত প্রায় ১৬০ জনেরও এখনও সন্ধান মেলেনি। নেপালে থাকা ভারতীয়দের নিয়েও চিন্তা বাড়ছে। ভারতের বিদেশমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, এখনও পর্যন্ত প্রায় ২৮৮ জন ভারতীয় নিখোঁজ। নিখোঁজ ভারতীয়দের সন্ধান এবং আটকে থাকা নাগরিকদের উদ্ধারে তৎপর হয়েছে নয়াদিল্লি।
[TECHTARANGA-POST:12046]
পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে বিদেশমন্ত্রকের তরফে ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোলরুম চালু করা হয়েছে। নিখোঁজ ভারতীয় নাগরিকদের পরিবারকে প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া এবং যোগাযোগের ক্ষেত্রে সহায়তার জন্য তিনটি হেল্পলাইন নম্বরও চালু করা হয়েছে – +9779851316807, +9779709107500 এবং +9779810326117। তবে বিপর্যস্ত এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে। একাধিক রাস্তা ও সেতু ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। তার মধ্যেই উদ্ধারকাজ কতটা দ্রুত এগোনো সম্ভব হবে, তা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে।
Leave a comment