০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home কলকাতা ক্যামাক স্ট্রিট কাণ্ড: নোটিস পেতেই শেক্সপিয়র সরণি থানায় হাজিরা অভিষেকের
কলকাতাকলকাতারাজনীতি

ক্যামাক স্ট্রিট কাণ্ড: নোটিস পেতেই শেক্সপিয়র সরণি থানায় হাজিরা অভিষেকের

Share
Share

কলকাতা : ক্যামাক স্ট্রিটের দলীয় কার্যালয় থেকে বিলবোর্ড খোলাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া চরম সংঘাতের জল গড়াল থানা পর্যন্ত। কলকাতা পুলিশের সরকারি কাজে বাধা দেওয়া, পুলিশকর্মীদের মারধর এবং শ্লীলতাহানির মতো গুরুগম্ভীর অভিযোগের মুখে পড়ে অবশেষে শেক্সপিয়ার সরণি থানায় হাজিরা দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার নির্ধারিত সময় দুপুর ১২টার কিছু পরেই তিনি থানায় পৌঁছন। এদিন অভিষেক একাই গাড়িতে চেপে থানায় এলেও, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে থানার বাইরে ভিড় জমান প্রচুর সংখ্যক তৃণমূল কর্মী-সমর্থক। ‘দাদা’র সমর্থনে লাগাতার স্লোগানে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে থানা চত্বর। সমর্থকেরা সাফ জানান, অভিষেক যতক্ষণ ভেতরে থাকবেন, তাঁরাও সেখান থেকে নড়বেন না।

প্রেক্ষাপট ও সংঘাতের সূত্রপাত

ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে গত বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্টের একটি বিতর্কিত ঘটনা। ওই দিন বিকেলে ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে গ্যাসকাটার নিয়ে পৌঁছন পুরসভার কয়েকজন আধিকারিক এবং পুলিশকর্মী। জানানো হয়, কার্যালয়ের ওপরে থাকা ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ লেখা বিলবোর্ডটি বেআইনি, তাই সেটি খুলে ফেলা হবে। খবর পেয়েই বেরিয়ে আসেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি পুরকর্মীদের কাছে বিলবোর্ড খোলার আইনি ‘অর্ডার কপি’ দেখতে চান। অভিষেকের দাবি, পুরকর্মীরা কোনো লিখিত নির্দেশনামা দেখাতে পারেননি, যার জেরে দু’পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।

এর পরদিনই কলকাতা পুলিশের তরফে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সরকারি কাজে বাধা প্রদান, অবৈধ জমায়েত, কর্তব্যরত পুলিশ আধিকারিকদের মারধর এবং এমনকি মহিলা পুলিশকর্মীদের হেনস্থা ও শ্লীলতাহানির চেষ্টার মতো জামিন অযোগ্য ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয়। শেক্সপিয়র সরণি থানায় মোট তিনটি এফআইআর দায়ের হয়েছে—যার একটি করেছেন পুরসভার আধিকারিক এবং অন্যটি পার্ক স্ট্রটি থানার এক সার্জেন্ট। এই ঘটনায় অভিষেক ছাড়াও তৃণমূল নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়, প্রাক্তন বিধায়ক হুমায়ুন কবীর এবং অভিষেকের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে বাড়িতে নোটিস পাঠিয়ে তলব করা হয়।

আইনি লড়াই ও পাল্টা নোটিস

এই তলবি প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই আইনি লড়াই জোরদার করেছে ঘাসফুল শিবির। সোমবার ডেরেক ও’ব্রায়েনকে হাজিরা দেওয়ার কথা বলা হলেও তিনি যাননি, তাঁকে বুধবার পুনরায় তলব করা হয়েছে। অন্যদিকে, অভিষেক এবং ডেরেকের আইনজীবী অর্ক নাগ অভিযোগ করেছেন যে, পুলিশ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ লঙ্ঘন করছে। আইনজীবীর বক্তব্য, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ৩৫ নম্বর অনুচ্ছেদে নোটিস দেওয়া হলেও, অনলাইনে এফআইআর-এর কপি আপলোড করা হয়নি। যা ‘ইউথ বার অ্যাসোসিয়েশন’ সংক্রান্ত শীর্ষ আদালতের রায়ের সম্পূর্ণ বিরোধী। এই মর্মে পুলিশের বিরুদ্ধেই আদালত অবমাননার পাল্টা নোটিস পাঠিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব।

আইনি টানাটানির মাঝেই মঙ্গলবার সশরীরে থানায় গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এখন দেখার, পুলিশি তদন্তের গতিপথ কোন দিকে মোড় নেয় এবং এই বিলবোর্ড বিতর্ক রাজ্য রাজনীতিতে নতুন কোন উত্তাপ তৈরি করে।

হিডেন স্টোরিজ নিউজ


Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *