নয়াদিল্লি: দলত্যাগ বিরোধী আইনের ফাঁদে পড়ে লোকসভার সাংসদ পদ খারিজের মুখে এবার সময় চেয়ে আসরে নামলেন তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া ২০ জন সাংসদ। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার পাঠানো ‘কারণ দর্শাও’ নোটিসের জবাব দেওয়ার জন্য সাত দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সেই মেয়াদের মধ্যে উত্তর না দিয়ে স্পিকারের কাছে বাড়তি সময় চেয়ে আবেদন জানাতে চলেছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলী ঘোষ দস্তিদার সহ তৃণমূলত্যাগী সাংসদরা। পদ বাঁচাতে ইতিমধ্যেই শীর্ষ আইনজীবীদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক ও আইনি পরামর্শ নেওয়া শুরু করেছেন তাঁরা।
ঘটনার সূত্রপাত তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই-তে নাম লেখানো ওই ২০ জন সাংসদের পদ বাতিলের দাবি জানিয়ে স্পিকারের কাছে আবেদন জমা দেওয়ার মাধ্যমে। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় গত ১৯ জুন এই আর্জি জানিয়েছিলেন। কিন্তু লোকসভার সচিবালয়ে সেই প্রক্রিয়ায় গতি না আসায় শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। গত ২৫ অগস্ট সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চ ওই ২০ জন সাংসদকে নোটিস পাঠায় এবং পাশাপাশি স্পিকারের দফতরকে অযোগ্যতা সংক্রান্ত বিষয়ে দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেয়। আদালতের সেই কড়া অবস্থানের পরই স্পিকারের দফতর থেকে সাত দিনের মধ্যে জবাব তলব করে নোটিস পাঠানো হয় দলত্যাগীদের।
স্পিকারের শোকজ নোটিস হাতে পৌঁছতেই রাজনৈতিক ও আইনি তৎপরতা তুঙ্গে উঠেছে। সূত্রের খবর, সদস্যপদ রক্ষার উদ্দেশ্যে আইনি ও রাজনৈতিক সমর্থনের জন্য এনসিপিআই সাংসদরা বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছেন এবং সেখান থেকেও ইতিবাচক সহায়তার আশ্বাস মিলেছে। আপাতত স্পিকারের কাছে নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে কিছুটা বাড়তি সময় চেয়ে নেওয়া এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই শাস্তির খাঁড়া পিছিয়ে দেওয়াই দলত্যাগী সাংসদদের মূল রণকৌশল হতে চলেছে।
[TECHTARANGA-POST:12197]
হিডেন স্টোরিজ নিউজ
Leave a comment