০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home রাজনীতি দিল্লি বাড়তি সময়ে স্বস্তিতে ‘বিদ্রোহী’ সাংসদেরা, স্পিকারের সিদ্ধান্তে প্রশ্নে অভিষেকের আইনি লড়াই
দিল্লিভারতবর্ষরাজনীতিরাজনীতি

বাড়তি সময়ে স্বস্তিতে ‘বিদ্রোহী’ সাংসদেরা, স্পিকারের সিদ্ধান্তে প্রশ্নে অভিষেকের আইনি লড়াই

Share
Share

নয়াদিল্লি: লোকসভার খাতায়কলমে তাঁরা এখনও ‘তৃণমূল কংগ্রেস’। তবে সংসদীয় রাজনীতিতে এবং বাস্তব কাজেকর্মে তাঁরা সম্পূর্ণ ভিন্ন মেরুতে— এনডিএ-র গুরুত্বপূর্ণ শরিক ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজ়েন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ বা এনসিপিআই (NCPI)-র নতুন মুখ। মুখেও নির্দ্বিধায় স্বীকার করছেন সেই কথা। নিয়মিত উপস্থিত হচ্ছেন বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-র বৈঠকে, এমনকি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণে তাঁর ৭ নম্বর লোককল্যাণ মার্গের বাসভবনে আয়োজিত বৈঠকটিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে দেখা গিয়েছে তাঁদের। অথচ লোকসভার অধিবেশনে প্রবেশের মুহূর্তে আজও তাঁদের সরকারি পরিচয় ‘তৃণমূল সাংসদ’। দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ এবং দলবদলের এই জোড়া নৌকায় পা দিয়ে চলা রূপকে ইতি টানতে কড়া আইনি পদক্ষেপের পথ বেছে নিয়েছিলেন লোকসভায় তৃণমূলের প্রবীণ নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে শেষ পর্যন্ত লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সৌজন্যে বড়সড় স্বস্তি ও অতিরিক্ত সময় পেয়ে গেলেন তৃণমূলের সেই ২০ জন ‘বিদ্রোহী’ সাংসদ।

ঘটনার সূত্রপাত গত ২৬ অগস্ট। তৃণমূলের অল-ইন-ওয়ান সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিটিশনের ভিত্তিতে লোকসভার স্পিকারের সচিবালয় থেকে বিদ্রোহী ২০ সাংসদকে এক সপ্তাহের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠানো হয়েছিল। মঙ্গলবার সেই বেঁধে দেওয়া নির্দিষ্ট সময়সীমা অতিক্রান্ত হতেই টানটান উত্তেজনা তৈরি হয় সংসদীয় অলিন্দে। তবে জল কোন দিকে গড়ায়, তা স্পষ্ট হলো বৃহস্পতিবার। জানা গেল, তড়িঘড়ি পদ খারিজের আইনি বাঁধন এড়াতে স্পিকারের কাছে আরও বাড়তি ২১ দিন অর্থাৎ তিন সপ্তাহ সময় চেয়ে যৌথ আবেদন জানিয়েছিলেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো সাংসদেরা। ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে লোকসভা সচিবালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে যে, স্পিকার ওম বিড়লা তাঁদের এই অতিরিক্ত সময় বরাদ্দের অনুরোধ গ্রহণ করেছেন। ফলে আগামী ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিজের পদ ও অবস্থান সুরক্ষিত রাখার সুযোগ পেয়ে গেলেন কুণাল-সুদীপরা।

বিদ্রোহী শিবিরের মথুরাপুরের সাংসদ বাপি হালদার সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, “আমরা ২১ দিন বাড়তি সময় চেয়ে আবেদন পেশ করেছিলাম এবং লোকসভার সচিবালয় তা সানন্দে মঞ্জুর করেছে।” যদিও গোষ্ঠীর অভ্যন্তরীণ সূত্র জানাচ্ছে, সকলেই একযোগে ২১ দিন চাননি; অরূপ চক্রবর্তীদের মতো কয়েকজন ১৪ দিনের মধ্যেও জবাব দিতে প্রস্তুত ছিলেন। কিন্তু সংসদীয় ভারসাম্য রক্ষা করে সচিবালয় থেকে সর্বজনীনভাবে তিন সপ্তাহের সময়সীমা বর্ধিতকরণের নথিতেই সীলমোহর দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, স্পিকারের দরবারে আবেদন পেশ করে দীর্ঘ সময় ধরে কোনও কার্যকরী জবাব বা পদক্ষেপ না পাওয়ায় তৃণমূল সংসদীয় দলের তরফে সুপ্রিম কোর্টে আলাদা রিট পিটিশন দাখিল করেছিলেন অভিষেক। দলত্যাগী সদস্যদের দ্রুত পদ খারিজ নিশ্চিত করতেই শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয় জোড়াফুল শিবির। গত ২৫ অগস্ট ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনের ডিভিশন বেঞ্চে এই হাইপ্রোফাইল মামলার গুরুত্বপূর্ণ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সুপ্রিম কোর্টও বিদ্রোহী ২০ জন সাংসদের লিখিত মতামত জানতে চেয়েছিল। আগামী সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে শীর্ষ আদালতে ফের হতে চলেছে এই মামলার পরবর্তী পর্বের লড়াই। একদিকে সুপ্রিম কোর্টের আইনি খাঁড়া, অন্যদিকে স্পিকার ওম বিড়লার সময় দেওয়ার অভয় হস্ত— সব মিলিয়ে আগামী দিনে দলত্যাগ বিরোধী আইন ও ২০ সাংসদের ভবিষ্যৎ কোন পথে বাঁক নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে দেশীয় রাজনীতির প্রতিটি ময়দান।

হিডেন স্টোরিজ নিউজ

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Articles