০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home ভারতবর্ষ অপমানের জবাবে হাতে চক-ডাস্টার: ভারতের প্রথম নারী শিক্ষিকার অদম্য লড়াই
ভারতবর্ষশিক্ষাঙ্গন

অপমানের জবাবে হাতে চক-ডাস্টার: ভারতের প্রথম নারী শিক্ষিকার অদম্য লড়াই

Share
অপমানের জবাবে হাতে চক-ডাস্টার: ভারতের প্রথম নারী শিক্ষিকার অদম্য লড়াই
এ আই নির্মিত ছবি
Share

প্রতি বছর ৫ সেপ্টেম্বর শিক্ষক দিবসে শ্রেণিকক্ষ ভরে ওঠে ফুল আর শ্রদ্ধার বার্তায়। কিন্তু ভারতীয় উপমহাদেশে মেয়েদের জন্য সেই শ্রেণিকক্ষের দরজাটা যিনি প্রথম খুলে দিয়েছিলেন, তাঁর পথটি কিন্তু ফুলের ছিল না—ছিল কাঁটা আর অপমানে ভরা। তিনি ক্রান্তিজ্যোতি সাবিত্রীবাঈ ফুলে; ভারতের প্রথম আধুনিক নারী শিক্ষিকা ও সমাজসংস্কারক।

১৮৪৮ সাল। পুণের ভিড়েওয়াড়ায় স্বামী জ্যোতিরাও ফুলের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সাবিত্রীবাঈ গড়ে তুলেছিলেন ভারতের মেয়েদের জন্য প্রথম দেশীয় বিদ্যালয়। সেই সময় দলিত ও প্রান্তিক পরিবারের কন্যাদের লেখাপড়া শেখানো ছিল তৎকালীন রক্ষণশীল সমাজের চোখে ‘মহাপাপ’।

প্রতিদিন সকালে স্কুলে যাওয়ার পথে তাঁর দিকে ধেয়ে আসত পাথর, পচা ডিম, আর গোবর। কিন্তু মাথা নোয়াননি সাবিত্রীবাঈ। ব্যাগে করে সঙ্গে নিয়ে যেতেন একটি অতিরিক্ত শাড়ি। স্কুলে পৌঁছে কাদামাখা শাড়ি বদলে হাসিমুখে ব্ল্যাকবোর্ডের সামনে দাঁড়াতেন তিনি। তাঁর একটাই কথা ছিল—“তোমরা যত কাদা ছুড়বে, আমার জেদ তত বাড়বে।” শিক্ষার আলো যে শুধুমাত্র সমাজের উচ্চবর্ণ বা পুরুষদের একচ্ছত্র অধিকার নয়—এই বিশ্বাসকে বাস্তবে রূপ দিয়েছিলেন তিনি।

[TECHTARANGA-POST:12301]

শুধু পাঠদান নয়, সতীদাহ, পণপ্রথা, জাতপাত ও বিধবাদের জোরপূর্বক চুল কেটে দেওয়ার বিরুদ্ধে তিনি রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। গর্ভবতী বিধবাদের আত্মহত্যার হাত থেকে বাঁচাতে গড়ে তুলেছিলেন আশ্রয়কেন্দ্র।

শিক্ষক দিবস কেবল আনুষ্ঠানিক উদযাপনের দিন নয়; এটি অধিকার বুঝে নেওয়ার লড়াইয়ের ইতিহাসকে স্মরণ করারও দিন। পাথর আর কাদার জবাব যিনি জ্ঞানের আলো দিয়ে দিয়েছিলেন, সেই বিপ্লবীর প্রতি আজ বিনম্র শ্রদ্ধা।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *