০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home বিশ্ব আফ্রিকা টিভি স্ক্রিনে অপরাধ দমন, বাস্তবে ড্রাগ সাম্রাজ্য! মিসরের বিখ্যাত সঞ্চালিকা সারা খালিফার মৃত্যুদণ্ড
আফ্রিকাবিশ্ববিশ্ব

টিভি স্ক্রিনে অপরাধ দমন, বাস্তবে ড্রাগ সাম্রাজ্য! মিসরের বিখ্যাত সঞ্চালিকা সারা খালিফার মৃত্যুদণ্ড

Share
টিভি স্ক্রিনে অপরাধ দমন, বাস্তবে ড্রাগ সাম্রাজ্য! মিসরের বিখ্যাত সঞ্চালিকা সারা খালিফার মৃত্যুদণ্ড
কায়রোর আদালতে ফাঁসির সাজা সঞ্চালককে।
Share

কায়রো: অপরাধ দমন ও অপরাধীদের পর্দাফাঁস করাই ছিল তাঁর টেলিভিশনের পর্দায় প্রধান দায়িত্ব।

তাঁর জনপ্রিয় অপরাধবিষয়ক শো ‘মিশন ইম্পসিবল’-এর পর্দায় প্রতিনিয়ত অপরাধীদের মুখোমুখি হতেন দর্শকেরা। কিন্তু সেই জনপ্রিয় টেলিভিশন সঞ্চালিকা এবং প্রযোজক সারা খালিফাই (৩৯) যে বাস্তবে এক বিশাল মাদক তৈরি ও পাচার চক্রের মাস্টারমাইন্ড ছিলেন, তা জেনে আজ বাকরুদ্ধ সমগ্র মিশর। এক ভয়াবহ মাদক মামলায় এই স্বনামধন্য সঞ্চালিকাসহ মোট ১২ জনকে মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে কায়রোর আদালত।

রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘আল-আহরাম’ সূত্রের খবর, সারা খালিফা ও তাঁর সঙ্গীরা বিদেশ থেকে কাঁচামাল আমদানি করে কৃত্রিম ও মারাত্মক নেশার ওষুধ তৈরি করত এবং তা সমগ্র মিসরে বিক্রি করত। কায়রোর আদালতে বিচার প্রক্রিয়ায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর আদালত তাঁদের ফাঁসির আদেশ দেয়। মিসরের আইন অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর বা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণার আগে দেশের ‘গ্র্যান্ড মুফতি’-র ধর্মীয় মতামত নেওয়া বাধ্যবাধকতামূলক। গ্র্যান্ড মুফতির মতামতের পরেই আদালত এই চূড়ান্ত রায় নিশ্চিত করে।

তদন্তে নেমে মিসরের অ্যান্টি-নারকোটিকস বিভাগের আধিকারিকেরা চক্ষু চড়কগাছ হওয়ার মতো তথ্য হাতে পান। কায়রোর জোড়া ফ্ল্যাটে তৈরি করা হয়েছিল মাদক প্রস্তুতের গোপন পরীক্ষাগার বা ড্রাগ ল্যাব। তল্লাশি চালিয়ে আধিকারিকেরা প্রায় ৭৫০ কেজিরও বেশি তৈরি মাদক এবং বিপুল কাঁচামাল উদ্ধার করেন। একইসঙ্গে ল্যাব ও ডেরাগুলি থেকে বাজেয়াপ্ত হয় প্রচুর বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র এবং তাজা কার্তুজ। মোট ২৮ জন অভিযুক্তের মধ্যে ১২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৭ জনকে বেকসুর খালাস দিয়েছে আদালত।

টেলিভিশন সঞ্চালনার পাশাপাশি নিজস্ব বিউটি ক্লিনিক ও ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট এজেন্সির মালকিন সারা এই অপরাধচক্রে আর্থিক রসদ জোগাতেন এবং বিদেশে গিয়ে অন্যান্য চক্রীদের সঙ্গে গোপন বৈঠক করতেন বলে আদালতে প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে অন্তত ২০ জন সাক্ষীর জবানবন্দি ও ডিজিটাল প্রমাণ জমা দেওয়া হয়।

যদিও গ্রেপ্তারের পর থেকেই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সারা খালিফা। কায়রোর আদালতে দাঁড়িয়ে অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে তিনি বিচারকের উদ্দেশ্যে বলেন, “স্যার, দয়া করে আমার কথা শুনুন! আমার বাবা-মা আমাকে খুব ভালো শিক্ষা দিয়েছেন, তাঁরা ধার্মিক মানুষ। মাদকের নোংরা টাকার আমার কোনো প্রয়োজন নেই। আমি জীবনের একটাও সিগারেট খাইনি, অ্যান্টি-নারকোটিকস অফিসে ছবি তোলার আগে কোনোদিন ড্রাগ চোখেই দেখিনি।” তবে আদালত ডিজিটাল চ্যাট, ভিডিও এবং ছবি দেখে এই আবেদন খারিজ করে দেয়। সারার আইনজীবী জানিয়েছেন, তাঁরা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।

হিডেন স্টোরিজ নিউজ

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *