০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home ভারতবর্ষ অপরাধ এক ঘরে ৩ জন, ভাড়া ৩০ হাজার! দিল্লির ধসে পড়া মেসবাড়ি ঘিরে প্রাক্তন বায়ুসেনা কর্তার কীর্তি ফাঁস
অপরাধদিল্লিদুর্ঘটনাভারতবর্ষভারতবর্ষ

এক ঘরে ৩ জন, ভাড়া ৩০ হাজার! দিল্লির ধসে পড়া মেসবাড়ি ঘিরে প্রাক্তন বায়ুসেনা কর্তার কীর্তি ফাঁস

Share
এক ঘরে ৩ জন, ভাড়া ৩০ হাজার! দিল্লির ধসে পড়া মেসবাড়ি ঘিরে প্রাক্তন বায়ুসেনা কর্তার কীর্তি ফাঁস
বাড়ির মালিক হরিরাম গুপ্ত। ছবি-সংগৃহীত
Share

নয়াদিল্লি: তাসের ঘরের মতো গুঁড়িয়ে যাওয়া পাঁচতলা বহুতলের নিচে চাপা পড়ে তরতাজা সাতটি প্রাণের ইতি ঘটেছে। কিন্তু সেই লাশের স্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা চাঞ্চল্যকর সত্যি প্রকাশ্যে আসতেই শিউরে উঠছে গোটা দেশ। দিল্লির মোতিবাগ সংলগ্ন সত্য নিকেতনের যে বাড়িটি ভেঙে পড়েছিল, সেটি আদতে পড়ুয়াদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় ছিল না—ছিল এক লোভী মালিকের নিখুঁত ‘টাকার মেশিন’! নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করে জরাজীর্ণ মৃত্যুকূপকে আয়ের উৎস বানিয়েছিলেন ভারতীয় বায়ুসেনার প্রাক্তন সার্জেন্ট হরিরাম গুপ্তা। ঘটনার পর গা ঢাকা দিয়েও শেষরক্ষা হয়নি; রাজস্থানের ভিওয়াদি থেকে অভিযুক্ত হরিরাম, তাঁর স্ত্রী উর্মিলা এবং ছেলে মহেশকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ। আদালত হরিরাম ও উর্মিলাকে ১৪ দিন এবং তাঁদের ছেলেকে ২ দিনের জেল হেফাজতে পাঠিয়েছে।

পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে হাড়হিম করা তথ্য। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরের কাছে হওয়ায় ৫০ বছরেরও বেশি পুরনো ও দুর্বল একটি বাড়ি নিজের স্ত্রী উর্মিলার নামে কিনেছিলেন হরিরাম। গুরুগ্রামের বাসিন্দা এই অবসরপ্রাপ্ত বায়ুসেনা কর্তা জরাজীর্ণ বাড়িটিকে বাইরে থেকে চকচকে রঙ করিয়ে রূপ দেন এক পেইং গেস্ট (পিজি) হস্টেলে। নিরাপত্তা বা ন্যূনতম স্বাচ্ছন্দ্যের বালাই ছিল না, কিন্তু ভাড়ার বহর ছিল আকাশছোঁয়া। এক একটি ছোট ঘরে গাদাগাদি করে রাখা হতো ৩ জন করে পড়ুয়াকে, আর প্রত্যেকের কাছ থেকে মাথাপিছু আদায় করা হতো ১০ হাজার টাকা—অর্থাৎ প্রতি ঘর থেকে মাসে ভাড়া উঠত প্রায় ৩০ হাজার টাকা! এভাবে পাঁচতলা বাড়িটিতে থাকা অন্তত ৫০ জন ছাত্রের থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৪ লক্ষেরও বেশি টাকা পকেটে পুরতেন হরিরাম ও তাঁর ছেলে। গুরুগ্রামে আরও চারটি বিপুল সম্পত্তির মালিক হওয়া সত্ত্বেও পড়ুয়াদের জীবন বাজি রেখে এমন বিপজ্জনক কারবার চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি।

তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, বাড়িটির নির্মাণেও ছিল একাধিক বেআইনি ফাঁকফোকর। পুরসভার নিয়ম অনুযায়ী আবাসিক ভবনের সর্বোচ্চ উচ্চতা ১৭.৫ মিটার হওয়ার কথা থাকলেও, এই বহুতলটি ছিল তার চেয়ে অনেক বেশি উঁচু। তার ওপর টানা ভারী বৃষ্টিতে বাড়ির নিচে থাকা বেসমেন্টে জল জমে গিয়ে ভিত আগেই মারাত্মক নড়বড়ে হয়ে পড়েছিল। সেই বিপজ্জনক পরিস্থিতির মধ্যেই রবিবার কোনো সতর্কতা না নিয়ে বেসমেন্টে অবাধে চলছিল নির্মাণ ও সংস্কারের কাজ। ফলস্বরূপ, দুপুর দেড়টা নাগাদ দুর্বল হয়ে পড়া ভিত হঠাৎই হুড়মুড়িয়ে বসে যায় এবং নিমেষের মধ্যে চোখের সামনে ধূলিসাৎ হয়ে যায় পাঁচতলা বাড়িটি। অবহেলা ও সীমাহীন লোভের বলি হয়ে অকালে প্রাণ হারান নিরীহ পড়ুয়ারা, যাঁর জন্য কাঠগড়ায় এখন গোটা গুপ্তা পরিবার।

হিডেন স্টোরিজ নিউজ

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *